দখল-দূষণে জর্জরিত বুড়িগঙ্গা-ধলেশ্বরী, দখলদারদের শাস্তির দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক:

আবহাওয়া ও পরিবেশ

বুড়িগঙ্গা ও ধলেশ্বরী নদীর তীরে গড়ে ওঠা কলকারখানা, দখল ও দূষণের ভয়াবহ চিত্র সরেজমিনে দেখলেন পরিবেশবাদী সংগঠনের নেতারা।

2026-09-26T17:03:07+06:00
2026-09-26T17:03:07+06:00
শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

দখল-দূষণে জর্জরিত বুড়িগঙ্গা-ধলেশ্বরী, দখলদারদের শাস্তির দাবি
নিজস্ব প্রতিবেদক:
প্রকাশ: শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:০৩ পিএম   (ভিজিট : ০)
সংগৃহীত ছবি

সংগৃহীত ছবি

বুড়িগঙ্গা ও ধলেশ্বরী নদীর তীরে গড়ে ওঠা কলকারখানা, দখল ও দূষণের ভয়াবহ চিত্র সরেজমিনে দেখলেন পরিবেশবাদী সংগঠনের নেতারা। শনিবার সকালে লঞ্চে চড়ে নদী পরিদর্শন শেষে তাঁরা বলেছেন, নদীর কান্না আজ চোখে দেখা গেছে। দখলদার ও দূষণকারীদের তালিকা করে দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

বিশ্ব নদী দিবস ২০২৬ উপলক্ষ্যে শনিবার সকালে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বসিলা লঞ্চ ঘাট থেকে লঞ্চযোগে ‘বুড়িগঙ্গা ও ধলেশ্বরী নদীর দখল-দূষণের বর্তমান অবস্থা সরেজমিনে পরিদর্শন’ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা), বেলা, এএলআরডি, নাগরিক উদ্যোগ, বারসিক, বাদাবন সংঘ, ক্যাপস, ডব্লিউবিবি ট্রাস্ট, গ্রীন ভয়েসসহ দেশের পরিবেশ ও নদীপ্রেমী ২৩টি সংগঠনের যৌথ উদ্যোগে এই কর্মসূচি আয়োজিত হয়।

বাপার সহসভাপতি মহিদুল হক খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি ছিলেন নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য আনিসুর রহমান তালুকদার খোকন এমপি। আরও উপস্থিত ছিলেন বাপার কোষাধ্যক্ষ মো. আমিনুর রসুল, সাংগঠনিক সম্পাদক মিহির বিশ্বাস, যুগ্ম সম্পাদক শাহজাহান মৃধা বেনু, হুমায়ুন কবির সুমন, ড. হালিমদাদ খান, নির্বাহী সদস্য ফরিদুল ইসলাম ফরিদ, স্থায়ী সদস্য শোভন কমল, বিআইডব্লিউটিএর পরিচালক মো. আলমগীর কবির, ডব্লিউবিবি ট্রাস্টের পরিচালক গাউস পিয়ারী, সিডাব্লিউএফের চেয়ারম্যান শাহ্ ইশরাত আজমেরী, এএলআরডির সানজিদা খাতুন রিপা, বারসিকের জাহাঙ্গীর হোসেনসহ আয়োজক সংগঠনগুলোর নেতৃবৃন্দ এবং গ্রীন ভয়েসের বিভিন্ন শাখার যুব প্রতিনিধিরা।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে আনিসুর রহমান তালুকদার খোকন এমপি বলেন, বাংলাদেশের প্রাণ হচ্ছে নদী। প্রকৃতি ও মানুষের জীবন-জীবিকার সঙ্গে নদী ওতপ্রোতভাবে জড়িত। কিন্তু এই নদী আজ হুমকির মুখে। যারা নদীকে গলা টিপে হত্যা করার চেষ্টা করছে, তাদের প্রত্যেককে আইনের আওতায় আনা উচিত বলে তিনি মন্তব্য করেন। নদীদখলকারী ও দূষণকারীদের তালিকা প্রকাশ এবং তাদের শাস্তির দাবি জানান তিনি।

তিনি বলেন, নিজের নির্বাচনী এলাকায় মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে যেভাবে অভিযান পরিচালিত হয় এবং অপরাধীদের নাম থানায় লিপিবদ্ধ থাকে, একইভাবে পরিবেশ ও নদী-খালের ক্ষতিসাধনকারীদেরও চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা উচিত। বর্তমান সরকার নদীমাতৃক বাংলাদেশের প্রাণ এই নদীকে রক্ষায় বদ্ধপরিকর বলেও তিনি জানান।

সভাপতির বক্তব্যে মহিদুল হক খান বলেন, বাপা দুই দশকের বেশি সময় ধরে নদী রক্ষায় কাজ করে যাচ্ছে। দেশের সব নদী আজ দখল-দূষণে জর্জরিত উল্লেখ করে তিনি দ্রুত দখলদারদের তালিকা তৈরি করে শাস্তি নিশ্চিতের দাবি জানান।

বিআইডব্লিউটিএর পরিচালক আলমগীর কবির বলেন, পরিবেশবাদী সংগঠন ও সাংবাদিকদের আন্দোলন ও লেখালেখির কারণেই ১৯৯৯ সালে প্রথম নদী উচ্ছেদ কার্যক্রম শুরু হয়েছিল, যাতে পরবর্তী সময়ে হাইকোর্টও হস্তক্ষেপ করে। বর্তমান সরকারের আগ্রহে আগামী পাঁচ বছরে ঢাকার আশপাশের নদীসহ শহরের ভেতরের সব নদীকে ভালো অবস্থায় ফেরানো সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

বাপার সাধারণ সম্পাদক আলমগীর কবির (বাপা) বলেন, বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে ১ হাজার ৪১৫টি নদীর তালিকা করা হয়েছে, যদিও আরও অনেক নদী ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। তিনি জানান, ২০০৯ সালে হাইকোর্টে রিটের পর নদীর সীমানা পিলার জিগজ্যাগভাবে বসিয়ে দখলদারদের একরকম বৈধতা দেওয়া হয়েছে। নদীর একক অভিভাবক হিসেবে জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনকে স্বাধীন ও কার্যকর প্রতিষ্ঠান করার দাবি জানান তিনি। পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, নদীর বুকে শাহ সিমেন্ট, স্ক্যান সিমেন্টসহ বিভিন্ন কারখানা এবং জেটি নির্মিত হয়েছে প্রশাসনের নাকের ডগায়, অথচ প্রশাসন নির্বিকার। দখলদারদের উচ্ছেদ করে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণসহ শাস্তির দাবি জানান তিনি।

বাপার সাংগঠনিক সম্পাদক মিহির বিশ্বাস বলেন, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সমন্বয়ের ঘাটতি দূর করা গেলেই নদী রক্ষা সম্ভব হবে। সিডাব্লিউএফের চেয়ারম্যান শাহ্ ইশরাত আজমেরী বলেন, নদী দূষণমুক্ত করতে জীববৈচিত্র্য রক্ষায় সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি দখলদারদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন প্রয়োজন।

কর্মসূচিতে ১০ দফা দাবি জানানো হয়। দাবিগুলো হলো—

১. বুড়িগঙ্গা ও ধলেশ্বরীর পুনরায় সীমানা জরিপ করে দ্রুত নদীভূমি দখলমুক্ত করা।
২. নদীতে শিল্পবর্জ্য ও পয়ঃবর্জ্য ফেলার সব অবৈধ সংযোগ বন্ধ করা।
৩. সব শিল্পকারখানার ইটিপি সার্বক্ষণিক সচল ও অনলাইন মনিটরিং নিশ্চিত করা।
৪. দূষণকারী শিল্পপ্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া।
৫. নদীতীরের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে নদীর মূল প্রবাহ ফিরিয়ে দেওয়া।
৬. নদীর পানি, তলানি ও জীববৈচিত্র্যের নিয়মিত বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা করা।
৭. নদীতে প্লাস্টিক, পলিথিন ও জাহাজের তেল-বর্জ্য ফেলা বন্ধ করা।
৮. সংশ্লিষ্ট সব সরকারি সংস্থাকে নিয়ে সময়বদ্ধ সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা।
৯. রাষ্ট্রকে প্রাকৃতিক সম্পদের অভিভাবকসুলভ রক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করা।
১০. জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনকে স্বাধীন সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা দেওয়া।








  এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ