চিকিৎসা প্রযুক্তির প্রসারে বিগ ডাটা ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সমন্বয় ব্যবহার

মোঃ জাহিদুল ইসলাম

মতামত

চিকিৎসা প্রযুক্তির প্রসারে বিগ ডাটা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা স্বাস্থ্যসেবাকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছে। এই প্রযুক্তিগুলো বিপুল পরিমাণ

2026-06-25T19:21:23+06:00
2026-06-25T19:21:23+06:00
মঙ্গলবার, ৩০ জুন, ২০২৬, ১৭ আষাঢ় ১৪৩৩

চিকিৎসা প্রযুক্তির প্রসারে বিগ ডাটা ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সমন্বয় ব্যবহার
মোঃ জাহিদুল ইসলাম
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬, ৭:২১ পিএম   (ভিজিট : ৯১)

চিকিৎসা প্রযুক্তির প্রসারে বিগ ডাটা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা স্বাস্থ্যসেবাকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছে। এই প্রযুক্তিগুলো বিপুল পরিমাণ স্বাস্থ্য-সংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে দ্রুত রোগ নির্ণয়, নির্ভুল চিকিৎসা প্রদান এবং ওষুধ তৈরিতে যুগান্তকারী পরিবর্তন আনছে। চিকিৎসা প্রযুক্তির প্রসারে বিগ ডাটা মূলত ইলেকট্রনিক হেলথ রেকর্ডস, মেডিকেল ইমেজিং এবং পরিধানযোগ্য ডিভাইস থেকে সংগৃহীত বিশাল পরিমাণ স্বাস্থ্যতথ্যের ভান্ডার হিসেবে কাজ করে। পক্ষান্তরে এআই এবং মেশিন লার্নিংয়ের মাধ্যমে এই ডাটা বিশ্লেষণ করে দ্রুত ও নির্ভুল রোগ নির্ণয়, ব্যক্তিগত চিকিৎসা এবং নতুন ওষুধ আবিষ্কার করা সম্ভব হচ্ছে। 

প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নয়ন আমাদের জীবনকে করে তুলেছে সহজ এবং স্বাচ্ছন্দ্যময়। তথ্য-আদান প্রদানের পরিধি দিনের পর দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রতিদিন আমরা সারাক্ষণ একে অন্যের কাছে বিভিন্ন তথ্য দিচ্ছি বা অন্যের কাছ থেকে তথ্য নিচ্ছি। একটা সময় ছিলো যখন আমরা আমাদের সবকিছুই কাগজে অথবা নোটবুকে লিখে রাখতাম। আমাদের খাবারের সময়, মিটিংয়ের সময়, কখন শপিং যাবো, কখন কার সাথে দেখা করব ইত্যাদি এসব টু ডু অর্থাৎ কাজের লিস্টগুলো কাগজে কিংবা ডায়েরীতে লিখে রাখতাম। এরপর যেদিন থেকেই ইন্টারনেট নামক ধারনাটি আমাদের মধ্যে বিকশিত হলো তখন থেকেই আমাদের ধারণাগুলো পাল্টাতে শুরু করল। এরপর থেকেই আমাদের এই তথ্য আদান-প্রদানের মাত্রা অবিশ্বাস্য হারে প্রতিনিয়তই বৃদ্ধি পাচ্ছে। 

টেকনোলজি ওয়ার্ল্ড গত শতক থেকে রাতারাতি পরিবর্তিত হয়ে হয়ে গিয়েছে এবং ভবিষ্যত পরিবর্তনের দিকে দিকে চলমান রয়েছে। বর্তমানে ইন্টারনেট এবং বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়ার বদৌলতে প্রতিদিন ডাটার পরিমাণ কয়েকগুণ করে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এরই ফলশ্রুতিতে বিভিন্ন ওয়েবে, সেন্সরের মাধ্যমে, পরিবেশগত এবং আমাদের দ্বারা সৃষ্ট ইত্যাদি বিভিন্ন ভাবে ডাটার পরিমাণ প্রতিনিয়তই বৃদ্ধি পাচ্ছে। এসব ডাটার সমষ্টিকে বলা হয় বিগ ডাটা। বিগ ডাটা সম্পর্কিত এসব বিষয় নিয়ে কাজ করে থাকেন ডাটা সায়েন্টিষ্টরা। এছাড়াও নানান রিসার্চার রয়েছেন যারা এসব ডাটাকে অ্যানালাইসিস করে থাকেন। বর্তমানে টেকনোলজির সাথে বিগ ডাটাকে নতুন করে পরিচয় করিয়ে দেবার মতো তেমন কিছুই নেই। ফেসবুক, গুগল ও আমাজনের মতো জায়ান্ট টেক প্রতিষ্ঠানগুলো ইতিমধ্যে বিগ ডাটাকে কাজে লাগিয়ে নতুন নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছেন এবং করে চলেছেন। তাদের সার্ভারে প্রতিদিন বিলিয়ন বিলিয়ন ডেটা জমা হচ্ছে এবং এতসব তথ্যের মধ্যেও কাঙ্ক্ষিত তথ্য খুঁজে পেতে মাত্র কয়েক সেকেন্ড সময় লাগে। এসব কেবল মাত্র বিগ ডাটার কারণেই অতি সহজে সম্ভব হচ্ছে। বিগ ডাটা আমাদের জীবনকে রাতারাতি পরিবর্তন করে দিতে পারে এবং দিচ্ছে। এই বিগ ডাটা হলো আমাদের এবং আগামীর বিশ্বের জন্য সবচেয়ে মূল্যবান তথ্য সম্পদ। বর্তমান যুগে চিকিৎসা বিজ্ঞানে অভূতপূর্ব উন্নয়ন সাধন হচ্ছে। বিশ্বে প্রতিনিয়তই ঘটছে নিত্য নতুন উদ্ভাবন এবং এর ব্যবহার। আর এগুলোর জন্য প্রয়োজন হচ্ছে বিপুল সংখ্যক তথ্য ধরে রাখার উপযুক্ত পরিকাঠামো। তাই এক্ষেত্রে আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ আশীর্বাদ হয়ে এসেছে বিগ ডাটা। আধুনিক যুগে বিগ ডাটার মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবার সমস্ত তথ্য স্বাস্থ্য কর্মীরা অল্প সময়ের মধ্যে সহজেই সংরক্ষণ করতে পারছেন। একসঙ্গে বিপুল পরিমাণ তথ্য সংরক্ষণে ব্যবহৃত হচ্ছে ক্লাউড স্টোরেজ পদ্ধতি। তথ্য সংরক্ষণের মাধ্যমে স্বাস্থ্য খাত সংশ্লিষ্টরা সহজেই চিকিৎসা সেবায় নতুন নতুন প্রযুক্তির বিকাশ সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করতে পারছেন। এর পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী রোগীদের ওপর সেই জ্ঞানের প্রয়োগ ঘটাতে পারছেন। 
 
বিভিন্ন রোগ, উপসর্গ ও রোগসৃষ্টিকারী উপাদান সম্পর্কে বিশ্লেষকরা গবেষণা করতে পারছেন এবং সম্ভাব্য বিভিন্ন মহামারি সম্পর্কে পূর্বাভাস দিতে পারছেন। পাশাপাশি এসব মহামারির প্রাদুর্ভাব ঠেকানোর উপায় সম্পর্কেও জানাতে পারছেন। সম্প্রতি আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) ও মেশিন লার্নিং বিশ্বের প্রচলিত প্রায় সব খাতেই বৈপ্লবিক পরিবর্তন সাধন করছে। এর মধ্যে স্বাস্থ্যসেবা খাতও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা রোগের কাঠামো সম্পর্কে আরও বিস্তারিত তথ্য দেয়ার মাধ্যমে এর ভবিষ্যত বিস্তার সম্পর্কে আগাম তথ্য দিতে পারছে। এর মাধ্যমে রোগের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ আরও সহজ হচ্ছে। স্বাস্থ্যসেবায় যুগান্তকারী পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে এই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই)। ওষুধ ও ভ্যাকসিন তৈরির গবেষণা থেকে শুরু করে উৎপাদন, রোগ নির্ণয়ের পদ্ধতি ও নিরাময় থেকে শুরু করে স্বাস্থ্যসেবা খাতের প্রত্যেকটি ধাপেই শুরু হয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার। ফলশ্রুতিতে এর মাধ্যমে বৃদ্ধি পাচ্ছে স্বাস্থ্যসেবা খাতের সার্বিক কর্মদক্ষতা। সভ্যতা পরিবর্তনের শক্তিশালী উপাদান হলো তথ্য। সভ্যতার শুরু থেকেই মানুষ তার অভিজ্ঞতালব্ধ জ্ঞান ছড়িয়ে দিতে উদগ্রীব ছিল। আজকের এই ডট কমের যুগে আক্ষরিক অর্থেই সারা বিশ্ব একটি ‘গ্লোবাল ভিলেজ’ এ পরিণত হয়েছে। আইসিটি বা তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি তাই দিন বদলের হাতিয়ার হিসেবে বিশ্বব্যাপী আদৃত হয়েছে। চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের প্রযুক্তিগত আলোড়ন সর্বত্র বিরাজমান। আধুনিক তথ্য প্রযুক্তির যুগে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উন্নত অ্যালগরিদম ব্যবহার করে মেডিকেল ইমেজিং ডাটাকে আরও ভালোভাবে বিশ্লেষণ করতে সক্ষম। এর মাধ্যমে ক্যানসারের মতো প্রাণঘাতী রোগকে প্রাথমিক পর্যায়েই শনাক্ত করা সম্ভব। যা প্রচলিত পদ্ধতির থেকে অনেক কম সময়ে এবং অল্প খরচে সম্ভব। এভাবে ক্যানসারসহ অন্যান্য জটিল রোগের লক্ষণ সম্পর্কে আগাম সতর্কবাণী পাওয়ার মাধ্যমে উপকৃত হচ্ছেন লাখ লাখ রোগী। এতে চিকিৎসকরা রোগীর চিকিৎসায় হাতে পাচ্ছেন মূল্যবান সময়। ফলে বাড়ছে রোগীদের প্রাণ বাঁচার হার। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রয়োগে সরাসরি উপকৃত হচ্ছে ওষুধ ও প্রতিষেধকের গবেষণা ও উৎপাদন খাত। বিশেষ করে ফার্মাসিউটিক্যাল খাতে গবেষণায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রয়োগ যুগান্তকারী পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে। বিগ ডাটা ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানিগুলো আগের থেকে কম সময়ে, কম খরচে ও কম শ্রম ব্যয় করে নতুন ওষুধ ও প্রতিষেধকের উদ্ভাবন ঘটাতে সক্ষম হচ্ছে। এর মাধ্যমে বিপুল অর্থ সাশ্রয়ের মাধ্যমে সম্ভব হচ্ছে ওষুধের দামকেও কমিয়ে রাখা। 

সভ্যতা পরিবর্তনের শক্তিশালী উপাদান হলো তথ্য। সভ্যতার শুরু থেকেই মানুষ তার অভিজ্ঞতালব্ধ জ্ঞান ছড়িয়ে দিতে উদগ্রীব ছিল। আজকের এই ডট কমের যুগে আক্ষরিক অর্থেই সারা বিশ্ব একটি ‘গ্লোবাল ভিলেজ’ এ পরিণত হয়েছে। আইসিটি বা তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি তাই দিন বদলের হাতিয়ার হিসেবে বিশ্বব্যাপী আদৃত হয়েছে। চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের প্রযুক্তিগত আলোড়ন সর্বত্র বিরাজমান। বর্তমান যুগে প্রযুক্তি বিপ্লব চিন্তার জগতে, পণ্য উৎপাদনে ও সেবা প্রদানে বিশাল পরিবর্তন ঘটাচ্ছে। মানুষের জীবনধারা ও পৃথিবীর গতি-প্রকৃতি ব্যাপকভাবে বদলে দিচ্ছে। জৈবিক, পার্থিব ও ডিজিটাল জগতের মধ্যেকার পার্থক্যের দেয়ালে চির ধরিয়েছে। আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স, রোবটিক্স, ইন্টারনেট অব থিংস, ভার্চুয়াল রিয়েলিটি, থ্রিডি প্রিন্টিং, জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং, কোয়ান্টাম কম্পিউটিং ও অন্যান্য প্রযুক্তি মিলেই এ বিপ্লব। বর্তমান টেকনোলজি বা প্রযুক্তি ব্যবসা, শিক্ষা স্তর বা বৈজ্ঞানিক আবিষ্কারের মান উন্নত করার পাশাপাশি স্বাস্থ্য ক্ষেত্রেও এর অবদান অপরিহার্য। উন্নত প্রযুক্তি স্বাস্থ্যসেবায় বিশ্বব্যাপী অগণিত মানুষের জীবন বাঁচিয়ে তুলেছে এবং জীবনের গুনগত মান উন্নত করে তুলেছে। স্বাস্থ্য সেবায় প্রযুক্তি শুধুমাত্র রোগী বা তাদের পরিবারের অভিজ্ঞতা পরিবর্তন করেনি। উপরন্তু তার পাশাপাশি চিকিৎসার পক্রিয়া এবং স্বাস্থ্যসেবা পেশাদারদের চর্চার উপর ব্যাপক প্রভাব ফেলেছে।

লেখক: নেটওয়ার্ক টেকনিশিয়ান (আইসিটি সেল) 
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা। 

ডেল্টা টাইমস্/মোঃ জাহিদুল ইসলাম/আইইউ








  এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ