জাবির কেন্দ্রীয় মেডিকেলে পরীক্ষা ছাড়াই রিপোর্ট দেওয়ার অভিযোগ

জাবি প্রতিনিধি

শিক্ষা

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) কেন্দ্রীয় মেডিকেল সেন্টারে রক্ত পরীক্ষা না করেই রিপোর্ট প্রস্তুত ও সরবরাহের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায়

2026-09-13T18:29:23+06:00
2026-09-13T18:44:00+06:00
রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩

জাবির কেন্দ্রীয় মেডিকেলে পরীক্ষা ছাড়াই রিপোর্ট দেওয়ার অভিযোগ
জাবি প্রতিনিধি
প্রকাশ: রোববার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:২৯ পিএম  আপডেট: ১৩.০৯.২০২৬ ৬:৪৪ পিএম  (ভিজিট : ১৩)

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) কেন্দ্রীয় মেডিকেল সেন্টারে রক্ত পরীক্ষা না করেই রিপোর্ট প্রস্তুত ও সরবরাহের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় মেডিকেল সেন্টারে কর্মরত দুই টেকনিক্যাল অফিসার ও এক প্রশাসনিক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন এক শিক্ষার্থী। শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদের পর বিষয়টি তদন্তে কমিটি গঠনের আশ্বাস দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের ৫১তম ব্যাচের শিক্ষার্থী মো. রাশেদ শেখ এ বিষয়ে মেডিকেল সেন্টারের ভারপ্রাপ্ত চিফ মেডিকেল অফিসার (সিএমও) ডা. মো. শামসুল আলম খান লিটনের কাছে অভিযোগ দেন।

অভিযুক্তরা হলেন মেডিকেল সেন্টারের বায়োকেমিস্ট্রি অ্যান্ড ইমিউনোলজি ল্যাবরেটরি বিভাগের টেকনিক্যাল অফিসার কে. এম. নাজমুল হোসাইন রাসেল, হেমাটোলজি অ্যান্ড ক্লিনিক্যাল প্যাথলজি বিভাগের টেকনিক্যাল অফিসার মো. নাঈমুল ইসলাম নাঈম এবং প্রশাসনিক অফিসার খন্দকার জাহাঙ্গীর আলম।

অভিযোগপত্রে রাশেদ শেখ উল্লেখ করেন, গত ১১ আগস্ট তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মেডিকেল সেন্টারে রক্তের হিমোগ্লোবিন পরীক্ষা করান। ওই পরীক্ষার রিপোর্টে তার হিমোগ্লোবিনের মাত্রা ১৫.৭ দেখানো হয়। ফলাফলটি তার কাছে অস্বাভাবিক মনে হওয়ায় পরবর্তীতে তিনি ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে একই পরীক্ষা করান। সেখানে তার হিমোগ্লোবিনের মাত্রা ৮.৮ পাওয়া যায়।

রাশেদ শেখ জানান, গত ১০ বছরে তার হিমোগ্লোবিনের মাত্রা কখনো ১০-এর বেশি হয়নি। তবে ওই সময় অনার্সের ফাইনাল পরীক্ষা চলমান থাকায় তিনি তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি নিয়ে প্রতিবাদ জানাতে পারেননি।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে রবিবার সকাল ৯টার দিকে তিনি মেডিকেল সেন্টারের ভারপ্রাপ্ত সিএমওর সঙ্গে যোগাযোগ করেন। এ সময় সিএমও দায়িত্বপ্রাপ্ত দুই টেকনিক্যাল অফিসারের কাছে বিষয়টি জানতে চান। তারা জানান, ওই সময়ে মেডিকেল সেন্টারের প্যাথলজি বিভাগের যন্ত্রপাতি নষ্ট থাকায় পরীক্ষার ফলাফলে ভুল হতে পারে।

পরে প্রশাসনিক অফিসার খন্দকার জাহাঙ্গীর আলমের কাছেও বিষয়টি জানতে চাওয়া হলে তিনিও যন্ত্রপাতি নষ্ট থাকার কারণে ভুল ফলাফল হয়ে থাকতে পারে বলে জানান বলে অভিযোগ করেন রাশেদ।

এ সময় উপস্থিত শিক্ষার্থীরা গত ১১ আগস্ট মেডিকেল সেন্টারের ল্যাবে সম্পন্ন হওয়া রক্ত পরীক্ষার রিপোর্ট ও সংশ্লিষ্ট তথ্য দেখতে চান। অভিযোগকারীর দাবি, প্রথমে সংশ্লিষ্টরা তথ্য থাকার কথা জানালেও প্রায় তিন ঘণ্টা খোঁজাখুঁজির পর কোনো হার্ডকপি বা সফটকপি দেখাতে পারেননি। একই সঙ্গে ওই সময়ে মেডিকেল সেন্টারের যন্ত্রপাতি নষ্ট থাকার বিষয়ে কোনো লিখিত নথি বা বিজ্ঞপ্তিও পারেননি বলে তিনি জানান।

এ ঘটনায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হলে তারা মেডিকেল সেন্টারের অফিস কক্ষ তালাবদ্ধ করে দেন। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মো. শামসুল আলম, প্রক্টর অধ্যাপক জাকির হোসেন, সহকারী প্রক্টর আবদুছ সাত্তার জয়, জাকসুর খাদ্য ও নিরাপত্তা বিষয়ক সম্পাদক হুসনি মোবারক এবং বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী সেখানে উপস্থিত হন।

পরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা মেডিকেল সেন্টারের যন্ত্রপাতি নষ্ট হওয়া ও নতুন যন্ত্রপাতি প্রতিস্থাপনের সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র পর্যালোচনা করেন। সেখানে পাওয়া নথি অনুযায়ী মেডিকেল সেন্টারের যন্ত্রপাতি ১৫ আগস্ট নষ্ট হয় এবং ১৮ আগস্ট নতুন যন্ত্রপাতি প্রতিস্থাপন করা হয়। ফলে ১১ আগস্টের রক্ত পরীক্ষার সময় যন্ত্রপাতি নষ্ট থাকার দাবির সঙ্গে নথিপত্রের অসঙ্গতি রয়েছে বলে অভিযোগকারী ও উপস্থিত শিক্ষার্থীরা দাবি করেন।

তারা আরও অভিযোগ করে বলেন, এই রিপোর্টে প্রস্তুতের তারিখ ১২ আগস্ট দেওয়া রয়েছে, অথচ সেদিন বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ছিল। অর্থাৎ, এখানে স্পষ্ট প্রতীয়মান যে– কোনো পরীক্ষা ছাড়াই রিপোর্ট তৈরি করা হয়েছে।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মো. শামসুল আলম বলেন, “মেডিকেল একটি সংবেদনশীল স্থান। এখানে কোনো অনিয়ম বা অসঙ্গতি অনাকাঙ্ক্ষিত। প্রাথমিক তদন্তে রিপোর্টে ভুল তথ্য প্রদান এবং যন্ত্রপাতি নষ্ট ও প্রতিস্থাপনের তারিখের মধ্যে অমিল পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আজকের সিন্ডিকেট সভায় বিষয়টি উপস্থাপন করে অধিকতর তদন্ত সাপেক্ষে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

উল্লেখ্য, মেডিকেলে চিকিৎসা নিতে আসা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারী জানান– প্রশাসনিক অফিসার খন্দকার জাহাঙ্গীর আলম এবং বায়োকেমিস্ট্রি অ্যান্ড ইমিউনোলজি ল্যাবরেটরি বিভাগের টেকনিক্যাল অফিসার কে. এম. নাজমুল হোসাইন রাসেল নিয়মিত অফিসের নির্ধারিত সময়ের পরে আসেন।


ডেল্টা টাইমস/সামিয়া তাসনীম স্বাতী/সিআর/এনজিটি








  এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ