পর্নোগ্রাফি কনটেন্ট তৈরি-বিক্রির অভিযোগ, ইনফ্লুয়েন্সার সুমাইয়া গ্রেপ্তার

ডেল্টা টাইমস ডেস্ক:

অপরাধ

সোশ্যাল মিডিয়ায় পর্নোগ্রাফিক কনটেন্ট তৈরি, প্রচার ও বিক্রির অভিযোগে রাজধানী থেকে সুমাইয়া সাঈদ (২৫) নামে এক ইনস্টাগ্রাম ইনফ্লুয়েন্সারকে

2026-08-19T17:11:11+06:00
2026-08-19T17:11:11+06:00
বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৬, ৫ ভাদ্র ১৪৩৩

পর্নোগ্রাফি কনটেন্ট তৈরি-বিক্রির অভিযোগ, ইনফ্লুয়েন্সার সুমাইয়া গ্রেপ্তার
ডেল্টা টাইমস ডেস্ক:
প্রকাশ: বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৬, ৫:১১ পিএম   (ভিজিট : ৩)

সোশ্যাল মিডিয়ায় পর্নোগ্রাফিক কনটেন্ট তৈরি, প্রচার ও বিক্রির অভিযোগে রাজধানী থেকে সুমাইয়া সাঈদ (২৫) নামে এক ইনস্টাগ্রাম ইনফ্লুয়েন্সারকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।


বাড্ডার ‘ঢাকা পপুলার ট্রাভেলস’ থেকে তার প্রধান সহযোগী খাজা সাকলাইন ফারুককেও গ্রেপ্তার করে পুলিশ ডিবির সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (দক্ষিণ) বিভাগ।

এ ঘটনায় মেয়ের অনৈতিক কার্যক্রম অবহিত থেকেও তার উপার্জনে সম্মতি থাকা এবং অর্থ গ্রহণের অভিযোগে সুমাইয়ার বাবা মো. আবু সাঈদকেও আসামি করা হয়েছে মামলায়।

বুধবার (১৯ আগস্ট) ডিএমপি'র গোয়েন্দা-সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম দক্ষিণ বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মো. তরিকুল ইসলাম বলেন, একটি চক্র পর্নোগ্রাফি উৎপাদন করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ইনস্টাগ্রাম ও টেলিগ্রামসহ বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে তৈরিকৃত পর্ণ ভিডিও এবং ছবি বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে নির্দিষ্ট টেলিগ্রাম গ্রুপ/চ্যানেলে অর্থের বিনিময়ে বিক্রয় করছিল। গ্রাহকদের কাছ থেকে আর্থিক লেনদেনের মাধ্যম হিসেবে এমএফএস (বিকাশ/নগদ) অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করা হতো।


প্রাপ্ত তথ্য ও প্রযুক্তিগত অনুসন্ধানের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অবস্থান শনাক্ত করা হয়, পরবর্তী সময়ে ডিবি সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (দক্ষিণ) বিভাগের একটি টিম ১১ আগস্ট ঢাকার বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে ওই নারীকে গ্রেপ্তার করে। তার হেফাজত থেকে দুটি স্মার্টফোন উদ্ধারপূর্বক জব্দ করা হয়।

গ্রেপ্তার হওয়া নারীর থেকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তার পর্ণ ভিডিও/ছবি তৈরির একজন পার্টনারের তথ্য পাওয়া যায়। ওই তথ্যের ভিত্তিতে তার সহযোগীকে একই দিন রাতে বাড্ডা লিংক রোড এলাকা হতে গ্রেপ্তার করা হয়। তার হেফাজত থেকেও একটি স্মার্টফোন উদ্ধার ও জব্দ করা হয়।


প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ ও জব্দ করা ডিভাইসের তথ্য বিশ্লেষণে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পর্নোগ্রাফিক কনটেন্টের বিজ্ঞাপন, বিক্রয় এবং আর্থিক লেনদেনের সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে প্রাথমিকভাবে সত্যতা পাওয়া যায়। এছাড়া আরও কয়েকজন ব্যক্তি এ কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত রয়েছে বলে তদন্তে তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। তাদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে তদন্ত চলমান রয়েছে।

এ ঘটনায় পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর প্রাসঙ্গিক ধারায় নিয়মিত মামলা দায়ের করে বিস্তারিত তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। জব্দ করা মোবাইল ফোন ফরেনসিক ও প্রযুক্তিগতভাবে পরীক্ষা করা হবে। উক্ত ঘটনার সংশ্লিষ্টদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম অ্যাকাউন্ট, আর্থিক লেনদেন এবং অন্যান্য সহযোগী ব্যক্তিদের সম্পর্কে আরও তথ্য উদ্‌ঘাটনের চেষ্টা চলছে।

ডিসি তরিকুল ইসলাম বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে পর্নোগ্রাফিক কনটেন্ট তৈরি, প্রচার/বিজ্ঞাপন, বিক্রয় বা এ ধরনের অপরাধে সহযোগিতার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ। একই সঙ্গে নাগরিকদের প্রতি অনুরোধ—কোনো ব্যক্তির ব্যক্তিগত বা আপত্তিকর ছবি/ভিডিও অনুমতিসহ বা অনুমতি ব্যতিত ধারণ, সংরক্ষণ, প্রচার, বিক্রি বা অনলাইনে ছড়িয়ে দেওয়া থেকে বিরত থাকুন এবং এ ধরনের অপরাধ সম্পর্কে তথ্য পেলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে অবহিত করুন।








  এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ