প্রকাশ: শনিবার, ২৯ আগস্ট, ২০২৬, ১২:২৮ পিএম (ভিজিট : ৫)

মেহেরপুরের গাংনীতে বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাউবি) ডিগ্রি প্রথম বর্ষের পরীক্ষায় বই-গাইড খুলে এবং মুঠোফোন ব্যবহার করে উত্তর লেখার অভিযোগ উঠেছে। কাজিপুর ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্রের ওই ঘটনায় কয়েকজন পরীক্ষার্থীকে বহিষ্কারের সুপারিশ করা হয়েছে। অনিয়মের সঙ্গে জড়িত অন্যদের বিষয়ে তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে বাউবি কর্তৃপক্ষ।
শনিবার (২৯ আগস্ট) দুপুরে এসব তথ্য জানান বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (ভারপ্রাপ্ত) মো. হাবিবুল্যাহ মাহমুদ।
তিনি বলেন, ঘটনার পর নিয়ম অনুযায়ী তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তিনি নিজে ওই পরীক্ষা কেন্দ্রে অবস্থান করছেন। সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কর্মকর্তারাও সেখানে উপস্থিত রয়েছেন। অনিয়মের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
কতজন পরীক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়েছে— এ বিষয়ে নির্দিষ্ট সংখ্যা জানাতে পারেননি পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক। তিনি বলেন, ভিডিও ফুটেজে যাদের অনিয়মের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে, তাদের বিষয়ে কেন্দ্র থেকে বহিষ্কারের সুপারিশ করা হয়েছে। অবশিষ্ট বিষয়গুলো বাউবির শৃঙ্খলা কমিটিতে উপস্থাপন করা হবে।
শৃঙ্খলা কমিটি সংশ্লিষ্ট নথিপত্র ও অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে বলেও জানান তিনি। শিক্ষক বা পরীক্ষাকেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা অন্য কারও বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিষয়টি তদন্তাধীন। তদন্ত শেষে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদন ও সাংবাদিকদের ধারণ করা ভিডিওতে দেখা যায়, কাজিপুর ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্রে বাউবির ডিগ্রি প্রথম বর্ষের ইংরেজি প্রথম পত্রের পরীক্ষা চলাকালে কয়েকজন পরীক্ষার্থী বেঞ্চের ওপর বই ও গাইড খুলে রেখে উত্তর লিখছেন। কয়েকজন পরীক্ষার্থীর কাছে মুঠোফোনও দেখা যায়।
স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়, পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে জনপ্রতি ৫০০ টাকা নেওয়ার বিনিময়ে বই, গাইড ও মুঠোফোন ব্যবহার করে পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। তবে এই অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
পরীক্ষাকেন্দ্রে দায়িত্ব পালন করা শিক্ষকেরা পরীক্ষার্থীদের অনিয়মে বাধা দেননি—এমন অভিযোগও উঠেছে। বরং তারা অনিয়ম চলাকালে সেখানে উপস্থিত ছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
এ ছাড়া পরীক্ষার অনিয়মের ভিডিও ধারণ করতে গেলে সাংবাদিকদের সঙ্গে দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকদের বিরোধ ও হামলার ঘটনা ঘটে বলে স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনেও উল্লেখ করা হয়।
ডেল্টা টাইমস/সিআর/এমই