প্রকাশ: শনিবার, ৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:৪৭ পিএম (ভিজিট : ১০)

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় সরকারের প্রত্যাশা অনুযায়ী কাজ করছে বলে মন্তব্য করেছেন সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।
শনিবার (৩ অক্টোবর) সকালে দিনাজপুর সরকারি কলেজে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের রংপুর বিভাগীয় পর্যায়ের আন্তকলেজ ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
সমাজকল্যাণমন্ত্রী বলেন, সরকারের নির্বাচনী ইশতিহারে থাকা ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ কর্মসূচি দেশব্যাপী বাস্তবায়নে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে। শিক্ষাখাতকে জীবনঘনিষ্ঠ করতে সরকারের অগ্রাধিকারভিত্তিক বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়নেও বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান প্রশাসন কাজ করছে।
তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের শুধু পাঠ্যবইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে খেলাধুলা, প্রযুক্তি, ভাষাশিক্ষা ও কর্মমুখী প্রশিক্ষণের সঙ্গে যুক্ত করতে হবে। ‘শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হবে মানুষ তৈরির ক্যাম্পাস, দলবাজির ক্যাম্পাস হবে না।’
মন্ত্রী আরও বলেন, তরুণদের ফ্রিল্যান্সিং ও আধুনিক প্রযুক্তির সুফল পেতে প্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ ও দিকনির্দেশনা প্রয়োজন। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজগুলোর অবকাঠামো কাজে লাগিয়ে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর কাছে এসব প্রশিক্ষণ দ্রুত পৌঁছে দেওয়া সম্ভব।
‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শারীরিক শিক্ষা ও সংস্কৃতিবিষয়ক দপ্তরের উদ্যোগে এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে। রংপুর বিভাগের বিভিন্ন কলেজ থেকে জেলা পর্যায়ে প্রথম স্থান ও স্বর্ণপদক পাওয়া ১ হাজার ১৫৪ জন শিক্ষার্থী-অ্যাথলেট এতে অংশ নিচ্ছেন। তাঁদের মধ্যে ৭৫৪ জন ছাত্র ও ৪০০ জন ছাত্রী। ফুটবল, ক্রিকেট, ভলিবল, কাবাডি, সাঁতার ও অ্যাথলেটিকসসহ মোট ৭২টি ইভেন্টে প্রতিযোগিতা হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহ বলেন, উচ্চশিক্ষার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে দেখতে হবে। তাঁরা যেন সুস্থ, আত্মবিশ্বাসী ও দায়িত্বশীল মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে পারেন, সেটিই লক্ষ্য।
তিনি জানান, সময়ের সঙ্গে বিশ্বব্যবস্থা ও কর্মবাজারের পরিবর্তনের কারণে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কোর্স ও কারিকুলাম হালনাগাদ করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে সংস্কারকাজ শুরু হয়েছে। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে সংশোধিত আইসিটি সিলেবাস অনলাইনে প্রকাশ করা হবে। শিক্ষার্থী ও সরকারের চাহিদা বিবেচনায় ভবিষ্যতে বিভিন্ন পেশাভিত্তিক ও দক্ষতাভিত্তিক কোর্স চালু করা হবে।
দিনাজপুরে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি আঞ্চলিক ক্যাম্পাস প্রতিষ্ঠার ঘোষণাও দেন উপাচার্য। তিনি বলেন, আঞ্চলিক পর্যায়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা গেলে শিক্ষার্থীদের কাছে শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ আরও সহজে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক বলেন, ক্রীড়া খাতে সরকার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার ভিত্তিতে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের ধরে রাখতে ক্রীড়া ভাতা চালু করা হয়েছে। প্রতিটি জেলায় ‘স্পোর্টস ভিলেজ’ এবং উপজেলায় স্টেডিয়াম নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে।
তরুণদের দক্ষতা বৃদ্ধির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর গত সাত মাসে তরুণদের দক্ষতা উন্নয়নে দুটি প্রশিক্ষণ সেশন সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। তিন মাসের প্রশিক্ষণ নিয়ে অংশগ্রহণকারীদের অনেকে ফ্রিল্যান্সিংয়ের মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা আয় করছেন। কর্মসংস্থান নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
এর আগে কলেজ মাঠে জাতীয় পতাকা ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকা উত্তোলন এবং বেলুন উড়িয়ে প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করা হয়। তিন দিনব্যাপী প্রতিযোগিতা আগামী ৬ অক্টোবর ফাইনালের মধ্য দিয়ে শেষ হবে। বিভাগীয় পর্যায়ে বিভিন্ন ইভেন্টে প্রথম হয়ে স্বর্ণপদক পাওয়া প্রতিযোগীরা পরবর্তী সময়ে জাতীয় পর্যায়ের চূড়ান্ত ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন।
অনুষ্ঠানে দিনাজপুর সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ মো. লুৎফর রহমান, দিনাজপুর সদর আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম, বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজ পরিদর্শক (ভারপ্রাপ্ত) নাজিম উদ্দিন আহমেদ, জেলা প্রশাসক মো. রফিকুল ইসলাম, পুলিশ সুপার মো. জেদান আল মুসাসহ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শারীরিক শিক্ষা ও সংস্কৃতিবিষয়ক দপ্তরের পরিচালক মোহাম্মদ শফিউল করিম অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন।