প্রকাশ: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:৫৭ পিএম (ভিজিট : ০)

খেলাধুলা ও আনন্দময় কার্যক্রমের মাধ্যমে শিশুদের শেখার আগ্রহ বাড়ানো এবং তাদের শিখনদক্ষতা যাচাইয়ের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) পুরান ঢাকার কোতোয়ালি থানার মাহুতুলি রেনেসাঁ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং প্রসন্ন পোদ্দার লেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শনকালে তিনি এই অভিমত ব্যক্ত করেন।
এ সময় তিনি শিক্ষার্থীদের মাঝে লার্নিং টয়েস (শিখন উপকরণ) বিতরণ করেন এবং খেলাধুলার মাধ্যমে তাদের শিখনদক্ষতা পর্যবেক্ষণ করেন। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের প্রাথমিক স্তরের মৌলিক শিখনদক্ষতা যাচাই করেন।
বিদ্যালয় পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রী প্রত্যক্ষ করেন যে, লার্নিং টয়েস ব্যবহার করে শিশুরা অত্যন্ত আনন্দের সঙ্গে বিভিন্ন জটিল ধারণা ও বিষয় সহজেই আয়ত্ত করতে পারছে। প্রচলিত মুখস্থ নির্ভর বা গতানুগতিক পদ্ধতির চেয়ে খেলনা ও হাতে-কলমে শেখার উপকরণের মাধ্যমে শিশুরা অনেক দ্রুত বিষয়গুলো অনুধাবন করতে সক্ষম হচ্ছে।
তিনি উল্লেখ করেন, এ ধরনের আধুনিক উপকরণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে পড়াশোনার প্রতি বাড়তি আগ্রহ, উদ্দীপনা ও স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ বাড়াতে অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে কেবল বিদ্যালয়ের অবকাঠামো উন্নয়ন বা শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করাই যথেষ্ট নয়; বরং প্রতিটি শিশু শ্রেণিকক্ষে প্রকৃতপক্ষে কী শিখছে, নির্ধারিত শিখনফল অর্জন করতে পারছে কি না এবং শিক্ষকরা কতটা কার্যকরভাবে পাঠদান করছেন—তা নিয়মিত যাচাই করতে হবে।’
তিনি আরো বলেন, গণিত ও ইংরেজিসহ মৌলিক শিখনদক্ষতার ক্ষেত্রে যেসব ঘাটতি রয়েছে, তা নিপুণভাবে চিহ্নিত করে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নিতে হবে। শ্রেণিভিত্তিক শিখনফল যাচাই এবং শিশুদের উপযোগী আনন্দময় ও অংশগ্রহণমূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে এসব ঘাটতি কাটিয়ে ওঠার ওপর জোর দেন তিনি।
পরিদর্শনের অর্জিত অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে লার্নিং টয়েসসহ কার্যকর শিখন পদ্ধতিগুলো সারা দেশের প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে কিভাবে আরো বিস্তৃত করা যায়, সে বিষয়েও চিন্তাভাবনা চলছে বলে জানান তিনি।
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে প্রধান শিক্ষকের শূন্য পদ পূরণের বিষয়ে বড় ঘোষণা দিয়ে প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ জানান, বর্তমানে দেশে প্রায় সাড়ে ৩৪ হাজার প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। এসব পদে দ্রুত নিয়োগ সম্পন্ন করতে সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি)-র সঙ্গে আলোচনা চলছে।
তিনি জানান, নিয়োগ প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করা গেলে বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম ও প্রাতিষ্ঠানিক নেতৃত্ব আরো গতিশীল ও কার্যকর হবে। পাশাপাশি দায়িত্ব পালনে দক্ষ ও অভিজ্ঞ শিক্ষকদের পদোন্নতির বিষয়টিও সরকারের সক্রিয় বিবেচনায় রয়েছে। বিদ্যমান নিয়োগবিধি ও পিএসসির প্রক্রিয়া অনুসরণ করে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
প্রধান শিক্ষক নিয়োগ সম্পন্ন হওয়ার পর সহকারী শিক্ষক নিয়োগের নতুন প্রয়োজনীয়তা তৈরি হবে বলেও জানান তিনি।
বিদ্যালয়গুলো পরিদর্শনকালে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর এবং স্থানীয় প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন।