জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় শাহজালালে অগ্নিনির্বাপক মহড়া

ডেল্টা টাইমস ডেস্ক:

রাজধানী

বিমানে অগ্নিকাণ্ডসহ যেকোনো ধরনের জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুতি ও সক্ষমতা যাচাই করতে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অগ্নিনির্বাপক মহড়া

2026-10-05T12:37:27+06:00
2026-10-05T12:37:27+06:00
সোমবার, ০৫ অক্টোবর, ২০২৬, ২১ আশ্বিন ১৪৩৩

জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় শাহজালালে অগ্নিনির্বাপক মহড়া
ডেল্টা টাইমস ডেস্ক:
প্রকাশ: সোমবার, ৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৩৭ পিএম   (ভিজিট : ০)

বিমানে অগ্নিকাণ্ডসহ যেকোনো ধরনের জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুতি ও সক্ষমতা যাচাই করতে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অগ্নিনির্বাপক মহড়া অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সোমবার (৫ অক্টোবর বিমানবন্দরের নির্ধারিত এলাকায় এ মহড়ার আয়োজন করা হয়েছে।  

এতে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রীসহ মন্ত্রণালয়, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক), ফায়ার সার্ভিস ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। 

মহড়ায় বিমানবন্দরে কোনো উড়োজাহাজে অগ্নিকাণ্ডের মতো জরুরি পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো কীভাবে দ্রুত সমন্বিতভাবে উদ্ধার ও অগ্নিনির্বাপণ কার্যক্রম পরিচালনা করবে, তা বাস্তবভাবে প্রদর্শন করা হচ্ছে। একই সঙ্গে জরুরি সেবাদানকারী বিভিন্ন ইউনিটের তাৎক্ষণিক সাড়া দেওয়ার সক্ষমতা, যোগাযোগব্যবস্থা এবং পারস্পরিক সমন্বয়ও পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ও যাত্রীদের জীবন রক্ষায় অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। উড়োজাহাজ চলাচলের সময় কোনো ধরনের দুর্ঘটনা বা অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটলে অল্প সময়ের মধ্যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা প্রয়োজন। এ কারণে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরগুলোতে নিয়মিতভাবে জরুরি পরিস্থিতির মহড়া আয়োজন করা হয়।

আজকের মহড়ায় সম্ভাব্য অগ্নিকাণ্ডের পরিস্থিতি তৈরি করে সংশ্লিষ্ট উদ্ধারকারী ও অগ্নিনির্বাপক দলগুলোর কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। অগ্নিকাণ্ডের খবর পাওয়ার পর কীভাবে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছানো, আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা এবং প্রয়োজন হলে যাত্রী ও উড়োজাহাজের ক্রুদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হবে—মহড়ায় এসব বিষয় গুরুত্ব পাচ্ছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এ ধরনের মহড়ার মাধ্যমে বিমানবন্দরে দায়িত্ব পালনকারী বিভিন্ন সংস্থার প্রস্তুতির বাস্তব চিত্র পাওয়া যায়। কোথাও কোনো ঘাটতি থাকলে তা চিহ্নিত করে পরবর্তী সময়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়। বিশেষ করে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দেশের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হওয়ায় এর জরুরি নিরাপত্তাব্যবস্থা সবসময় কার্যকর ও প্রস্তুত রাখা জরুরি। প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক যাত্রী ও বিভিন্ন এয়ারলাইন্সের উড়োজাহাজ এই বিমানবন্দর ব্যবহার করে। ফলে অগ্নিকাণ্ড বা অন্য কোনো বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটলে দ্রুততম সময়ে পরিস্থিতি মোকাবিলার সক্ষমতা থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

মহড়ায় বিমানবন্দরের অগ্নিনির্বাপণ ও উদ্ধার কার্যক্রমের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা ও জরুরি সেবাদানকারী ইউনিটগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। জরুরি মুহূর্তে কোন সংস্থা কীভাবে দায়িত্ব পালন করবে এবং এক সংস্থার সঙ্গে অন্য সংস্থার যোগাযোগ কীভাবে নিশ্চিত করা হবে, মহড়ার মাধ্যমে তা যাচাই করা হচ্ছে।

বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, নিয়মিত মহড়ার অন্যতম উদ্দেশ্য হলো জরুরি পরিস্থিতিতে দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তা ও কর্মীদের প্রস্তুত রাখা। পাশাপাশি আধুনিক সরঞ্জাম ও প্রযুক্তির কার্যকারিতা যাচাই এবং প্রয়োজনীয় ঘাটতি শনাক্ত করাও এসব মহড়ার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিমানমন্ত্রী ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা মহড়ার বিভিন্ন কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করছেন। সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে বিমানবন্দরের অগ্নিনির্বাপণ ও জরুরি উদ্ধারব্যবস্থার সক্ষমতা সম্পর্কেও অবহিত হওয়ার কথা রয়েছে।

বেবিচকের কর্মকর্তারা বলেন, বিমানবন্দরের নিরাপত্তা কেবল উড়োজাহাজের স্বাভাবিক চলাচলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; সম্ভাব্য দুর্ঘটনা বা অগ্নিকাণ্ডের মতো পরিস্থিতিতে দ্রুততম সময়ে প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে আনার সক্ষমতাও এর গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই আজকের অগ্নিনির্বাপক মহড়া ভবিষ্যতে যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর প্রস্তুতি আরও জোরদারে ভূমিকা রাখবে।


ডেল্টা টাইমস/সিআর/এমই








  এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ