শিক্ষাব্যবস্থা ও ইতিহাসের নির্মাণে নাগরিক চেতনা, জ্ঞান এবং রাষ্ট্রীয় দৃষ্টিভঙ্গি

মুহাম্মদ আজগর হোসেন জিহাদ

মতামত

রাষ্ট্রের শিক্ষাব্যবস্থা কেবল শুধু জ্ঞান বিতরণের মাধ্যম নয়। শিক্ষাব্যবস্থা হচ্ছে নাগরিকের চিন্তাধারা, মূল্যবোধ এবং রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি গঠনের একটি

2026-06-30T18:15:06+06:00
2026-06-30T18:15:06+06:00
মঙ্গলবার, ৩০ জুন, ২০২৬, ১৭ আষাঢ় ১৪৩৩

শিক্ষাব্যবস্থা ও ইতিহাসের নির্মাণে নাগরিক চেতনা, জ্ঞান এবং রাষ্ট্রীয় দৃষ্টিভঙ্গি
মুহাম্মদ আজগর হোসেন জিহাদ
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৩০ জুন, ২০২৬, ৬:১৫ পিএম   (ভিজিট : ২৬)

রাষ্ট্রের শিক্ষাব্যবস্থা কেবল শুধু জ্ঞান বিতরণের মাধ্যম নয়। শিক্ষাব্যবস্থা হচ্ছে নাগরিকের চিন্তাধারা, মূল্যবোধ এবং রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি গঠনের একটি শক্তিশালী কাঠামো, কারন শিক্ষা মানুষকে কেবল তথ্য দেয় না, বরং সে কীভাবে বিশ্বকে দেখবে, কীভাবে অতীতকে ব্যাখ্যা করবে এবং ভবিষ্যৎকে কল্পনা করবে সেইটা নির্ধারণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

এই কারণে শিক্ষাব্যবস্থা কোনো নিরপেক্ষ প্রযুক্তিগত প্রক্রিয়া নয়; শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গভীরভাবে রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক একটি প্রতিষ্ঠান। রাষ্ট্র যে ধরনের শিক্ষা কাঠামো তৈরি করে, তার মাধ্যমে ভবিষ্যৎ নাগরিকের মানসিক কাঠামোও আংশিকভাবে নির্মিত হয়।

ইতিহাস শিক্ষার ক্ষেত্রে এই বিষয়টি আরও স্পষ্টভাবে দেখা যায়। ইতিহাস কেবল অতীতের ঘটনা নয়; এটি একটি সমাজ কীভাবে নিজের পরিচয় নির্মাণ করে তার প্রক্রিয়া। যদি ইতিহাস একপাক্ষিকভাবে উপস্থাপন করা হয়, তবে নতুন প্রজন্মও সেই একপাক্ষিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়েই বড় হয়।

এর ফলে সমাজের ভেতরে ভিন্নমতের প্রতি সহনশীলতা কমে যেতে পারে এবং অতীতকে বোঝার পরিবর্তে কেবল এক ধরনের বর্ণনাকে সত্য হিসেবে গ্রহণ করার প্রবণতা তৈরি হতে পারে। এই প্রবণতা দীর্ঘমেয়াদে সামাজিক বিভাজনকে আরও শক্তিশালী করে।

একটি ভারসাম্যপূর্ণ শিক্ষাব্যবস্থা ইতিহাসকে গৌরব বা অভিযোগের সরল তালিকা হিসেবে উপস্থাপন করে না। বরং এটি ইতিহাসকে একটি বিশ্লেষণমূলক প্রক্রিয়া হিসেবে উপস্থাপন করে, যেখানে বিভিন্ন ঘটনা, মতামত এবং প্রেক্ষাপটকে সমালোচনামূলকভাবে মূল্যায়ন করা হয়।

ইতিহাস শিক্ষা তখনই অর্থবহ হয়, যখন তা শিক্ষার্থীদের প্রশ্ন করতে শেখায় কেন কোনো ঘটনা ঘটেছিল, কীভাবে ঘটেছিল, এবং তার ফলাফল কী ছিল। কেবল তথ্য মুখস্থ করা নয়, বরং চিন্তা করার সক্ষমতা তৈরি করাই ইতিহাস শিক্ষার প্রকৃত উদ্দেশ্য।

যে সমাজ তার শিক্ষাব্যবস্থায় সমালোচনামূলক চিন্তা, ভারসাম্যপূর্ণ বিশ্লেষণ এবং বহুমাত্রিক দৃষ্টিভঙ্গিকে স্থান দেয়, সেই সমাজ ভবিষ্যতে তুলনামূলকভাবে বেশি স্থিতিশীল ও পরিপক্ব নাগরিক তৈরি করতে সক্ষম হয়।

অন্যদিকে যদি শিক্ষাব্যবস্থা কেবল একক বর্ণনা, একক সত্য এবং একপাক্ষিক ইতিহাসচর্চার ওপর দাঁড়িয়ে থাকে, তবে তা নাগরিকদের মধ্যে প্রশ্নহীন গ্রহণযোগ্যতা তৈরি করে, যা গণতান্ত্রিক চিন্তার বিকাশকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে।

আধুনিক রাষ্ট্রের জন্য তাই শিক্ষাব্যবস্থা শুধু একটি প্রশাসনিক খাত নয়; এটি ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রের চরিত্র নির্মাণের একটি মৌলিক ভিত্তি।

ইতিহাস শিক্ষা হওয়া উচিত বিশ্লেষণমূলক, বহুস্তরীয় এবং সমালোচনামূলক কারণ ; একটি পরিপক্ব রাষ্ট্র তৈরি হয় পরিপক্ব চিন্তাশীল নাগরিকের মাধ্যমে।

লেখক: রাস্ট্রচিন্তক ও কেন্দ্রীয় কায'নিবাহী সদস্য আমজনতার দল।


ডেল্টা টাইমস্/মুহাম্মদ আজগর হোসেন জিহাদ/আইইউ








  এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ