প্রকাশ: বুধবার, ১২ আগস্ট, ২০২৬, ১১:০৪ এএম (ভিজিট : ৭)

ময়মনসিংহে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে নেওয়া ১২টি খাল খনন ও পুনর্খনন প্রকল্পের মধ্যে ১০টির কাজ শেষ হয়েছে। তবে জমি-সংক্রান্ত জটিলতা ও খননের প্রয়োজন না থাকায় সদর ও ফুলপুর উপজেলার দুটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। ফলে ওই দুই প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ দেওয়া ২ কোটি ৩৭ লাখ ৬২ হাজার ৮৮৫ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া বাস্তবায়ন হওয়া ১০টি খালের কাজ শেষে অব্যয়িত আরও ৩ কোটি ৪১ লাখ ৪৯ হাজার ৯৪৫ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে খাল খনন কর্মসূচির ৫ কোটি ৭৯ লাখ ১২ হাজার ৮৩০ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত গেছে।
জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ময়মনসিংহের ১০টি উপজেলায় ১২টি খাল খনন ও পুনর্খনন প্রকল্পের জন্য ১৪ কোটি ৬৩ লাখ ৫৩ হাজার ৩১৬ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। এর মধ্যে প্রায় ৪৫ কিলোমিটার খালের খনন ও পুনর্খননের কাজ সম্পন্ন হয়েছে।
সূত্র জানায়, ফুলপুর উপজেলার রূপসী ইউনিয়নের জারুল খাল পুনর্খননের জন্য ১ কোটি ৫৪ লাখ ৫৩ হাজার ৩৮৫ টাকা বরাদ্দ ছিল। তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পরিদর্শনে দেখা যায়, খালটিতে পর্যাপ্ত পানি প্রবাহ ও প্রয়োজনীয় গভীরতা রয়েছে। এ কারণে প্রকল্পটি বাতিল করা হয় এবং পুরো বরাদ্দ সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়।
অন্যদিকে, সদর উপজেলার চকশ্যামরামপুর খাল খননের জন্য ৮৩ লাখ ৯ হাজার ৫০০ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হলেও জমির মালিকানা নিয়ে আদালতে মামলা চলমান থাকায় প্রকল্পটির কাজ শুরু করা সম্ভব হয়নি। পরে বিকল্প খাল খননের প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হলেও সেটি অনুমোদন পায়নি। ফলে ওই প্রকল্পের বরাদ্দও ফেরত দিতে হয়েছে।
এ বিষয়ে জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা রেজাউল করিম বলেন, যেসব খালের কাজ সম্পন্ন হয়েছে, সেগুলোর মাধ্যমে পানি নিষ্কাশন সহজ হবে, জলাবদ্ধতা কমবে এবং সেচব্যবস্থার উন্নতি হবে। এতে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, বাস্তবায়িত প্রকল্পগুলো বর্ষা ও মৌসুমি বৃষ্টির সময় পানি নিষ্কাশনে সহায়ক ভূমিকা রাখবে। তবে ভবিষ্যতে প্রকল্প গ্রহণের আগে জমি-সংক্রান্ত জটিলতা এবং প্রকৃত প্রয়োজনীয়তা যাচাই আরও গুরুত্বের সঙ্গে করা হলে বরাদ্দ ফেরতের মতো পরিস্থিতি এড়ানো সম্ভব হবে।
ডেল্টা টাইমস/সিআর/এমই