প্রকাশ: রোববার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:০২ পিএম (ভিজিট : ৩)

ঝালকাঠির কাঁঠালিয়ায় এক দম্পতির বিরুদ্ধে ৮ মাসের ছেলে সন্তানকে এক লাখ টাকায় বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। গত বুধবার রাতে শিশুটিকে হস্তান্তর করা হয়। রোববার ( ৬সেপ্টেম্বর) দুপুরে বিষয়টি জানাজানি হয়।
তবে শিশুটির বাবা সোহাগ হাওলাদারের দাবি, লালন-পালনের জন্য তাকে এক নিঃসন্তান আত্মীয়ের কাছে দিয়েছেন। বিনিময়ে টাকা নেননি তিনি।
সোহাগ হাওলাদার উপজেলার চেঁচরী রামপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ চেঁচরী গ্রামের বাসিন্দা। তাঁর বড় বোন পারভীন বেগমের দেওয়া তথ্যমতে, সোহাগ ঢাকায় তৈরি পোশাক কারখানায় কাজ করতেন। তখন শরীয়তপুরের আলো বেগমকে বিয়ে করেন। এ দম্পতির ১০ বছর, পাঁচ বছর বয়সী দুই ছেলে ছিল। আলো বেগম আট মাস আগে আরেকটি ছেলের জন্ম দেন।
স্থানীয় সূত্রগুলো জানায়, গত বুধবার রাতে পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়া উপজেলার চরখালী এলাকার লিপি বেগম নামে এক নিঃসন্তান নারীর কাছে ৮ মাসের শিশুটিকে বিক্রি করেন সোহাগ-আলো দম্পতি, বিনিময়ে তারা এক লাখ টাকা নিয়েছেন। বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকায় আলোড়ন তৈরি হয়।
শিশুটির মা আলো আক্তারের ভাষ্য, তিনি দীর্ঘদিন ধরেই অসুস্থ। এ কারণে তিনটি সন্তান লালন পালনে সমস্যা হচ্ছে। তাই এক আত্মীয়কে ছোট ছেলের লালন-পালনের দায়িত্ব দিয়েছেন।
একই রকম মন্তব্য করেন সোহাগ হাওলাদার। তবে তাঁর স্ত্রী শারীরিক অসুস্থতার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য দিতে পারেননি। তাঁর দাবি, অসুস্থ স্ত্রীর পক্ষে তিনজনকে লালন-পালন কঠিন। এ জন্য ছোট ছেলেকে দূর সম্পর্কের ফুপাতো বোন লিপির কাছে দিয়েছেন। লিপি নিঃসন্তান। বিনিময়ে তারা টাকা নেননি।
সোহাগের বোন পারভীন বেগম বলেন, ‘লালন-পালনে সমস্যা হলে, আমাদের বলা উচিত ছিল। আমরা ওর দায়িত্ব নিতাম। তবে বিক্রি করা ঠিক হয়নি।’ এ বিষয়ে তিনি আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও বলেন।
তবে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোহাগের পরিবারটি হতদরিদ্র। তাঁর বোন পারভীনের পরিবারের অবস্থাও তেমন ভালো নয়।
চেঁচরী রামপুর ইউপির ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মো. শাহিন খান শিশু বিক্রির তথ্য পেয়েছেন জানিয়ে বলেন, ‘শিশুটিকে বিক্রি করলে কাজটি ঠিক হয়নি। তারপরও খোঁজ নিয়ে দেখছি।’
ডেল্টা টাইমস/সিআর/এনজিটি