প্রকাশ: বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:১৮ পিএম (ভিজিট : ০)

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ফাইল ছবি
প্রবীণ নাগরিকদের আর্থিক নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যসেবা ও মর্যাদাপূর্ণ জীবন নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ লক্ষ্যে বয়স্ক ভাতা সম্প্রসারণের পাশাপাশি ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে আর্থিক সহায়তা, প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার সম্প্রসারণ এবং সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) ‘আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস-২০২৬’ উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে তিনি এ কথা বলেন। এবারের দিবসের প্রতিপাদ্য ‘দীর্ঘায়ুর যুগ: দীর্ঘ জীবন নিশ্চিত করতে ব্যবস্থাপনায় নতুন ভাবনা (দ্য এইজ অব লংজিভিটি: রিথিংকিং সিস্টেমস ফর লংগার লাইভস)’।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাস্থ্যসচেতনতা এবং চিকিৎসাবিজ্ঞানের অগ্রগতির ফলে বিশ্বজুড়ে মানুষের গড় আয়ু বাড়ছে। দীর্ঘায়ু নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি করছে; একই সঙ্গে দীর্ঘ ও মর্যাদাপূর্ণ জীবন নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্য, সামাজিক সুরক্ষা ও পারিবারিক সহায়তার ব্যবস্থাগুলোকে সময়োপযোগী করার প্রয়োজনীয়তাও সামনে আনছে।
তিনি বলেন, প্রবীণদের স্বার্থরক্ষায় সরকার সচেতন ও সতর্ক। কল্যাণমুখী ও মানবিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় প্রবীণ নাগরিকদের সামাজিক নিরাপত্তা, আর্থিক সুরক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও মর্যাদাপূর্ণ জীবন নিশ্চিত করতে সরকার বহুমুখী কর্মপরিকল্পনা নিয়েছে। নির্বাচনি ইশতেহারে উল্লিখিত কল্যাণমুখী রাষ্ট্রের ধারণার আলোকে দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর সামাজিক সুরক্ষা জোরদারে নানা পদক্ষেপও বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। প্রবীণদের সুস্বাস্থ্য বজায় রাখা, সামাজিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় রাখা এবং সামাজিক সুরক্ষা কাঠামোর আওতায় আনতে সরকার নিরন্তর কাজ করছে।
আর্থিক নিরাপত্তার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বয়স্ক ভাতার পরিমাণ বাড়ানো হয়েছে এবং উপকারভোগীর সংখ্যাও সম্প্রসারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি সরকারের অন্যতম নির্বাচনী অঙ্গীকার ‘ফ্যামিলি কার্ড’-এর কার্যক্রম এগিয়ে চলেছে।
প্রবীণদের পরিবার ও সমাজের ভিত্তি উল্লেখ করে তিনি বলেন, তাঁদের ত্যাগ, অভিজ্ঞতা ও প্রজ্ঞার ওপর দাঁড়িয়েই আজকের বাংলাদেশ গড়ে উঠেছে। তাই কল্যাণমূলক, ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক বাংলাদেশ গড়তে প্রবীণদের প্রতি যত্নশীল দৃষ্টিভঙ্গি অপরিহার্য। পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র—এই তিন স্তরেই প্রবীণদের প্রতি সম্মান, সহানুভূতি ও দায়িত্বশীলতার চর্চা অব্যাহত রাখা জরুরি। এ জন্য জীবনচক্রভিত্তিক সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও সুসংহত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার প্রবীণদের স্বার্থরক্ষায় সম্ভাব্য সব পদক্ষেপ নেবে। তবে রাষ্ট্র ও সমাজে আবহমান কালের ধর্মীয়, সামাজিক ও পারিবারিক মূল্যবোধ যত বেশি বজায় থাকবে, প্রবীণদের যত্ন, সম্মান ও মর্যাদা তত বেশি সুরক্ষিত থাকবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন।
দিবসটি উপলক্ষে দেশের সব প্রবীণ নাগরিককে আন্তরিক শ্রদ্ধা ও শুভেচ্ছা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁর সরকারের লক্ষ্য এমন একটি কল্যাণমূলক রাষ্ট্র গড়ে তোলা, যেখানে তরুণ কিংবা প্রবীণ—প্রতিটি মানুষ নিজের সর্বোচ্চ সম্ভাবনা কাজে লাগিয়ে মর্যাদাপূর্ণ ও পরিপূর্ণ জীবনযাপন করতে পারবে। তিনি ৩৬তম আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস ২০২৬-এর সার্বিক সফলতা কামনা করেন।