গ্যাস সংকটের উত্তাপ, এলএনজিতে স্বস্তি খুঁজছে সরকার

নিজস্ব প্রতিবেদক:

জাতীয়

দেশজুড়ে গ্যাস সংকটের উত্তাপ ক্রমেই বাড়ছে। শিল্পকারখানা থেকে বিদ্যুৎকেন্দ্র- গ্যাসের ঘাটতিতে ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক কার্যক্রম। এমন পরিস্থিতিতে দ্রুত

2026-08-12T19:40:20+06:00
2026-08-12T20:03:20+06:00
বুধবার, ১২ আগস্ট, ২০২৬, ২৮ শ্রাবণ ১৪৩৩

গ্যাস সংকটের উত্তাপ, এলএনজিতে স্বস্তি খুঁজছে সরকার
নিজস্ব প্রতিবেদক:
প্রকাশ: বুধবার, ১২ আগস্ট, ২০২৬, ৭:৪০ পিএম  আপডেট: ১২.০৮.২০২৬ ৮:০৩ পিএম  (ভিজিট : ১৫)
সংগৃহীত ছবি

সংগৃহীত ছবি

দেশজুড়ে গ্যাস সংকটের উত্তাপ ক্রমেই বাড়ছে। শিল্পকারখানা থেকে বিদ্যুৎকেন্দ্র- গ্যাসের ঘাটতিতে ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক কার্যক্রম। এমন পরিস্থিতিতে দ্রুত সরবরাহ বাড়িয়ে সংকট সামাল দিতে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানিতে জোর দিয়েছে সরকার। জরুরি চাহিদা মেটাতে হংকং, চীন ও অস্ট্রেলিয়া থেকে কয়েক কার্গো এলএনজি কেনার নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ভবিষ্যৎ জ্বালানি চাহিদা নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্র থেকে দীর্ঘমেয়াদে ১১৭ কার্গো এলএনজি আমদানির উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। সংকটের এই সময়ে জাতীয় গ্যাস গ্রিডে সরবরাহ বাড়িয়ে বিদ্যুৎ ও শিল্প খাতে কিছুটা স্বস্তি ফেরানোই সরকারের এই তৎপরতার মূল লক্ষ্য।

বুধবার (১২ আগস্ট) অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এসব প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়। বৈঠকে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ থেকে এলএনজি ক্রয়ের প্রস্তাবগুলো উপস্থাপন করা হয়।

সরকারি সূত্র জানায়, জরুরি ভিত্তিতে এলএনজি আমদানির মাধ্যমে জাতীয় গ্যাস গ্রিডে সরবরাহ বাড়ানোর পাশাপাশি বিদ্যুৎ উৎপাদন ও শিল্প খাতে চলমান গ্যাস সংকট কমানোই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দামের ওঠানামা এবং যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে নিরাপদ জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে স্বল্পমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি, দুই ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, যুক্তরাজ্যের ব্ল্যাককিউব ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের কাছ থেকে দুই কার্গো এলএনজি কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। প্রতি এমএমবিটিইউর দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১৫ দশমিক ৫০ মার্কিন ডলার।

এ ছাড়া ওমানের ম্যাক্সওয়েল ইন্টারন্যাশনাল এসপিসির কাছ থেকে আরও দুই কার্গো এলএনজি কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এসব এলএনজির দাম জেকেএম সূচকের সঙ্গে প্রতি এমএমবিটিইউতে শূন্য দশমিক ৫৪ মার্কিন ডলার যোগ করে নির্ধারণ করা হবে।

২০২৬ সালে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে হংকংয়ের ঝেনইউ শিপিং কোম্পানি লিমিটেডের কাছ থেকেও দুই কার্গো এলএনজি কেনার প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে। প্রতি এমএমবিটিইউ ১৪ দশমিক ৯৫ মার্কিন ডলার দরে এসব এলএনজি কেনার সুপারিশ করা হয়েছে।

অন্যদিকে, সরকার থেকে সরকার (জিটুজি) ভিত্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের গানভর ইউএসএ এলএলসির কাছ থেকে ২০২৬ সাল থেকে ২০৩৮ সাল পর্যন্ত মোট ১১৭ কার্গো এলএনজি কেনার প্রস্তাবও অনুমোদন করেছে সরকার।

চুক্তির আওতায় ২০২৬ সালে পাঁচ কার্গো, ২০২৭ সালে ছয় কার্গো এবং ২০২৮ সালে তিন কার্গো এলএনজি কেনা হবে। এসব এলএনজির দাম জেকেএম সূচকের সঙ্গে প্রতি এমএমবিটিইউতে শূন্য দশমিক ০৮৭৫ মার্কিন ডলার যোগ করে নির্ধারণ করা হবে।

এ ছাড়া ২০২৮ সালে আরও তিন কার্গো এবং ২০২৯ থেকে ২০৩৮ সাল পর্যন্ত প্রতিবছর ১০ কার্গো করে এলএনজি কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এসব এলএনজির মূল্য নির্ধারণ করা হবে ১২১ শতাংশ এইচএইচ সূচকের সঙ্গে ৫ দশমিক ২০ মার্কিন ডলার যোগ করে।

জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের পক্ষ থেকে বৈঠকে জানানো হয়, আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতা, ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা ও যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে দেশের জ্বালানির নিরাপদ সরবরাহ নিশ্চিত করা জরুরি হয়ে পড়েছে। এ অবস্থায় দ্রুত এলএনজি আমদানি করে গ্যাসের সরবরাহ বাড়ানোর পাশাপাশি ভবিষ্যৎ চাহিদা মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়াদি সরবরাহ নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মনে করছেন, অনুমোদিত এসব এলএনজি কার্গো দেশে পৌঁছালে জাতীয় গ্যাস গ্রিডে সরবরাহ বাড়বে। এতে বিদ্যুৎকেন্দ্র ও শিল্পকারখানায় গ্যাসের চাপ কিছুটা কমার পাশাপাশি বিদ্যুৎ উৎপাদন স্বাভাবিক রাখতেও সহায়তা করবে।

ডেল্টা টাইমস/ আরএফ 








  এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ