প্রকাশ: সোমবার, ৩১ আগস্ট, ২০২৬, ৪:০৫ পিএম আপডেট: ৩১.০৮.২০২৬ ৪:০৭ পিএম (ভিজিট : ৭)

শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন
রমজান মাসকে সামনে রেখে আগামী এসএসসি পরীক্ষা ফেব্রুয়ারিতে নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতি ও পড়াশোনা রিভিউয়ের জন্য পর্যাপ্ত সময় দিতে রমজান শেষে পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন।
সোমবার (৩১ আগস্ট) দুপুরে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সভাকক্ষে সাম্প্রতিক চীন সফর নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এসএসসি পরীক্ষার সময়সূচি নির্ধারণের ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতি, শিক্ষাবর্ষের কার্যক্রম এবং রমজান, সব বিষয় বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। জানুয়ারিতে পরীক্ষা শুরু হলে তা ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত চলবে। এরপর ১০ ফেব্রুয়ারি থেকে রমজান শুরু হয়ে ১০ মার্চ পর্যন্ত চলবে। ফলে ওই সময়ে পরীক্ষা আয়োজন করা সম্ভব নয়।
তিনি বলেন, এসএসসি পরীক্ষাকে ভবিষ্যতে একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নিয়ে আসতে চায় সরকার। বর্তমানে বিভিন্ন সময়ে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হলেও ফেব্রুয়ারিকে এসএসসি পরীক্ষার জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত সময় হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে এসএসসি পরীক্ষার সময়সূচির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষাগুলোও নির্দিষ্ট সময়ে আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।
ড. মিলন বলেন, ফেব্রুয়ারিতে এসএসসি পরীক্ষা নেওয়ার পরিকল্পনা থাকলেও রমজানের কারণে এবার তা সম্ভব হচ্ছে না। রমজানের আগে পরীক্ষা নেওয়ার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। সংশ্লিষ্টদের অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে পরীক্ষা এগিয়ে আনার বিষয়টিও বিবেচনা করা হয়। তবে এতে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা রিভিউয়ের জন্য পর্যাপ্ত সময় পাওয়া নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়।
তার ভাষ্য, দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের ক্লাস ও সিলেবাস শেষ হলেও নবম শ্রেণির পড়াশোনা রিভিউয়ের জন্য আরও সময় প্রয়োজন। পরীক্ষার আগে এই প্রস্তুতি ও রিভিউ শিক্ষার্থীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তাই তাড়াহুড়া করে পরীক্ষা নেওয়ার চেয়ে শিক্ষার্থীদের পর্যাপ্ত সময় দেওয়াকেই গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, রমজানের পর পরীক্ষা নিলে কিছুটা বিলম্ব হবে—এটি সত্য। তবে রমজান একটি বাস্তবতা এবং এর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই পরীক্ষার সময়সূচি নির্ধারণ করতে হবে। সরকার কোনোভাবেই শিক্ষার্থীদের ক্ষতিগ্রস্ত করতে চায় না।
রমজানের আগে পরীক্ষা নেওয়ার দাবির বিষয়ে তিনি বলেন, কেউ কেউ পরীক্ষা এগিয়ে আনার প্রস্তাব দিয়েছেন। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে সেটি বাস্তবায়ন করা সম্ভব হচ্ছে না। সব দিক বিবেচনা করে রমজানের পরেই এসএসসি পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
পরীক্ষা আরও পেছানোর সম্ভাবনা আছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে ড. মিলন বলেন, আপাতত পরীক্ষা পেছানোর কোনো কারণ দেখা যাচ্ছে না। জাতীয় পর্যায়ে কোনো বিশেষ পরিস্থিতি তৈরি না হলে নির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ীই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।
তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য যথেষ্ট সময় দেওয়া হয়েছে। প্রায় দেড় বছর আগেই তাদের পরীক্ষার বিষয়ে জানানো হয়েছে। ফলে শিক্ষার্থীরা সেই অনুযায়ী প্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগ পেয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন এবং কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. দাউদ মিয়াসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ডেল্টা টাইমস/আরএফ