প্রকাশ: বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:১৪ পিএম (ভিজিট : ০)

সংগৃহীত ছবি
প্রধানমন্ত্রী কন্যা জাইমা রহমানের জাতিসংঘ সদর দপ্তরে নিয়োগের বিষয়ে সরকারের ন্যূনতম কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তার কার্যালয়ের মুখপাত্র ড. মাহদী আমিন।
তিনি বলেন, তিনি ( জাইমা রহমান) নিজের যোগ্যতার ভিত্তিতে পি-৩ পজিশন নিয়োগপ্রাপ্ত হয়েছেন। যার জন্য পাঁচ বছর অভিজ্ঞতা প্রয়োজন হয়। এবং উনার যে প্রোফাইল তার সঙ্গে ম্যাচ করা। সুতরাং আমার মনে হয় এই যে নিজ যোগ্যতায়, নিজ মেধায় একটা মানুষ জাতিসংঘে উনার মতন করে প্রতিনিধিত্ব করছেন উনার নিজের প্রফেশনাল ক্যারিয়ারের জন্য। এর সঙ্গে সরকারের ন্যূনতম কোথাও কোনো সম্পৃক্ততা নেই। বরং আমরা দেখেছি যে পূর্ববর্তী যে ধারা ছিলো যেখানে হয়তো কেউ রাজনৈতিক কারণে জাতিসংঘে পারিবারিক প্রভাব বলে সৃষ্টি করতে চাইতেন।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রাজধানীর তেজগাঁও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কবরী হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে অংশগ্রহণ, অধিবেশনের বিভিন্ন কার্যক্রম, বিশ্ব নেতাদের সঙ্গে বৈঠক এবং নিউইয়র্ক সফরের সার্বিক বিষয় নিয়ে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
ড. মাহাদী আমিন বলেন, জাতিসংঘের ৮১তম অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা, স্বনির্ভর, আধুনিক ও মানবিক বাংলাদেশের জন্য বর্তমান সরকারের পলিসি তুলে ধরেছেন। বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের অংশগ্রহণ ও অবদান তুলে ধরেছেন। প্রধানমন্ত্রীর সুদৃঢ় নেতৃত্ব বিশ্ব নেতাদের কাছে সমাদৃত হয়েছে। বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশের ভাবমূর্তিকে উজ্জ্বল করেছে। বৈশ্বিক কূটনীতিতে আত্মমর্যাদাশীল জায়গায় নিয়ে গেছে।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর এই সফরে বিশ্ব দরবারে তিনি বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রার বার্তা দিয়েছেন এবং যে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির আলোকে আজকে রাষ্ট্র পরিচালনায় বিএনপি রয়েছে। কীভাবে জনগণের ভাগ্যের পরিবর্তন হবে, তার সমীকরণ এবং আধুনিক বাংলাদেশ গড়ে তোলা হবে, জনকল্যাণমূলক এবং মানবিক রাষ্ট্র নির্মাণ করা হবে সেটার জন্য উনি দেশের অভ্যন্তরীণ সব পরিকল্পনা, প্রোগ্রাম এবং পলিসি তুলে ধরেছেন। একই সঙ্গে একটি গণতান্ত্রিক শান্তিকামী রাষ্ট্র হিসেবে বিশ্ব শান্তিরক্ষায় বাংলাদেশের ভূমিকা কী হতে পারে, সে বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা দিয়েছেন। এবং আন্তর্জাতিকভাবে অত্যন্ত আন্তরিকভাবে সেটি গৃহীত হয়েছে।
মাহাদী আমিন বলেন, শুধু বাংলাদেশ বা আশেপাশে দেশগুলো নয়, প্রধানমন্ত্রী ১১টা মিটিং মাত্র ৪ দিনে করেছেন। এর বাইরেও যখন প্রধানমন্ত্রী (তারেক রহমান) ট্রাম্পের ইনভাশনে গিয়েছিলেন সেখানে অনেক দেশের সরকার প্রধান ছিলেন। যখন জাতিসংঘের মহাসচিবের আমন্ত্রণে গিয়েছিলেন সেখানেও বিভিন্ন দেশের সরকার প্রধান ছিলেন। উনাদের সঙ্গে আন্তরিক হৃদ্রতাপূর্ণ সম্পর্ক করেছে এবং এমন একজন প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন যার রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে রাজনৈতিক ক্ষমতার একমাত্র উৎস জনগণ। সে কারণে সব বিশ্বনেতাদের কাছে তিনি সর্বোচ্চ সম্মান পেয়েছেন। মর্যাদা পেয়েছেন এবং উনার সম্মান আর মর্যাদা মানে তো বাংলাদেশের আত্মসম্মান। এই আত্মমর্যাদা বিগত সমযয়ের চাইতে একটা ভিন্ন অবস্থায় বাংলাদেশকে নিয়ে গেছে।
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের মুখপাত্র বলেন, খুব কঠিন একটা সময় রাষ্ট্রপরিচালনার দায়িত্ব নিয়েছি। এবং অবশ্যই গ্যাস বা জ্বালানি তেলের দাম, বিদ্যুতের দাম বাংলাদেশে বেড়েছে। কিন্তু শুধু বাংলাদেশ না, বিশ্বের প্রতিটি দেশে বেড়েছে। তারপরও পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর চেয়ে বাংলাদেশে তেলের দাম যথেষ্ট কম। সো ইন জেনারেল যেহেতু মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ হচ্ছে। সব জায়গায় সর্বাধিক সমস্যা রয়েছে। সবাই দাম বাড়িয়েছে ধাপে ধাপে বাংলাদেশের চেষ্টা করা হয়েছিল যতটা সম্ভব এই দামটা দেরিতে বাড়ানোর জন্য। তারপরও চেষ্টা রয়েছে সরকারের দিক থেকে যতটা সম্ভব আমাদের যেন জনসাধারণের কষ্ট না হয়। এবং বাজার ব্যবস্থাকে যদি আরো শান্ত করার প্রয়োজন হয় সেক্ষেত্রে আমাদের যে উদ্যোগ সেটা চলমান থাকবে।
সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন- প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী, অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন।