শিক্ষার্থীদের ক্যারিয়ার গঠন ও লাইব্রেরিমুখী করতে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির দ্বিতীয় তলার পুরো অংশকে জব কর্নারে রূপান্তরের পরিকল্পনা নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান এ তথ্য জানিয়েছেন।
রবিবার (২৫ অক্টোবর) দুপুর ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান মিলনায়তনে আইন অনুষদের উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানটি ছিল ১৮তম বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস (বিজেএস) পরীক্ষায় সহকারী জজ পদে সুপারিশপ্রাপ্ত ১৯ শিক্ষার্থীর সংবর্ধনা।
উপাচার্য বলেন, "দায়িত্ব গ্রহণের পর আমি জব কর্নার-২ চালু করেছি। এবার লাইব্রেরির দ্বিতীয় তলার পুরো অংশকে জব কর্নারে রূপান্তরের পরিকল্পনা নিয়েছি। শিক্ষার্থীদের দক্ষ করে গড়ে তোলা এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার সক্ষমতা তৈরিতে প্রশাসন প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিয়ে যাবে। শিক্ষার্থীদের অর্জনের পেছনে বিভাগ ও অনুষদের শিক্ষকদের ভূমিকা থাকলেও তাদের নিজেদের প্রচেষ্টাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যেও শিক্ষার্থীরা নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণ করছেন। শুধু আইন অনুষদ নয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের সব অনুষদের শিক্ষার্থীদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে প্রশাসন প্রয়োজনীয় লজিস্টিক সহায়তা অব্যাহত রাখবে।"
সুপারিশপ্রাপ্তদের উদ্দেশে তিনি বলেন, "মহান সৃষ্টিকর্তা উত্তম পরিকল্পনাকারী। যারা সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন, তারা দায়িত্ব পালনের জন্য নির্বাচিত হয়েছেন। প্রত্যেকেরই অর্পিত দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সৃষ্টিকর্তার কাছে জবাবদিহির পাশাপাশি দেশ ও মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতা রয়েছে।"
ন্যায়বিচার প্রসঙ্গে উপাচার্য বলেন, "প্লেটোর ধারণা অনুযায়ী, যোগ্যতা অনুসারে প্রত্যেককে তার প্রাপ্য প্রদান করাই ন্যায়বিচার। বিচারকদের দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে এ ধারণাকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা উচিত। বিবেক ও নৈতিকতার ভিত্তিতে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতাও বজায় রাখতে হবে।"
দেশের বিচারব্যবস্থা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, "বাংলাদেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে বিচার বিভাগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। দেশের অনেক আইন এখনো ঔপনিবেশিক শাসনামলের বৈশিষ্ট্য বহন করছে। আইন বিষয়ে পড়াশোনার ক্ষেত্র বহুমাত্রিক হওয়ায় শিক্ষার্থীদের দেশে-বিদেশে বিভিন্ন পেশায় কাজ করার সুযোগ রয়েছে।"
তিনি আরও বলেন, "সাধারণ মানুষ, কৃষক, শ্রমিক ও মেহনতি মানুষের কষ্টার্জিত অর্থে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালিত হয়। তাই শিক্ষার্থীদের শিক্ষার পেছনে এসব মানুষের অবদান স্মরণ রাখতে হবে এবং পেশাগত দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রেও তাদের প্রতি দায়বদ্ধ থাকতে হবে।"
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে উপাচার্য বলেন, "পছন্দের কোনো পেশায় সুযোগ না পেলেই জীবনের সম্ভাবনা শেষ হয়ে যায় না। আইন বিষয়ে অধ্যয়ন করা শিক্ষার্থীদের সামনে বিভিন্ন পেশায় নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করার সুযোগ রয়েছে। তাই কোনো একটি লক্ষ্য পূরণ না হলে হতাশ না হয়ে বিকল্প সুযোগ কাজে লাগাতে হবে।"
আইন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. নাজিমুদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমতাজ হোসেন, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. ইদ্রিস আলী ও রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. আতিকুর রহমান। এছাড়া আইন অনুষদের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও সুপারিশপ্রাপ্তরা উপস্থিত ছিলেন।
জানা গেছে, ১৮তম বিজেএস পরীক্ষায় ইবি থেকে ১৯ জন শিক্ষার্থী সিভিল জজ হিসেবে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন। আইন অনুষদের তিনটি বিভাগের মধ্যে আইন বিভাগ থেকে ১৪ জন, ল' অ্যান্ড ল্যান্ড অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বিভাগ থেকে ৪ জন এবং আল-ফিকহ অ্যান্ড ল' বিভাগ থেকে ১ জন রয়েছেন।
ডেল্টা টাইমস/এ আর খালিদ/সিআর