প্রকাশ: রোববার, ৯ আগস্ট, ২০২৬, ৬:১২ পিএম আপডেট: ০৯.০৮.২০২৬ ৬:১৪ পিএম (ভিজিট : ৭)

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
দেশের ক্রমবর্ধমান বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণে একক কোনো জ্বালানি উৎসের ওপর নির্ভরশীল না থেকে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে উৎসের বৈচিত্র্য নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে নতুন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রকল্প গ্রহণ এবং বড় অবকাঠামো পরিচালনার ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক সক্ষমতা, পরিবেশগত প্রভাব এবং জনগণের দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
আজ রোববার (৮আগস্ট) কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার মাতারবাড়ীতে ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন মাতারবাড়ী আল্ট্রা-সুপারক্রিটিক্যাল কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিদর্শনকালে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের এ নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় তিনি বিদ্যুৎ ও জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিদ্যমান অবকাঠামোর সর্বোচ্চ ব্যবহার, প্রকল্প পরিচালনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি এবং দীর্ঘমেয়াদি সমন্বিত পরিকল্পনার ওপর জোর দেন।
সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে হেলিকপ্টারযোগে মাতারবাড়ী বিদ্যুৎকেন্দ্রের হেলিপ্যাডে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। পরে তিনি প্রকল্পের প্রশাসনিক ভবনে যান। সেখানে বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১২টা ১৫ মিনিট পর্যন্ত প্রকল্পের সার্বিক কার্যক্রম নিয়ে বিস্তারিত ব্রিফিং গ্রহণ করেন।
ব্রিফিংয়ে বিদ্যুৎকেন্দ্রটির বর্তমান অবস্থা, উৎপাদন সক্ষমতা, পরিচালন দক্ষতা, জ্বালানি সরবরাহ ও ব্যবস্থাপনা, রক্ষণাবেক্ষণ, নিরাপত্তাব্যবস্থা এবং সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করা হয়। একই সঙ্গে প্রকল্পের ভবিষ্যৎ সম্প্রসারণ ও আশপাশের এলাকায় বাস্তবায়নের জন্য প্রস্তাবিত বিভিন্ন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রকল্পের পরিকল্পনাও তুলে ধরা হয়।
প্রধানমন্ত্রীকে জানানো হয়, মাতারবাড়ী বিদ্যুৎকেন্দ্রটি দুটি ৬০০ মেগাওয়াট ইউনিটের সমন্বয়ে মোট ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনে সক্ষম। আধুনিক আল্ট্রা-সুপারক্রিটিক্যাল প্রযুক্তিতে নির্মিত এই বিদ্যুৎকেন্দ্রের সঙ্গে কয়লা পরিবহণ ও খালাসের জন্য বন্দর সুবিধা, বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন, অ্যাকসেস রোডসহ বিভিন্ন সহায়ক অবকাঠামো রয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়নে জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (জাইকা) ঋণ সহায়তা দিয়েছে।
ব্রিফিংয়ে আরও জানানো হয়, বিদ্যুৎকেন্দ্রটি বর্তমানে শতভাগ দেশীয় প্রকৌশলী ও জনবল দিয়ে পরিচালিত হচ্ছে। বিষয়টি শুনে সন্তোষ প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি দেশীয় প্রকৌশলী ও কর্মীদের দক্ষতা ও সক্ষমতার প্রশংসা করেন এবং তাদের আরও দক্ষতা অর্জন ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করার জন্য উৎসাহ দেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি নিরাপত্তা শুধু উৎপাদন বাড়ানোর ওপর নির্ভর করে না; এর সঙ্গে জড়িত রয়েছে নির্ভরযোগ্য সরবরাহব্যবস্থা, জ্বালানির উৎসের বৈচিত্র্য, অবকাঠামোর কার্যকর ব্যবহার এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা। তাই নতুন প্রকল্প গ্রহণের আগে অর্থনৈতিক বাস্তবতা, পরিবেশগত প্রভাব এবং জনগণের স্বার্থ বিবেচনা করতে হবে।
তিনি মাতারবাড়ীকে বিদ্যুৎ, জ্বালানি, গভীর সমুদ্রবন্দর এবং শিল্প অবকাঠামোর সমন্বিত কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন। পরিকল্পিতভাবে এসব অবকাঠামো ব্যবহার করা গেলে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদারের পাশাপাশি শিল্পায়ন, বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
পরিদর্শনকালে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ, বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী নিরাপত্তা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামসুল ইসলাম, অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন, বিশেষ রাজনৈতিক সম্পাদক বেলায়েত হোসেন মৃধাসহ অনেকে।
ডেল্টা টাইমস/ আরএফ