প্রকাশ: সোমবার, ৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:২২ পিএম (ভিজিট : ০)

রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে ১০ দফা দাবিতে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার শত শত চালক। চার্জিং পয়েন্টে দ্রুত বিদ্যুৎসংযোগ পুনঃস্থাপন, গ্রেপ্তার অটোরিকশাচালক নেতাদের মুক্তিসহ বিভিন্ন দাবি জানান তারা। দাবি মেনে না নিলে আবারও আন্দোলনে নামার হুঁশিয়ারি দিয়ে সড়ক ছাড়েন বিক্ষোভকারীরা।
সোমবার (৫ অক্টোবর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন তারা। এতে ওই সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ মানুষ ও বিভিন্ন গন্তব্যের যাত্রীরা। পরে পুলিশের হস্তক্ষেপে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান বলেন, অটোরিকশাচালকেরা সেখানে প্রায় এক ঘণ্টা অবস্থান করে বিক্ষোভ করেন। পরে তারা সড়ক ছেড়ে চলে যান।
জানা গেছে, সকাল সাড়ে ১০টা থেকে অটোরিকশাচালকেরা জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে জড়ো হতে শুরু করেন। পরে সেখানে মানববন্ধন করে ১০ দফা দাবি তুলে ধরেন তারা। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তারা সড়কে অবস্থান নিলে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। প্রায় এক ঘণ্টা সড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকায় আশপাশের এলাকায় তীব্র ভোগান্তি তৈরি হয়। মেট্রোরেল স্টেশনের বিভিন্ন প্রান্তে থাকা যাত্রীরাও সমস্যায় পড়েন। স্টেশনে ওঠার সিঁড়িও বন্ধ হয়ে যায়।
পরে সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে ঢাকা মহানগর অটোরিকশা ও ইজিবাইক শ্রমিক ঐক্য পরিষদের নেতারা বক্তব্য দেন। তারা দ্রুত চার্জিং পয়েন্টগুলোতে বিদ্যুৎ সংযোগ পুনঃস্থাপন এবং গ্রেপ্তার অটোরিকশাচালক নেতাদের মুক্তিসহ বিভিন্ন দাবি তুলে ধরেন।
সমাবেশে অটোরিকশাচালকেরা অভিযোগ করেন, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চালিয়ে তারা জীবিকা নির্বাহ করেন। কিন্তু সম্প্রতি চার্জিং পয়েন্টগুলোতে অভিযান চালিয়ে বিদ্যুৎসংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হচ্ছে। এতে অটোরিকশা চালানো নিয়ে সংকট তৈরি হয়েছে। এ অবস্থায় বাধ্য হয়ে তারা রাস্তায় নেমেছেন।
বিক্ষোভকারীরা বলেন, তাদের ১০ দফা দাবি দ্রুত মেনে নিতে হবে। একই সঙ্গে চার্জিং পয়েন্টগুলোতে বিদ্যুৎসংযোগ পুনঃস্থাপন করতে হবে। অন্যথায় তারা আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন।
সমাবেশ শেষে অটোরিকশাচালকেরা একটি মিছিল নিয়ে দৈনিক বাংলার দিকে যান। সেখানে গিয়ে তাদের কর্মসূচি শেষ হয়।
সমাবেশে খিলগাঁও, মিরপুর, বাড্ডা, মতিঝিল, যাত্রাবাড়ী, পুরান ঢাকা ও রামপুরাসহ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার কয়েক শ ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাচালক অংশ নেন।
এদিকে সকাল থেকে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অটোরিকশা না চালিয়ে ধর্মঘট পালন করেন চালকেরা। এতে বাড্ডা, মতিঝিল, সবুজবাগ, খিলগাঁও, মহাখালী, গুলশান, রমনা ও রামপুরা এলাকায় সকাল থেকেই যাত্রীদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়। দুপুর পর্যন্ত এসব এলাকায় ধর্মঘট পালনের পর তারা জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভে অংশ নেন।
অটোরিকশাচালকদের ধর্মঘটের সুযোগে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় পায়ে চালিত রিকশাচালকেরা যাত্রীদের কাছ থেকে তুলনামূলক বেশি ভাড়া নিয়েছেন বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। মোহাম্মদপুর, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা, নিউমার্কেট, ফার্মগেট, শাহবাগ, মহাখালী, গুলশান, বাড্ডা ও খিলগাঁও এলাকায় এ পরিস্থিতি দেখা যায়। ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা না থাকায় অনেক যাত্রী বাধ্য হয়ে বেশি ভাড়া দিয়ে গন্তব্যে যান।