প্রকাশ: শনিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৬, ২:২৯ পিএম (ভিজিট : ০)

যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদে নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে রাজধানীর শাহবাগে বিক্ষোভ করেছেন চাকরিপ্রার্থীরা।
শনিবার (১০ অক্টোবর) পরীক্ষা স্থগিতের কয়েক ঘণ্টা পর পরীক্ষাবঞ্চিত চাকরি প্রার্থীরা বিক্ষোভ করেন ও দফায় দফায় সড়ক অবরোধ করেন। এ সময় শাহবাগ এলাকায় যান চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা তাদের সড়ক থেকে সরিয়ে দিলেও পরীক্ষার্থীরা আবারও সড়কে অবস্থান নেন।
পরীক্ষার্থীরা প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা, দুই দিনের মধ্যে পরীক্ষার নতুন তারিখ ঘোষণা এবং পরীক্ষা কেন্দ্রে জালিয়াতি ঠেকাতে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়াসহ চার দফা দাবি জানিয়েছেন। তাদের অভিযোগ, ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহার করে অসদুপায় অবলম্বনের সুযোগ থাকলেও পরীক্ষা কেন্দ্রে সেগুলো শনাক্ত করার জন্য স্ক্যানারের ব্যবস্থা নেই।
শনিবার বেলা ১১টায় অধিদপ্তরের সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদে (১১তম গ্রেড) নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। ২৪২টি পদের বিপরীতে এ পরীক্ষায় অংশ নিতেন প্রায় তিন লাখের কাছাকাছি চাকরিপ্রার্থী। এ জন্য রাজধানীর প্রায় ১০০টি কেন্দ্রে পরীক্ষা আয়োজনের প্রস্তুতিও নেওয়া হয়েছিল।
তবে পরীক্ষা শুরুর কয়েক ঘণ্টা আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ ছড়িয়ে পড়ে। এর পরিপ্রেক্ষিতে কর্তৃপক্ষ পরীক্ষা স্থগিত করে। পরীক্ষা দিতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ঢাকায় আসা চাকরিপ্রার্থীরা এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। সকাল থেকেই তাদের অনেকে ঢাকার বিভিন্ন অংশসহ শাহবাগে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন।
প্রথম দফায় পরীক্ষার্থীরা শাহবাগের সড়ক অবরোধ করলে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা তাদের সড়ক থেকে সরিয়ে দেন। তবে কিছুক্ষণ পর পরীক্ষার্থীরা আবারও সড়কে অবস্থান নিলে দ্বিতীয় দফায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে। এ সময় শাহবাগ এলাকায় থমথমে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। বিভিন্ন দিক থেকে আরও পরীক্ষার্থী এসে বিক্ষোভে যোগ দেন। তাদের অনেকের হাতে প্রবেশপত্র দেখা যায়।
আন্দোলনকারীরা জানান, প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। পাশাপাশি পরীক্ষা কেন্দ্রে অনিয়ম ও জালিয়াতি ঠেকাতে কার্যকর নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। দুই দিনের মধ্যে পরীক্ষার পরবর্তী তারিখ ঘোষণার দাবিও জানিয়েছেন তারা।
প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত শাহবাগ ছাড়বেন কি না, এমন প্রশ্নে আন্দোলনকারীরা জানান, নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন। তবে আপাতত সেখানে অবস্থান চালিয়ে যাওয়ার কথা জানান তারা।
শুধু শাহবাগ নয়, রাজধানীর মিরপুরে সরকারি বাঙলা কলেজের সামনেও পরীক্ষার্থীরা অবস্থান নেন। ফলে পরীক্ষা স্থগিতের ঘটনায় রাজধানীর একাধিক স্থানে চাকরিপ্রার্থীদের প্রতিবাদ ছড়িয়ে পড়ে।
পরীক্ষা স্থগিতের বিষয়ে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন-৫) মাজহারুল হক গণমাধ্যমকে জানান, স্থগিত হওয়া পরীক্ষার নতুন তারিখ আগামী দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে ঘোষণা করা হবে।
ঝিনাইদহ থেকে আসা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তানভীর হোসাইন বলেন, নিয়োগপ্রক্রিয়ায় অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা ও দীর্ঘসূত্রতার দায় সরকার এড়াতে পারে না। এখন আবার পরীক্ষায় প্রশ্ন ফাঁস। একদিকে নতুন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি নেই, অন্যদিকে আগের নিয়োগ পরীক্ষাগুলোও সুষ্ঠুভাবে আয়োজন করা যাচ্ছে না, তার ওপর প্রশ্ন ফাঁস। এই প্রশ্নফাঁসের জন্য পরীক্ষা স্থগিত হওয়ায় দূরদূরান্ত থেকে আসা পরীক্ষার্থীদের আর্থিক ও মানসিক ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। অনেকে যাতায়াত ও থাকা-খাওয়ার পেছনে টাকা খরচ করে পরীক্ষা দিতে এসে শেষ মুহূর্তে এমন সিদ্ধান্তের মুখে পড়ছেন। তাদের এই ক্ষতির দায় কে নেবে?
তিনি বলেন, লাখো শিক্ষিত তরুণ চাকরির আশায় দিনরাত পরিশ্রম করছেন এবং পরিবারের কষ্টার্জিত অর্থ ব্যয় করছেন। অথচ এ ধরনের অনিশ্চয়তা তাদের হতাশা আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। একটি নিয়োগ পরীক্ষা আয়োজনের ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষের দায়িত্বশীলতা ও প্রস্তুতি থাকা জরুরি। প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ, পরীক্ষা স্থগিত ও নিয়োগে দীর্ঘসূত্রতার দায় এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। তরুণদের কর্মসংস্থান, জবাবদিহি এবং অনিশ্চয়তার বদলে মেধার ভিত্তিতে স্বচ্ছ নিয়োগ পরীক্ষা নিশ্চিত করতে হবে।
নীলফামারী থেকে আসা এক পরীক্ষার্থী বলেন, বেকারদের সঙ্গে এই তামাশা কি আদৌ বন্ধ হবে? আবারও সেই পুরোনো বন্দোবস্ত। এ দেশে কোনো একটা ট্রেন্ড চালু হলে তা বন্ধ করা খুব কঠিন। আমি নীলফামারী থেকে পরীক্ষা দিতে এসেছি। এখন যাতায়াতের খরচ কে দেবে?
ডেল্টা টাইমস/সিআর/এমই