আর্টেমিস অভিযান : মহাকাশে নতুন যুগের সূচনা

রেহানা ফেরদৌসী:

মতামত

সবকিছুর শুরু Apollo Program থেকে। ১৯৬৯ সালে মানুষ প্রথম চাঁদে যায়। এরপর দীর্ঘদিন চাঁদে যাওয়ার কার্যক্রম বন্ধ থাকে।

2026-04-06T13:41:38+06:00
2026-04-06T13:41:38+06:00
মঙ্গলবার, ০৭ এপ্রিল, ২০২৬, ২৪ চৈত্র ১৪৩২

আর্টেমিস অভিযান : মহাকাশে নতুন যুগের সূচনা
রেহানা ফেরদৌসী:
প্রকাশ: সোমবার, ৬ এপ্রিল, ২০২৬, ১:৪১ পিএম   (ভিজিট : ৩১)

সবকিছুর শুরু Apollo Program থেকে। ১৯৬৯ সালে মানুষ প্রথম চাঁদে যায়। এরপর দীর্ঘদিন চাঁদে যাওয়ার কার্যক্রম বন্ধ থাকে। পরে নতুনভাবে চাঁদে ফেরার পরিকল্পনা শুরু করে NASA. Artemis Program ২০১৭ সালে মার্কিন সরকার Space Policy Directive 1 জারি করে। যার লক্ষ্য ছিল আবার চাঁদে মানুষ পাঠানো। এই পরিকল্পনার নাম দেয়া হয় Artemis Program. Artemis গ্রিক পুরাণে Apollo-এর যমজ বোন, যার অর্থ: নতুন যুগে চাঁদ অভিযান। Artemis II তৈরি করতে কয়েকটি বড় প্রযুক্তি আগে তৈরি করা হয়, যেমন Space Launch System. বহু বছর ধরে তৈরি (২০১১ থেকে)। অত্যন্ত শক্তিশালী এই রকেট Orion spacecraft যা মানুষ বহনের জন্য ডিজাইন করা এবং গভীর মহাকাশে নিরাপদ ভ্রমণের জন্য তৈরি। এই দুটি প্রযুক্তি ছাড়া Artemis II সম্ভব ছিল না। Artemis I মিশন শুধু NASA–এর নয়, এটি একটি আন্তর্জাতিক প্রকল্প। Canadian Space Agency এতে অংশগ্রহণ করে ও অন্যান্য দেশ এই মিশনে যুক্ত আছে।

Artemis I (আর্টেমিস ১) ছিলো মানবজাতিকে আবার চাঁদে পাঠানোর জন্য নেওয়া বিশাল পরিকল্পনা Artemis Program–এর প্রথম ধাপ। এটি ছিল একটি মানববিহীন (uncrewed) মিশন, যার মাধ্যমে ভবিষ্যতে মানুষকে নিরাপদে চাঁদে পাঠানোর প্রযুক্তি পরীক্ষা করা হয়। এটি কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে উৎক্ষেপণ করা হয় ১৬ নভেম্বর ২০২২সালে NASA সংস্থা থেকে। ওরিয়ন মহাকাশযানটি চাঁদের কক্ষপথে ২৫ দিন অবস্থান করে। এর লক্ষ্য ছিলো চাঁদের চারপাশে ঘুরে পৃথিবীতে ফিরে আসা। মিশনে নভোচারী হিসেবে কোন মানুষ  ছিল না ডামি/ম্যানিকিন ব্যবহার করা হয়। মিশনে ব্যবহৃার করা হয় রকেট ও মহাকাশ Space Launch System (SLS)। এটি বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী রকেটগুলোর একটি।এর কাজ ছিলো ওরিয়ন মহাকাশযানকে মহাকাশে পাঠানো। এই Orion spacecraft ভবিষ্যতে নভোচারীদের বহন করবে।এই মিশনের প্রধান উদ্দেশ্য ছিলো মহাকাশযানের নিরাপত্তা পরীক্ষা, চাঁদের দূরত্বে গিয়ে সিস্টেম ঠিকমতো কাজ করে কিনা দেখা, পৃথিবীতে নিরাপদে ফিরে আসার প্রযুক্তি যাচাই করা এবং ভবিষ্যতে মানুষ পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়া। ডামির (mannequin) মাধ্যমে তাপ, বিকিরণ (radiation), কম্পনের প্রভাব পরীক্ষা, বিশেষ সেন্সরের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করা হয়। রকেট উৎক্ষেপণের পর ওরিয়ন চাঁদের দিকে যায়, চাঁদের চারপাশে দূরবর্তী কক্ষপথে (Distant Retrograde Orbit) ঘোরে, প্রায় ২৫ দিন পর পৃথিবীতে ফিরে আসে এবং প্রশান্ত মহাসাগরে নিরাপদে অবতরণ করে। এই মিশনের মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে যে মানুষকে আবার চাঁদে পাঠানো সম্ভব। ভবিষ্যৎ মিশন Artemis II এ  মানুষ ও Artemis III চাঁদে অবতরণ এর পথ তৈরি করেছে। যা দীর্ঘমেয়াদে মঙ্গল গ্রহে যাওয়ার পরিকল্পনার ভিত্তি তৈরি করছে। সহজভাবে বললে আর্টেমিস ১ হলো “প্র্যাকটিস মিশন”। আর্টেমিস ১ এর উৎক্ষেপণের মাধ্যমে নাসা চাঁদে মানুষ পাঠানোর লক্ষ্যে প্রথম ধাপ সম্পন্ন করেছে। এই মিশনের সফলতার ওপরই নির্ভর করেছে আর্টেমিস ২ ও ৩-এর ভাগ্য।

Artemis II NASA–এর প্রথম মানববাহী (crewed) চাঁদ মিশন যা Artemis Program–এর দ্বিতীয় ধাপ। এটি প্রায় ৫৩ বছর পর প্রথমবার মানুষকে আবার চাঁদের দিকে পাঠানোর মিশন। এটি উৎক্ষেপণ করা হয়েছে এপ্রিল ২০২৬ (সফলভাবে শুরু হয়েছে)। এর মিশন চাঁদের চারপাশে ঘুরে আসা (flyby) যার সময়কাল প্রায় ১০ দিন। এতে নভোচারী ৪ জন। এই মহাকাশযান এর নাম Orion spacecraft এবং রকেট এর নাম Space Launch System. Artemis II খুব পরিকল্পিতভাবে পরিচালিত হয়েছে। পৃথিবী থেকে রকেটের মাধ্যমে মহাকাশ যাত্রায় প্রথমে পৃথিবীর কক্ষপথে ঘোরে চাঁদের পথে যাত্রা (Trans-lunar injection) করবে। ইতোমধ্যে মিশনের ৫ম দিনে শক্তিশালী ইঞ্জিন বার্ন করে চাঁদের দিকে যাত্রা শুরু করেছে। চাঁদের পাশ দিয়ে উড়ে যাওয়ার সময় চাঁদের খুব কাছে গিয়ে ৪,০০০–৬,০০০ মাইল দূরত্ব থেকে ঘুরে আসবে। কোনো অবতরণ (landing) করা হবে না। Free-return trajectory এর মাধ্যমে এমনভাবে ঘোরানো হবে যে নিজেই পৃথিবীতে ফিরে আসবে এবং অতিরিক্ত জ্বালানি কম লাগবে। পৃথিবীতে প্রত্যাবর্তনের সময় বায়ুমণ্ডলে প্রবেশের সময় অত্যন্ত উচ্চ গতিতে (≈২৫,০০০ mph) প্রবেশ শেষে সমুদ্রে অবতরণ (splashdown) করবে। মিশনের প্রধান উদ্দেশ্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। মানুষের জন্য নিরাপত্তা পরীক্ষা, লাইফ সাপোর্ট (oxygen, পানি, তাপমাত্রা) পরীক্ষা , Orion মহাকাশযানের কার্যকারিতা যাচাই, পথ নির্দেশনা, যোগাযোগ ও গতি প্রদানের মাধ্যমে তথ্যগুলো বিশ্লেষণ করা। পাশাপাশি গভীর মহাকাশে মানুষের সক্ষমতা পরীক্ষা, শরীরের উপর radiation ও মানসিক প্রভাব পরীমাপ করা এবং ভবিষ্যৎ চাঁদে অবতরণের প্রস্তুতির জন্য Artemis III-এর জন্য groundwork তৈরি করা। আর্টেমিস ২ খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি মিশন কারণ এটি Apollo যুগের পর প্রথম মানববাহী চাঁদ মিশন যা ভবিষ্যতে চাঁদে বসতি ও মঙ্গল গ্রহে যাওয়ার ভিত্তি তৈরি করছে । আর্টেমিস ২ এর মাধ্যমে মানুষ এখন পর্যন্ত যত দূরে গেছে তার থেকেও বেশি দূরে যাবে, উন্নত ক্যামেরা ও প্রযুক্তি দিয়ে চাঁদের নতুন তথ্য সংগ্রহ করবে।

সহজভাবে বললে,
* Artemis I = পরীক্ষা (মানুষ ছাড়া)
* Artemis II = মানুষ নিয়ে ঘুরে আসা
* Artemis III = চাঁদে নামা

Artemis মিশন কোনো একদিনে তৈরি হয়নি—এটি দশকের পরিকল্পনা, গবেষণা, এবং প্রযুক্তিগত উন্নয়নের ফল। এটি মানবজাতির জন্য একটি বড় পদক্ষেপ, যা ভবিষ্যতে চাঁদে বসতি স্থাপন এবং মঙ্গল গ্রহে যাওয়ার পথ তৈরি করছে।

সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী (৬ এপ্রিল ২০২৬): মহাকাশযানটি ইতিমধ্যে পৃথিবীর কক্ষপথ ছেড়ে গভীর মহাকাশে প্রবেশ করেছে। এটি এখন চাঁদের মহাকর্ষীয় প্রভাব অঞ্চলে (lunar sphere of influence) ঢুকে পড়ছে বা ঢুকে গেছে। আজকেই এটি চাঁদের ফার সাইড (পেছনের অংশ) এর পাশ দিয়ে উড়ে যাবে। চাঁদের পৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৪,০০০–৬,০০০ মাইল দূর দিয়ে ফ্লাইবাই করবে।


লেখক: সহ সম্পাদক,সমাজকল্যাণ বিভাগ, পুলিশ নারী কল্যাণ সমিতি (পুনাক)।

ডেল্টা টাইমস/রেহানা ফেরদৌসী/সিআর/এমই








  এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ  
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. জাহাঙ্গীর আলম, নির্বাহী সম্পাদক: মো. আমিনুর রহমান
প্রকাশক কর্তৃক ৩৭/২ জামান টাওয়ার (লেভেল ১৪), পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত
এবং বিসমিল্লাহ প্রিন্টিং প্রেস ২১৯ ফকিরাপুল, মতিঝিল থেকে মুদ্রিত।

ফোন: ০২-২২৬৬৩৯০১৮, ০২-৪৭১২০৮৬০, ০২-৪৭১২০৮৬২, ই-মেইল : deltatimes24@gmail.com, deltatimes24@yahoo.com
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. জাহাঙ্গীর আলম, নির্বাহী সম্পাদক: মো. আমিনুর রহমান
প্রকাশক কর্তৃক ৩৭/২ জামান টাওয়ার (লেভেল ১৪), পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত
এবং বিসমিল্লাহ প্রিন্টিং প্রেস ২১৯ ফকিরাপুল, মতিঝিল থেকে মুদ্রিত।
ফোন: ০২-২২৬৬৩৯০১৮, ০২-৪৭১২০৮৬০, ০২-৪৭১২০৮৬২, ই-মেইল : deltatimes24@gmail.com, deltatimes24@yahoo.com