বায়ুদূষণে কমছে সাড়ে পাঁচ বছর আয়ু, প্রতিবছর মৃত্যু লক্ষাধিক

ডেল্টা টাইমস ডেস্ক:

আবহাওয়া ও পরিবেশ

বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে বিদ্যমান আইন ও নীতির কার্যকর বাস্তবায়ন, নিয়মিত পরিবীক্ষণ, প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহি এবং নাগরিক অংশগ্রহণ নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছেন

2026-09-29T16:36:49+06:00
2026-09-29T16:36:49+06:00
মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১৫ আশ্বিন ১৪৩৩

১৫ দফা দাবি যুব ও নাগরিক সমাজের
বায়ুদূষণে কমছে সাড়ে পাঁচ বছর আয়ু, প্রতিবছর মৃত্যু লক্ষাধিক
ডেল্টা টাইমস ডেস্ক:
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:৩৬ পিএম   (ভিজিট : ২৭)
সংগৃহীত ছবি

সংগৃহীত ছবি

বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে বিদ্যমান আইন ও নীতির কার্যকর বাস্তবায়ন, নিয়মিত পরিবীক্ষণ, প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহি এবং নাগরিক অংশগ্রহণ নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছেন যুব ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা। এসব বিষয়সহ ১৫ দফা দাবি তুলে ধরা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে ব্রিদ কোয়ালিশন আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি জানানো হয়। ‘ব্রিদিং ইন দ্য গ্রে: ফ্রম পলিসি গ্যাপস টু পাবলিক অ্যাকশন ফর ক্লিন এয়ার’ শীর্ষক এই সম্মেলনে বক্তারা বলেন, বায়ুদূষণ এখন জনস্বাস্থ্য, পরিবেশ ও পরিবেশগত ন্যায়বিচারের জন্য গুরুতর উদ্বেগের কারণ। তাঁদের ভাষ্য, পরিষ্কার বায়ু কোনো বিলাসিতা নয়; এটি মানুষের সুস্থ ও মর্যাদাপূর্ণ জীবনের মৌলিক অধিকার।

সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন সূর্যোদয় ইয়ুথ সোসাইটির পরিচালক রায়হান নোমান নূরনবী। সঞ্চালনা করেন সুন্দরবন ও উপকূল সুরক্ষা আন্দোলনের সমন্বয়ক নিখিল চন্দ্র ভদ্র। মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন সেন্টার ফর অ্যাটমোসফেরিক পলিউশন স্টাডিজ (ক্যাপস)-এর পরিচালক অধ্যাপক আহমেদ কামরুজ্জামান মজুমদার। আলোচনায় অংশ নেন একশনএইড বাংলাদেশের প্রোগ্রাম অফিসার মো. মাসুদ পারভেজ অভি ও স্মার্ট এয়ার বাংলাদেশের অপারেশন ম্যানেজার মো. আশরাফুল ইসলামসহ অন্যরা।

মূল বক্তব্যে আহমেদ কামরুজ্জামান মজুমদার বলেন, বায়ুদূষণ একটি অদৃশ্য ও জীবনঘাতী সংকট। এর কারণে বাংলাদেশিদের গড় আয়ু প্রায় ৫ দশমিক ৫ বছর কমে যাচ্ছে। প্রতিবছর বায়ুদূষণজনিত রোগে মারা যাচ্ছেন ১ লাখ ২ হাজার ৪৫৬ জন। তাই দূষণ নিয়ন্ত্রণে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার তাগিদ দেন তিনি। আইনের কঠোর প্রয়োগ, প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহি ও নাগরিক অংশীদারত্বের মাধ্যমে সবার জন্য নিরাপদ ও পরিষ্কার বায়ু নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।

সব বিশ্ববিদ্যালয়ে বায়ু গবেষণা সেল গঠনের সুপারিশ করে এই অধ্যাপক বলেন, ‘বায়ু ছাড়া আমরা এক মিনিটও বাঁচতে পারি না। অথচ সেই বায়ু নিয়ে গবেষণা খুবই কম। গবেষণা ছাড়া সঠিক নীতিনির্ধারণ সম্ভব নয়।’ তিনি আরও বলেন, শুধু সমস্যা তুলে ধরলেই হবে না, টেকসই সমাধানে যুবসমাজকে সক্রিয় অংশীদার করতে হবে। তথ্যভিত্তিক গবেষণা ও স্বচ্ছতার মাধ্যমে নীতি বাস্তবায়নের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে নিয়মিত গঠনমূলক আলোচনা চালিয়ে যেতে হবে বলেও মত দেন তিনি।

একশনএইডের মাসুদ পারভেজ অভি বলেন, বায়ুদূষণে শিশু, প্রবীণ, অসুস্থ ব্যক্তি ও কর্মজীবী মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। এই ঝুঁকি মোকাবিলায় ১৫ দফা দাবি বাস্তবায়ন জরুরি।

সংবাদ সম্মেলনে উত্থাপিত দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে বায়ুদূষণ (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা, ২০২২-সহ বিদ্যমান সব নীতি ও কর্মপরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়ন। পরিবেশ অধিদপ্তর, বিআরটিএ, সিটি করপোরেশন ও পুলিশের সমন্বয়ে যৌথ টাস্কফোর্স গঠনের কথাও বলা হয়েছে। এ ছাড়া অভিযোগ জানাতে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম বা হটলাইন চালু এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে অভিযোগ নিষ্পত্তির দাবি জানানো হয়। ‘পলিউটার পেজ প্রিন্সিপল’ অনুযায়ী দূষণকারী শিল্প ও স্থাপনার কাছ থেকে জরিমানা ও ক্ষতিপূরণ আদায় এবং প্রয়োজনে লাইসেন্স স্থগিতের কথা বলা হয়েছে দাবিনামায়।

ঢাকা ও সব বিভাগীয় শহরে পর্যাপ্ত বায়ুমান পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন ও সেগুলো সচল রাখার দাবিও জানানো হয়। জনবহুল স্থানে ডিজিটাল ডিসপ্লে বোর্ডে রিয়েল-টাইম বায়ুমান সূচক (এক্যুআই) প্রদর্শন ও দৈনিক বায়ুমান বুলেটিন প্রকাশের কথাও বলা হয়েছে।

নির্মাণ এলাকায় ধুলা নিয়ন্ত্রণে নির্মাণসামগ্রী ঢেকে রাখা ও নিয়মিত পানি ছিটানোর দাবি জানানো হয়েছে। ফিটনেসবিহীন ও কালো ধোঁয়া নির্গমনকারী যানবাহনের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা এবং খোলা জায়গায় বর্জ্য ও প্লাস্টিক পোড়ানো বন্ধে কার্যকর নজরদারির কথাও এসেছে দাবিনামায়। চরম দূষণের সময় জনস্বাস্থ্য সতর্কতা জারি এবং ট্রাফিক পুলিশ ও শ্রমজীবী মানুষের জন্য উপযুক্ত মাস্ক সরবরাহের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া স্থানীয় পর্যায়ে বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে বাজেট ও সরঞ্জাম বাড়ানো, গণমাধ্যম ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সারা বছর জনসচেতনতা কার্যক্রম চালানো, সরকারি নীতি প্রণয়ন ও মূল্যায়নে তরুণ গবেষক ও ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়। সরকারি তদারকি ও বাস্তবায়ন কমিটিতে ব্রিদ কোয়ালিশনসহ যুব প্ল্যাটফর্মগুলোকে স্বাধীন পরিবীক্ষক অংশীদার হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার দাবিও তোলা হয়।

ডেল্টা টাইমস/সিআর/এফএএইচ








  এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ