প্রকাশ: বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, ২:৪১ পিএম (ভিজিট : ১১)

রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) পরিচালক অধ্যাপক কাজী আহমেদ জাকিকে তাঁর কার্যালয়ে ঢুকে মারধর করা হয়েছে। বুধবার (২৮ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে তাঁর কক্ষের ভেতরে এ ঘটনা ঘটে।
আইইডিসিআরের পরিচালক অধ্যাপক কাজী আহমেদ জাকি অভিযোগ করেছেন, বিএনপিপন্থী চিকিৎসকদের সংগঠন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) কর্মীরা মব সৃষ্টি করে এ ঘটনা ঘটিয়েছেন।
অধ্যাপক কাজী আহমেদকে মারধরের ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, তিনি নিজের কক্ষে কয়েকজন ব্যক্তির সঙ্গে বৈঠক করছিলেন। এ সময় আট থেকে নয়জন ব্যক্তি তাঁর কক্ষে ঢোকেন। তাঁরা তাঁকে চেয়ার থেকে টেনে তুলে মারধর শুরু করেন।
ড্যাবের সভাপতি অধ্যাপক হারুন আল রশিদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘ওর (কাজী আহমেদ) তো কিছু দোষ আছে।’
কী দোষ জানতে চাইলে তিনি মুঠোফোনে থাকা একটি ছবি দেখিয়ে বলেন, ‘এই সরকারের সময় কাজী আহমেদ কী করে মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরার সঙ্গে তাঁর নিজের অফিসে বৈঠক করে?’
জনস্বাস্থ্যবিদ মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর এবং আইইডিসিআরের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। করোনাভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ে সংবাদমাধ্যমে ব্রিফিং করে তিনি পরিচিতি পান। পরে তিনি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালকের দায়িত্ব পান।
মারধরের সময় অধ্যাপক কাজী আহমেদের কক্ষে উপস্থিত থাকা একজন জনস্বাস্থ্যবিদ নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, যাঁরা তাঁকে মারধর করেছেন, তাঁদের তিনি আগে কখনো আইইডিসিআরে দেখেননি।
জনস্বাস্থ্যবিদ ও আইইডিসিআরের সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মুশতাক হোসেন এ ঘটনার নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, আইইডিসিআরে নিজের কক্ষে পরিচালককে মারধর অত্যন্ত নিন্দনীয় ঘটনা। এ ঘটনার তদন্ত করতে হবে এবং দোষী ব্যক্তিদের শাস্তি দিতে হবে।
আইইডিসিআর সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। দেশে রোগের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ, গবেষণা পরিচালনা ও রোগের প্রাদুর্ভাব সম্পর্কে সতর্কবার্তা দেওয়াসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাজ করে সংস্থাটি।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) এবং যুক্তরাষ্ট্রের রোগনিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্রের (সিডিসি) মতো আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গেও যৌথভাবে কাজ করে আইইডিসিআর।
বিএনপি সরকার গঠনের পর আইইডিসিআরের পরিচালক পদে অধ্যাপক কাজী আহমেদ জাকিকে নিয়োগ দেওয়া হয়। তিনি একজন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ। সম্প্রতি হামের টিকার কার্যকারিতা নিয়ে গবেষণা করেছেন তিনি।