প্রকাশ: রোববার, ৯ আগস্ট, ২০২৬, ৭:০৫ পিএম আপডেট: ০৯.০৮.২০২৬ ৭:১৬ পিএম (ভিজিট : ৯)

ছবি: ডেল্টা টাইমস
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বিদ্যমান বিভিন্ন সমস্যা ও মতপার্থক্য দুই দেশের সরকারপ্রধানের বৈঠকের মাধ্যমে সমাধান করা সম্ভব বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী।
আজ রোববার (৯ আগস্ট) বিকেলে রাজধানীর ইন্ডিয়ান ভিসা অ্যাপ্লিকেশন সেন্টারে (আইভ্যাক) শিশুদের জন্য নতুন একটি খেলার জায়গা উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
দীনেশ ত্রিবেদী জানান, তিনি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বক্তব্য একাধিকবার শুনেছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, তারেক রহমান জনদরদি নেতা। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকেও তিনি একইভাবে জনগণের প্রতি দায়বদ্ধ নেতা হিসেবে উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, ‘আমি তারেক রহমানের ভাষণ অনেকবার শুনেছি। তিনি একজন জনদরদী মানুষ, আমাদের প্রধানমন্ত্রীও তাই। আমার মনে হয়, যখন দুই নেতা মিলিত হন, তখন অনেক সমস্যার সমাধান হয়ে যায়। এ বিষয়ে আমার পূর্ণ আস্থা আছে।’
দুই দেশের জনগণের মধ্যেও পারস্পরিক সম্পর্ক ও সহযোগিতার বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব রয়েছে উল্লেখ করে ভারতীয় হাইকমিশনার বলেন, ‘জনগণ ঐক্যবদ্ধ আছে এবং অবশ্যই একটি সমাধান বের হবে। আমি এ ব্যাপারে খুবই আত্মবিশ্বাসী। কোনো নেতিবাচক কিছু দেখছি না, পরিস্থিতি ইতিবাচকই আছে।’
এদিকে, বাংলাদেশ ও ভারতের শীর্ষ নেতৃত্বের সম্ভাব্য বৈঠকের আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে আসন্ন ব্রিকস সম্মেলন। ভারত চলতি বছরের ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে ১৮তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের আয়োজন করতে যাচ্ছে। সম্মেলনে বৈশ্বিক সহযোগিতা, বাণিজ্য ও টেকসই উন্নয়নসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ইস্যু গুরুত্ব পাবে।
গত ৪ আগস্ট ভারত নিশ্চিত করে, বর্তমান বিমসটেক সভাপতি হিসেবে ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের আউটরিচ অধিবেশনে অংশ নিতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। এর পাশাপাশি, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর দ্বিপক্ষীয় সফরে ভারত যাওয়ার জন্যও তাকে পৃথক আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল গত ৭ আগস্ট নয়াদিল্লিতে এক সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
ব্রিকস সম্মেলনে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে জয়সওয়াল বলেন, বর্তমান বিমসটেক সভাপতি হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে সম্মেলনের আউটরিচ অধিবেশনে যোগ দেওয়ার জন্য ভারত আলাদাভাবে আমন্ত্রণ জানিয়েছে।
তিনি বলেন, ‘ব্রিকসের আউটরিচ অধিবেশনে আমন্ত্রণ জানানোর ক্ষেত্রে প্রচলিত রীতি অনুসরণ করেই বাংলাদেশকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। একই প্রক্রিয়ায় অন্যান্য আঞ্চলিক জোটের প্রধানদেরও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।’
বিমসটেকের সদস্য দেশ বাংলাদেশ, ভুটান, ভারত, মিয়ানমার, নেপাল, শ্রীলঙ্কা ও থাইল্যান্ড। আঞ্চলিক সহযোগিতা ও উন্নয়ন জোরদারের লক্ষ্যে বাংলাদেশ গত বছরের এপ্রিলে দুই বছরের জন্য বিমসটেকের সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করে।
এর আগে ব্রিকস সম্মেলনে আমন্ত্রণ পাওয়ার বিষয়ে বাংলাদেশের অবস্থান জানতে চাইলে গত ২৯ জুলাই পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান সাংবাদিকদের বলেছিলেন, বিষয়টি সরকার পর্যালোচনা করছে এবং সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর তা জানানো হবে।
সব মিলিয়ে, ব্রিকস সম্মেলনকে ঘিরে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ এবং সম্ভাব্য দ্বিপক্ষীয় বৈঠক ঢাকা-নয়াদিল্লি সম্পর্কের টানাপোড়েন কমিয়ে নতুন করে সহযোগিতার ক্ষেত্র তৈরির সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ডেল্টা টাইমস/ আরএফ