যে ভারতের বর্তমান বিজেপি সরকার, বাংলাদেশের জেন জি’দের আন্দোলনে পলাতক শেখ হাসিনাকে আশ্রয় দিয়েছে, তারাই এখন বাংলাদেশের ‘জেন জি’ আন্দোলন নিয়ে ভারতের ‘জেন জি’ ‘অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন’-এর সভাপতি নেহা বোরা’র প্রশংসা শুনে আস্ফালন করছে। নরেন্দ্র মোদী সরকারকে অস্থিতিশীল করার জন্য 'বাংলাদেশি কায়দায়' প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে, এমন অভিযোগ তুলছে ভারতের বিজেপি সরকার। ভারত ও বাংলাদেশ পাশাপাশি সীমান্ত, যাদের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও রাজনৈতিক ধারা একই। ধর্ম নিয়ে রাজনীতি, ভোট চুরি, গণতন্ত্রকে হত্যা, একনায়কতন্ত্র ফ্যাসিজম, নারী নির্যাতন। যেন এই দুইটি দেশের ইতিহাস, সংস্কৃতি এবং রাজনৈতিক গতিপ্রকৃতির এক নিবিড় বন্ধনে আবদ্ধ। যদিও ঔপনিবেশিক শাসন, দেশভাগ এবং আঞ্চলিক নানা ঘটনাপ্রবাহ এই দেশগুলোর পারস্পরিক সম্পর্কের ওপর গভীর প্রভাব ফেলেছে। এই দুইটি দেশের ১৯৪২-২০০০ সালের ’নীরব প্রজন্ম’, ’বেবি বুমার্স’, ’জেনারেশন এক্স’, ‘জেনারেশন ওয়াই’ শুধুমাত্র বিভেদ, হিংসা আর ঘৃণার রাজনীতি করে গেছে। কিন্তু এখন সময় বদলেছে। এই তিনটি দেশের ’জেন জি’ প্রজন্ম তাই একে অপরের থেকে অনুপ্রেরণা নিচ্ছে। একে অপরকে অভিনন্দন জানাচ্ছে। একনায়কতন্ত্র ফ্যাসিজম শাসন ব্যবস্থার বিরুদ্ধে তাদের আন্দোলন এক, স্লোগান এক, “’আজাদি আজাদি’, ’ইনকিলাব জিন্দাবাদ’, ’দেশটা তোমার বাপের নাকি’”। ভারত, পাকিস্তানের জেন জি আজ বাংলাদেশ জেন জি প্রজন্মের আন্দোলন, স্লোগানকে তাদের অনুপ্রেরণা বলছে। কারণ তাদের আন্দোলনের একটি উদ্দেশ্য ফ্যাসিস্ট শাসনের পতন, গণতন্ত্র ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং একটি সাম্য ও ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র কাঠামো গড়ে তোলা।
বাংলাদেশ জেন জি সরকার পতন ঘটিয়েছে, বিশ্ব গণমাধ্যমের মনোযোগ আকর্ষণ করেছে এবং গ্লোবাল সাউথ বা উন্নয়নশীল বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রাজনৈতিক অঙ্গনের সামনের সারিতে উঠে এসেছে। বাংলাদেশের ‘জেন জি’ আন্দোলন নিয়ে ভারতের ‘অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন’ এর সভাপতি নেহা বোরার প্রশংসা ভারতে তরুণদের প্রতিবাদ, রাজনৈতিক প্রভাব এবং গণতান্ত্রিক ভিন্নমত আজ নতুন বার্তা দিচ্ছে। নেহা বোরা বলেন "আমরা জানি যে, ভারতে এখন যে 'জেন জি' আন্দোলন দেখা যাচ্ছে, তার সূচনা হয়েছিল বাংলাদেশে। আমাদের পথ দেখানোর জন্য আপনাদের অভিনন্দন,"। তিনি আরও যোগ করেন, "আমরা আপনাদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করছি। আমরা আপনাদের কাছ থেকে অনুপ্রেরণা নিই, আপনারা যে আন্দোলনের নেতৃত্ব দিচ্ছেন, তা থেকে শিক্ষা গ্রহণ করি।" বাংলাদেশের ‘জেন জি’ আন্দোলনের বৃহত্তর রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট থেকে শুরু করে সাংবিধানিক মূল্যবোধের গুরুত্ব আজ তাই, ভারতের নেহা ও তরুণদের প্রতিবাদী আন্দোলন অনুপ্রেরণার উৎস। আবার ‘এই লড়াই কেবল আপনাদের একার নয়: দিল্লির আন্দোলনকারীদের পাশে দাঁড়ালেন বাংলাদেশের ছাত্র আন্দোলনের নেতারা। তারা ভারতের চলমান আন্দোলনের সঙ্গে বাংলাদেশের ২০২৪ সালের জুলাই মাসের গণঅভ্যুত্থানের সাদৃশ্য তুলে ধরেন; যে অভ্যুত্থানটি শুরু হয়েছিল চাকরির কোটা ব্যবস্থার বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মধ্য দিয়ে। বাংলাদেশের ছাত্রনেতারা, যারা ভারতবিরোধী বক্তব্যের জন্য পরিচিত, ভারতে আন্দোলনরত তরুণদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছেন। গত সপ্তাহে, ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রতিবাদে নতুন দিল্লিতে তরুণ ও শিক্ষার্থী গোষ্ঠী এবং বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’ এর বিক্ষোভ বিশ্বজুড়ে আলোচনার জন্ম দেয়। তাদের দাবি, ভোটার তালিকা থেকে লক্ষ লক্ষ যোগ্য ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে, যা ক্ষমতাসীন বিজেপিকে সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার পাশাপাশি যোগ্য নাগরিকদের ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করবে।
এদিকে বিজেপি সরকার বলছে, কংগ্রেস এবং তাদের রাজনৈতিক মিত্ররা, সরাসরি অথবা তাদের সহযোগী সংগঠনগুলোর মাধ্যমে তরুণদের শক্তিকে গঠনমূলক কাজ ও জাতি গঠনে ব্যবহারের পরিবর্তে রাজনৈতিক সংঘাত উসকে দিতে এবং নৈরাজ্য ছড়াতে ব্যবহার করার চেষ্টা করছে। যা ২০২৪ সালের আওয়ামী লীগ সরকারের ভাষা। আওয়ামী লীগের মতন ভারত সরকার মনে করছে ‘দেশের তরুণদের নৈরাজ্যের রাজনীতির দাবার ঘুঁটি বানানো হচ্ছে।’ভারতের সরকারের অভিযোগ, কংগ্রেস এবং তাদের মিত্ররা বাংলাদেশের আদলে ভারতে সরকার পরিবর্তন করতে চায়। এই ভাষায় ২০২৪ সালের আওয়ামী লীগ সরকারের বক্তব্য ছিল, বিএনপি-জামাত তরুণদের নৈরাজ্যের রাজনীতির দাবার ঘুঁটি বানিয়ে সরকার পরিবর্তন করতে চায়। ২০২৪ সালে বাংলাদেশে যে গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে শেখ হাসিনা সরকারের পতন ঘটেছিল, ভারতের তরুণ প্রজন্ম সেই প্রসঙ্গ টেনে সংবাদ সম্মেলনে প্রকাশ্যে বলছে যে, সরকার পরিবর্তনের ক্ষেত্রে তারা বাংলাদেশ থেকে অনুপ্রেরণা পেয়েছে।
ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলছে, ‘সরকার পরিবর্তন’এর মতো শব্দ ব্যবহারের মাধ্যমে এটিই বোঝা যায় যে, বিরোধী দলের প্রচারণার লক্ষ্য নির্বাচনী সংস্কার বা ভোটার তালিকা সংশোধনের মতো বিষয়গুলো নয়। রাহুল গান্ধী ও তাঁর মিত্রদের এটি বোঝা উচিত যে, গণতন্ত্রে নৈরাজ্য সৃষ্টি, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে দুর্বল করা কিংবা ভারতের উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করার কোনো সুযোগ নেই। আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য আইন মেনে চলা অপরিহার্য। রাজনৈতিক স্বার্থসিদ্ধির জন্য ভারতের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে বলি দেওয়া যেতে পারে না, যা ২০২৪ সালের আওয়ামী লীগ সরকারের ভাষা। ভারতে বাংলাদেশের মতো শাসন পরিবর্তনের প্রচেষ্টার বিষয়ে বিজেপি ভারতের মানুষকে সতর্ক করছে।
ভারতের আইনজীবী ও সমাজকর্মী প্রশান্ত ভূষণের শাসন পরিবর্তন সংক্রান্ত মন্তব্য এবং এআইএসএ নেত্রী নেহা বোরার বক্তব্য , বাংলাদেশ আমাদের "পথ দেখিয়েছে", এই বিষয়গুলো বিজেপিকে এমন এক অস্ত্র দিয়েছে, যার মাধ্যমে তারা কংগ্রেস ও তাদের মিত্রদের বিরুদ্ধে ভারতেও বাংলাদেশের ধাঁচে শাসন পরিবর্তনের চেষ্টা চালানোর অভিযোগ তুলছে। ভারতে যখন নির্বাচনী অনিয়মের প্রতিবাদে হাজার হাজার মানুষ দিল্লির রাস্তায় নেমে এসেছেন, ঠিক সেই সময়েই রাজনৈতিক আলোচনায় ‘ক্ষমতা পরিবর্তনের’প্রসঙ্গটি উঠে এসেছে। সিজেপি, বামপন্থী ছাত্র সংগঠন এবং সুশীল সমাজের বিভিন্ন গোষ্ঠী প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণ দাবি করছে; অন্যদিকে, কংগ্রেস কথিত ‘ভোট চুরির’বিরুদ্ধে নিজস্ব প্রচার চালিয়ে যাচ্ছে। এই উত্তাল পরিস্থিতির মধ্যে বিজেপি কংগ্রেসের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছে। তাদের অভিযোগ, কংগ্রেস তরুণ প্রজন্মকে বিভ্রান্ত করছে এবং বাংলাদেশের জেন জি দের মতন ভারতে ক্ষমতা পরিবর্তনের লক্ষ্যে নৈরাজ্য সৃষ্টির চেষ্টা চালাচ্ছে। বিজেপি সতর্ক করে বলেছে যে, বাংলাদেশে ২০২৪ সালে জেন জি সরকার পতন যে ধরনের বিক্ষোভ হয়েছিল, যার ফলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুত হতে হয়েছিল, ঠিক সেই ধরনের পরিস্থিতি ভারতেও তৈরির চেষ্টা চলছে। এআইএসএ প্রধান নেহা বোরার পক্ষ থেকে বাংলাদেশের শেখ হাসিনা বিরোধী আন্দোলনের প্রশংসা এবং প্রবীণ আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণের প্রকাশ্যে ‘শাসন পরিবর্তনের’সমর্থনের বিষয়টি বিজেপিকে উদ্বিগ্ন করে তুলেছে।
প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং কংগ্রেসের বিরুদ্ধে বিজেপির আক্রমণের নেতৃত্ব দেন। তিনি কংগ্রেস ও তাদের মিত্রদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলেন যে, তারা রাজপথে গণআন্দোলন গড়ে তোলার মাধ্যমে বাংলাদেশে যেমন শাসন পরিবর্তন হয়েছিল, ভারতেও ঠিক তেমনটি ঘটানোর উসকানি দিচ্ছে। এই বিতর্কটি এমন এক সময়ে সামনে এল, যখন বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে পুলিশের পদক্ষেপ, ভোটার তালিকায় এসআইআর সংক্রান্ত বিরোধ এবং শিক্ষার্থী, আইনজীবী ও বিরোধী দলগুলোর রাজনৈতিক তৎপরতা বৃদ্ধি পেয়েছে। বিজেপির শীর্ষ পর্যায় থেকে বিদেশি প্রভাবের অভিযোগও তোলা হয়েছে। দলের জাতীয় সভাপতি নীতিন নবীন কংগ্রেস এবং সিজেপি কে বিদেশি শক্তির ইশারায় কাজ করার দায়ে অভিযুক্ত করেছেন এবং নরেন্দ্র মোদী সরকারকে অস্থিতিশীল করার জন্য 'বাংলাদেশি কায়দায়' প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে, এমন অভিযোগ তুলছে । তারা বলছেন "রাহুল গান্ধীর 'পোস্টার গার্ল' নেহা বোরা বলছেন, বিপ্লবের জন্য 'বাংলাদেশ আমাদের পথ দেখিয়েছে'! এটি যে শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের একটি প্রকাশ্য স্বীকারোক্তি, তা স্পষ্ট! রাহুল গান্ধী ও তাঁর সঙ্গীরা ভারতীয় গণতন্ত্রের জন্য হুমকি!"
২০২৪ সালের জুলাই মাসে সরকারি চাকরিতে কোটা ব্যবস্থাকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশে শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে বিক্ষোভ শুরু হয়। তবে কঠোর দমন-পীড়ন, গণগ্রেপ্তার এবং ইন্টারনেট বন্ধ করে দেওয়ার মতো ঘটনা এই বিক্ষোভকে শেখ হাসিনার পদত্যাগের দাবিতে একটি দেশব্যাপী আন্দোলনে রূপান্তর করে। ৫ আগস্ট, ইসলামপন্থী ও বিদেশি শক্তির মদতপুষ্ট বলে অভিযোগ ওঠা বিক্ষোভকারীরা ঢাকার দিকে অগ্রসর হয়। এই চূড়ান্ত চাপের মুখে শেখ হাসিনা ভারতে পালিয়ে যেতে বাধ্য হন, যার মধ্য দিয়ে তাঁর ১৫ বছরের শাসনের অবসান ঘটে। বিজেপি মনে করে, প্রশান্ত ভূষণ ও নেহা বোরার মন্তব্যগুলো একটি বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ। তাদের মতে, সিজেপি এর বিক্ষোভ, বামপন্থী শিক্ষার্থীদের সংগঠিত হওয়া এবং নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে কংগ্রেসের ‘ভোট চুরির’ অভিযোগ, সবই এর অন্তর্ভুক্ত। বিজেপির এই আক্রমণ মূলত তাদের সেই বৃহত্তর অভিযোগেরই প্রতিফলন, যেখানে বলা হচ্ছে, এই বিক্ষোভগুলো, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সমালোচনা এবং বাংলাদেশের আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে আনা, সবই মোদি সরকারকে রাজপথের অস্থিরতার মাধ্যমে অস্থিতিশীল করার একটি সুসংগঠিত প্রচেষ্টার অংশ।
২০২৪ সালে বাংলাদেশ এক বিশাল যুব-নেতৃত্বাধীন আন্দোলনের সাক্ষী হয়েছে। সরকারি নীতিমালার প্রতি ক্ষোভ, রাজনৈতিক জবাবদিহিতার দাবি এবং গণতান্ত্রিক অধিকার নিয়ে গভীর উদ্বেগের জায়গা থেকে এই আন্দোলনের জন্ম হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত এই প্রতিবাদ এক ঐতিহাসিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পথ প্রশস্ত করে, যা প্রমাণ করে যে, সাধারণ দাবির ভিত্তিতে তরুণরা ঐক্যবদ্ধ হলে তারা কতটা শক্তিশালী হয়ে উঠতে পারে। ভারত ও বাংলাদেশের জেন-জি প্রজন্মের কাছে গণতান্ত্রিক অংশগ্রহণ, সরকারি জবাবদিহিতা এবং সাংবিধানিক অধিকার রক্ষার মতো বিষয়গুলো আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ হয়ে উঠেছে। ভারত ও বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্ম তাদের উদ্বেগ প্রকাশ করতে এবং পরিবর্তনের দাবি জানাতে প্রতিবাদ কর্মসূচি, অনলাইন প্রচারণা ও প্রকাশ্য বিতর্কের পথ বেছে নিচ্ছে। ভারতে তরুণদের সক্রিয়তা ও গণতন্ত্র নিয়ে চলমান বিতর্কে নেহা বোরার বক্তব্য একটি নতুন মাত্রা যোগ করেছে। এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে নিয়ে আসে: দক্ষিণ এশিয়ায় গণতান্ত্রিক অংশগ্রহণের ভবিষ্যতের ওপর তরুণদের নেতৃত্বে পরিচালিত আন্দোলনগুলো কতটা প্রভাব ফেলতে পারে? তাই ভারতের জিন-জি আন্দোলনে, বাংলাদেশ জেন- জিরা এতো প্রাসঙ্গিক।
লেখক : কথা সাহিত্যিক , কবি, গবেষক ও প্রাবন্ধিক।
ডেল্টা টাইমস্/অভিজিৎ বড়ুয়া অভি/সিআর/এমই