যুক্তরাজ্যে মুখোশধারীদের বিক্ষোভ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

আন্তর্জাতিক

যুক্তরাজ্যের ডোভার বন্দরে মুখোশধারী শতাধিক মানুষের বিক্ষোভে ব্যাপক অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। কালো পোশাক ও মুখ ঢাকা অবস্থায় বিক্ষোভকারীরা

2026-09-05T20:07:22+06:00
2026-09-05T20:07:22+06:00
শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২১ ভাদ্র ১৪৩৩

যুক্তরাজ্যে মুখোশধারীদের বিক্ষোভ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
প্রকাশ: শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:০৭ পিএম   (ভিজিট : ৩)

যুক্তরাজ্যের ডোভার বন্দরে মুখোশধারী শতাধিক মানুষের বিক্ষোভে ব্যাপক অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। কালো পোশাক ও মুখ ঢাকা অবস্থায় বিক্ষোভকারীরা বন্দরের আশপাশের সড়ক অবরোধ করে। এ সময় তারা ‘নৌকা থামাও’ স্লোগান দেন।
বিক্ষোভের কারণে কিছু সময়ের জন্য বন্দরে যানবাহন প্রবেশ ও বের হওয়া বন্ধ হয়ে যায়। এতে যাত্রী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়।

যুক্তরাজ্য সরকার এক বিবৃতিতে ডোভারের এই আচরণের নিন্দা জানিয়ে বলেছে, বিক্ষোভের কারণে মানুষের চলাচলে যে বিঘ্ন ঘটেছে, তা গ্রহণযোগ্য নয়।
কেন্ট পুলিশ জানিয়েছে, বিক্ষোভকারীদের কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি। স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ১১টার দিকে পুলিশ তাদের বন্দর এলাকা থেকে ডোভার প্রাইওরি রেলস্টেশনের দিকে সরিয়ে দেয়। দুপুর ১২টার মধ্যে বিক্ষোভে অংশ নেওয়া সবাই এলাকা ছেড়ে চলে যায় বলে জানিয়েছে পুলিশ।


ডোভার ওয়েস্ট এলাকার স্থানীয় পরিষদ সদস্য পল কিং বলেন, তিনি জানতে পেরেছেন এটি ছিল অবৈধ অভিবাসীদের ছোট নৌকায় ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দেওয়ার বিরুদ্ধে আয়োজিত একটি বিক্ষোভ।
তবে এই বিক্ষোভের আয়োজন কারা করেছে, সে বিষয়ে তখনো কোনো মন্তব্য করেনি কেন্ট পুলিশ।


উগ্র ডানপন্থি কর্মী টমি রবিনসন ও ড্যানি থমাস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিক্ষোভের প্রশংসা করেছেন।

ঘৃণা ও উগ্রবাদবিরোধী সংগঠন ‘হোপ নট হেট’ দাবি করেছে, প্যাট্রিয়ট প্ল্যাটফর্ম এই বিক্ষোভের আয়োজন করেছিল। তাদের দাবি, গত জুলাই থেকে সংগঠনটি বিভিন্ন অভিবাসীবিরোধী গোষ্ঠীর সদস্যদের নিয়ে বৈঠক শুরু করে এবং দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে লোকজনকে একত্রিত করেছে।


বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করা হলে তারা গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে রাজি হননি। তবে একজন ‘তাদের ফিরিয়ে পাঠাও’ এবং আরেকজন ‘নৌকা থামাও’ বলে স্লোগান দেন।


ডোভার ও ডিল এলাকার সংসদ সদস্য মাইক ট্যাপ বলেন, সকাল প্রায় ৭টা থেকে শুরু হওয়া এই ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দারা মারাত্মক ভোগান্তিতে পড়েছেন।

তিনি বলেন, বিভিন্ন এলাকা থেকে কিছু মানুষ ডোভারে এসে কালো পোশাক ও মুখোশ পরে বন্দরের দিকে যাওয়ার কয়েকটি সড়ক অবরোধ করেন।

পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, শুধু বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করার জন্য বাইরে থেকে লোকজনের ডোভারে আসা বন্ধ হওয়া উচিত।

তিনি আরও বলেন, অনেক বিক্ষোভকারী হয়তো জানেনই না যে ছোট নৌকায় ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দিয়ে আসা মানুষের সংখ্যা প্রায় ৪০ শতাংশ কমেছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকার কাজ করছে।।

বিক্ষোভের পর ডোভার বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বন্দরের কার্যক্রম আবার স্বাভাবিক হয়েছে। শহরে প্রবেশ ও বের হওয়ার সব সড়কও খুলে দেওয়া হয়েছে।

কর্তৃপক্ষ জানায়, জনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশের কার্যক্রম চলাকালে ধৈর্য ধরার জন্য যাত্রী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের ধন্যবাদ জানানো হয়েছে।

বিভিন্ন নৌযান পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানও জানিয়েছে, বিক্ষোভের কারণে যেসব যাত্রী নির্ধারিত সময়ের যাত্রা মিস করেছেন, তাদের পরবর্তী যাত্রায় ওঠার ব্যবস্থা করা হবে।

নেদারল্যান্ডস থেকে সকালে ডোভারে পৌঁছানো এক যাত্রী বলেন, গাড়ি নিয়ে নৌ টার্মিনাল থেকে বের হওয়ার সময় তারা আর সামনে এগোতে পারেননি।

তার ভাষ্য, বন্দর টার্মিনালের বাইরে সড়ক ও গোলচত্বর বিক্ষোভকারীরা অবরোধ করে রেখেছিল। সবাই কালো পোশাক পরা এবং মুখ ঢাকা থাকায় তাদের পরিচয় বোঝা সম্ভব হয়নি।

লন্ডনের একজন ভ্রমণপথপ্রদর্শক বলেন, প্রায় তিন ঘণ্টা তিনি ওই এলাকায় ছিলেন এবং পুরো পরিস্থিতি ছিল চরম বিশৃঙ্খলাপূর্ণ। ডোভারে নোঙর করা একটি পর্যটক দলের সদস্যদের নিতে গিয়ে তিনি এই পরিস্থিতির মুখোমুখি হন।।

ডেল্টা টাইমস/সিআর/এনজিটি








  এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ