প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট, ২০২৬, ৮:১৬ পিএম (ভিজিট : ৩)

ছবি: ডেল্টা টাইমস
সিরাজগঞ্জে সরকারি বিদ্যুতের খুঁটি (পোল) ব্যবহার করে অনুমোদন ও মিটার ছাড়াই ইন্টারনেটের রাউটার ও হটস্পট ডিভাইস স্থাপনের অভিযোগ উঠেছে ‘সরকার নেট’ নামের একটি ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। স্থানীয়দের অভিযোগ, পল্লী বিদ্যুতের খুঁটিতে সরাসরি মেইন লাইন থেকে সংযোগ নিয়ে এসব ডিভাইস পরিচালনা করা হচ্ছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার সায়দাবাদ ইউনিয়ন, কামারখন্দ ও বেলকুচি উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম, হাট-বাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় পল্লী বিদ্যুতের খুঁটিতে শত শত ওয়াই-ফাই রাউটার ও হটস্পট ডিভাইস স্থাপন করা হয়েছে। স্থানীয় সূত্রের দাবি, তিন উপজেলায় প্রতিষ্ঠানটির প্রায় ১ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার রাউটার ও হটস্পট সংযোগ রয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, ‘সরকার নেট’-এর মালিক ও স্বত্বাধিকারী নূরনবী শেখ পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের বৈধ অনুমোদন বা চুক্তি ছাড়াই এসব ডিভাইসে বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়েছেন। অনেক ক্ষেত্রে বিদ্যুতের মেইন লাইন থেকে ‘হুকিং’ করে সংযোগ নেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ স্থানীয়দের।
স্থানীয় সূত্রের হিসাবে, একটি বাণিজ্যিক ওয়াই-ফাই রাউটার ২৪ ঘণ্টা চালু থাকলে দিনে গড়ে প্রায় এক টাকার বিদ্যুৎ ব্যবহার হতে পারে। সে হিসাবে ১ হাজার ৫০০টি রাউটারে প্রতিদিন প্রায় ১ হাজার ৫০০ টাকার বিদ্যুৎ ব্যবহারের হিসাব দাঁড়ায়। মাসে এর পরিমাণ প্রায় ৪৫ হাজার টাকা এবং বছরে প্রায় ৫ লাখ ৪০ হাজার টাকা। তবে এ হিসাব আনুমানিক। প্রকৃত বিদ্যুৎ ব্যবহার ডিভাইসের ধরন, ক্ষমতা ও ব্যবহারের সময়ের ওপর নির্ভর করে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এভাবে দীর্ঘদিন বিদ্যুৎ ব্যবহার করা হলে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি ও সরকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হতে পারে। একই সঙ্গে গ্রাহকদের কাছ থেকে ইন্টারনেট সংযোগ ও মাসিক বিল বাবদ অর্থ নেওয়া হলেও সংশ্লিষ্ট ডিভাইসগুলোর বিদ্যুৎ ব্যবহারের বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
শুধু বিদ্যুৎ ব্যবহারের অভিযোগই নয়, অনুমোদন ছাড়া বিদ্যুতের খুঁটিতে ইন্টারনেটের তার, রাউটার ও অন্যান্য ডিভাইস ঝুলিয়ে রাখায় দুর্ঘটনা ও অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি রয়েছে বলেও জানিয়েছেন স্থানীয়রা। কোথাও কোথাও বিদ্যুতের মূল তারের কাছাকাছি ইন্টারনেটের তার ও ডিভাইস স্থাপন করা হয়েছে। এতে পথচারী ও বিদ্যুৎ বিভাগের মাঠপর্যায়ের কর্মীদের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সিরাজগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২-এর জেনারেল ম্যানেজার হারুন-অর-রশীদ বলেন, ‘এ বিষয়টি সম্পর্কে আমার জানা নেই। না জেনে কিছু বলতে পারব না।’
কামারখন্দ সাব-জোনাল অফিসের এজিএম (ওএন্ডএম) বলেন, বিদ্যুতের খুঁটিতে স্থাপিত এসব রাউটার বা ডিভাইসের জন্য সমিতির পক্ষ থেকে কোনো অনুমোদন দেওয়া হয়নি। এসব ডিভাইসের বিপরীতে কোনো বিদ্যুৎ বিলও নেওয়া হয় না বলে জানান তিনি।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ‘সরকার নেট’-এর স্বত্বাধিকারী নূরনবী শেখ। তিনি দাবি করেন, রাউটারগুলোর বিদ্যুৎ বিল নিয়মিত পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষকে পরিশোধ করা হয়।
পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ অবশ্য তার এ দাবির সঙ্গে একমত নয়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বক্তব্য অনুযায়ী, খুঁটিতে স্থাপিত এসব রাউটার বা ডিভাইসের জন্য কোনো অনুমোদন দেওয়া হয়নি এবং এগুলোর বিপরীতে বিদ্যুৎ বিলও নেওয়া হয় না।
বাংলাদেশ বিদ্যুৎ আইন, ২০১৮-এর ১৫৪ ধারায় বিদ্যুৎ চুরি শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এ ধরনের অপরাধের জন্য আইন অনুযায়ী কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে। তবে ‘সরকার নেট’-এর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের ক্ষেত্রে আইনটির সংশ্লিষ্ট ধারা প্রযোজ্য কি না, তা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত প্রয়োজন।
এদিকে, তীব্র গরম ও বিদ্যুৎ সরবরাহের সংকটের মধ্যে বিভিন্ন এলাকায় লোডশেডিংয়ে জনজীবন যখন অতিষ্ঠ, তখন অনুমোদন ছাড়া বিদ্যুৎ ব্যবহার ও মেইন লাইন থেকে সংযোগ নেওয়ার অভিযোগে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা।
তাদের দাবি, সরকারি বিদ্যুতের খুঁটিতে স্থাপিত অনুমোদনহীন রাউটার ও অন্যান্য ডিভাইসের বিষয়ে দ্রুত তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করতে হবে। একই সঙ্গে অবৈধ সংযোগের প্রমাণ পাওয়া গেলে তা বিচ্ছিন্ন করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন তারা।
ডেল্টা টাইমস/ মো. জাকির হোসাইন/ আরএফ