কেউ নিজেকে বঞ্চিত মনে করবে না, এমন দেশ গড়তে চাই: সমাজকল্যাণমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক:

জাতীয়

অন্তর্ভুক্তিমূলক ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে মহিলা ও শিশু বিষয়ক এবং সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড

2026-08-12T16:59:53+06:00
2026-08-12T17:01:23+06:00
বুধবার, ১২ আগস্ট, ২০২৬, ২৮ শ্রাবণ ১৪৩৩

কেউ নিজেকে বঞ্চিত মনে করবে না, এমন দেশ গড়তে চাই: সমাজকল্যাণমন্ত্রী
নিজস্ব প্রতিবেদক:
প্রকাশ: বুধবার, ১২ আগস্ট, ২০২৬, ৪:৫৯ পিএম  আপডেট: ১২.০৮.২০২৬ ৫:০১ পিএম  (ভিজিট : ৩)
সংগৃহীত ছবি

সংগৃহীত ছবি

অন্তর্ভুক্তিমূলক ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে মহিলা ও শিশু বিষয়ক এবং সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেছেন, ‘ এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই, যেখানে কোনো নাগরিক নিজেকে বঞ্চিত মনে করবেন না। ’ 

বুধবার (১২ আগস্ট) রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রের সেলিব্রেটি হলে ‘টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে পাঁচ বছর মেয়াদি কৌশলগত কাঠামো: নীতি, অংশীদারত্ব ও অগ্রাধিকার’ শীর্ষক জাতীয় সম্মেলনের ‘অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন, পাঁচ বছর মেয়াদি কৌশলগত কাঠামো ও টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা’ বিষয়ক অধিবেশনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, ‘ সমাজের প্রতিটি মানুষের চাহিদাকে সরকার সমান গুরুত্ব দিচ্ছে। সরকারি সুবিধা দেওয়ার ক্ষেত্রে ধর্ম, বর্ণ, গোত্র, রাজনৈতিক পরিচয় কিংবা সমতল ও পাহাড়ি এলাকার পার্থক্য বিবেচনা করা হচ্ছে না। বাংলাদেশের নাগরিক হলেই এসব সুবিধা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। ’ 

জাহিদ হোসেন বলেন,‘ টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রাগুলো বিএনপির ৩১ দফা নির্বাচনী ইশতেহারে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। সরকার গঠনের পর থেকেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে এসব লক্ষ্য অর্জনে কাজ করা হচ্ছে। ’

তিনি বলেন,‘ নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের অর্থনৈতিক সুরক্ষায় ‘ফ্যামিলি কার্ড’, শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয় থেকে ঝরে পড়া রোধে ‘মিড ডে মিল’, পরিবেশ সুরক্ষায় দেশব্যাপী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি এবং কৃষকের জন্য সার-বীজ ও ঋণের সহজলভ্যতা নিশ্চিত করতে ‘কৃষি কার্ড’ চালু করা হয়েছে।’

মানবসম্পদ উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করে মন্ত্রী বলেন,‘ সমাজের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী ও নারীদের স্বাবলম্বী করতে কারিগরি প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। প্রয়োজন অনুযায়ী তাদের প্রাথমিক মূলধন ও সহায়ক সরঞ্জাম দিয়েও সহযোগিতা করা হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা এমন একটি সমাজব্যবস্থা গড়ে তুলতে চাই, যেখানে উন্নয়নের সুফল নির্দিষ্ট কোনো শ্রেণির মানুষের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। সমাজের পিছিয়ে থাকা মানুষসহ প্রত্যেক নাগরিক যেন উন্নয়নের অংশীদার হতে পারেন, সেটিই আমাদের লক্ষ্য।’

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা, প্রবাসী কল্যাণ ও শ্রমবিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সেলিমা রহমান, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য মাধবী মার্মা এবং সমাজকল্যাণ সচিব ড. মোহাম্মদ আবু ইউছুফ সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

আলোচনায় বক্তারা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ক্ষতি না করে বর্তমান প্রজন্মের চাহিদা পূরণে টেকসই উন্নয়ন নীতি গ্রহণের আহ্বান জানান। জলবায়ু পরিবর্তন, পরিবেশ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নারী ও শিশু এবং সামাজিক অন্তর্ভুক্তিসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়। পরে অংশগ্রহণকারীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন মন্ত্রী ও আমন্ত্রিত অতিথিরা।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের সম্মানীয় ফেলো ও অর্থনীতিবিদ দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। এ ছাড়া বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগী, বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

ডেল্টা টাইমস/ আরএফ 








  এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ