মাতৃদুগ্ধ পান শিশুর অধিকার

সেলিনা আক্তার :

মতামত

একটি সুস্থ জাতি গঠনে মায়ের সুস্বাস্থ্যের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কেননা, একজন সুস্থ মা-ই পারেন একজন সুস্থ শিশুর জন্মদান

2026-08-17T15:56:52+06:00
2026-08-17T15:43:27+06:00
সোমবার, ১৭ আগস্ট, ২০২৬, ৩ ভাদ্র ১৪৩৩

মাতৃদুগ্ধ পান শিশুর অধিকার
সেলিনা আক্তার :
প্রকাশ: সোমবার, ১৭ আগস্ট, ২০২৬, ৩:৫৬ পিএম  আপডেট: ১৭.০৮.২০২৬ ৩:৪৩ পিএম  (ভিজিট : ৩)

একটি সুস্থ জাতি গঠনে মায়ের সুস্বাস্থ্যের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কেননা, একজন সুস্থ মা-ই পারেন একজন সুস্থ শিশুর জন্মদান করতে। জন্মের পর নবজাতকের সুস্থতা ও বিকাশের জন্য সবচেয়ে প্রয়োজনীয় এবং অত্যাবশ্যক শিশুখাদ্য হচ্ছে মায়ের দুধ।সন্তানের জন্য মায়ের দুধের পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত তখনই হয়, যখন মা নিজে সুস্বাস্থ্যের অধিকারী হন। 

একটি শিশুর জন্মের পর প্রথম যে উপহারটি সে মায়ের কাছ থেকে পায়, সেটি শুধু খাবার নয়, জীবনের প্রথম সুরক্ষাও। চিকিৎসাবিজ্ঞান তাই মাতৃদুগ্ধকে প্রায়ই শিশুর “প্রথম টিকা” বলা হয়। ২০১০ সাল থেকে বাংলাদেশে বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ পালিত হয়ে আসছে। নবজাতক ও শিশুদের শারীরিক সংকট থেকে মুক্ত করে তাদের বাঁচিয়ে তোলা এবং তাদের স্বাস্থ্য ও শরীরের উন্নতির জন্য মায়ের দুধের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিতেই এই কর্মসূচি পালন করা হয়। একটি পরিবারের আনন্দের কেন্দ্রবিন্দু হচ্ছে শিশু। তাই সুস্থভাবে বেড়ে ওঠা নিশ্চিত করতে সঠিক পরিচর্যার পাশাপাশি শিশুর সুষম খাদ্যগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। জন্মের পর থেকে ছয় মাস বয়স পর্যন্ত শিশুর প্রধান এবং একমাত্র খাবার হলো মায়ের দুধ।বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) এবং UNICEF-এর তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বব্যাপী শিশুদের সঠিকভাবে বুকের দুধ পান করানোর মাধ্যমে প্রতিবছর ৮ লাখ ২০ হাজারেরও বেশি অনূর্ধ্ব-৫ শিশুর প্রাণ রক্ষা করা সম্ভব। 

মাতৃদুগ্ধ শিশুর জন্য একটি সম্পূর্ণ খাবার। এতে শিশুর দেহের উপযোগী উপাদানগুলো যে পরিমাণে থাকে, তাতে ছয় মাস বয়স পর্যন্ত অন্য কোনো খাবার এমনকি পানিরও প্রয়োজন হয় না। মায়ের দুধের সব উপাদান শিশুর দেহে সহজে হজম ও শোষিত হয়। এটি শিশুর মস্তিষ্কের গঠন ও বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। মায়ের বুকের দুধ পানকারী শিশুদের জন্ম-পরবর্তী নানা ধরনের ইনফেকশন হওয়ার আশঙ্কা কম থাকে; শিশুর শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হয়। মায়ের দুধে ভিটামিন ‘এ’ থাকায় শিশু অন্ধত্বের শিকার হয় না। এটি শিশুর শরীরে ক্যালসিয়ামের শোষণ বাড়িয়ে দিয়ে হাড়ের গঠন মজবুত করে। বুকের দুধ খাওয়ার ফলে শিশুর মুখমণ্ডলের হাড় ও মাংসপেশি সুগঠিত হয়। মায়ের দুধে রয়েছে বিশেষ ফ্যাটি অ্যাসিড, যা শিশুর বুদ্ধিদীপ্ততা ও চোখের জ্যোতি বাড়ায়। মায়ের দুধ শৈশবে লিউকোমিয়া হওয়া থেকে রক্ষা করে এবং ডায়াবেটিস টাইপ-১ এবং উচ্চ রক্তচাপ হওয়ার আশঙ্কাও কম থাকে। ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অব এনভায়রনমেন্টাল হেলথ সায়েন্সের গবেষণা অনুযায়ী, মাতৃদুগ্ধ পান শিশু মৃত্যুর হার ২০ শতাংশ কমায়। এছাড়াও, মাতৃদুগ্ধ পানকারী শিশুর ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া, কান ও বুকের ইনফেকশন, কোষ্ঠকাঠিন্য, একজিমা, অ্যালার্জি এবং পূর্ণবয়স্ক অবস্থায় ওবেসিটি (অতিরিক্ত ওজন) ও টাইপ-২ ডায়াবেটিস হওয়ার সম্ভাবনা মাতৃদুগ্ধ না পানকারী শিশুর তুলনায় অনেক কম। তাছাড়া মাতৃদুগ্ধ পানকারী শিশুর বুদ্ধির বিকাশও সঠিক হয়।  মায়ের দুধে প্রায় ১০০ ধরনের উপাদান রয়েছে, যার প্রতিটি উপাদানই শিশুর জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। ছয় মাস বয়স পর্যন্ত শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ানো হলে শতকরা ৯৮ ভাগ ক্ষেত্রে তা জন্মনিয়ন্ত্রণে সহায়ক হয়। মাতৃদুগ্ধ পানকারী শিশুদের মানসিক ও শারীরিক বিকাশ ঘটে পরিপূর্ণভাবে। এতে মায়েদের স্তন ও ডিম্বাশয়ের ক্যান্সার, উচ্চ রক্তচাপ, টাইপ-২ ডায়াবেটিস ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে যোগ্যভাবে কম থাকে।

আধুনিক সমাজ ও চিকিৎসা বিজ্ঞান মাতৃদুগ্ধের অব্যর্থ উপকারিতা প্রমাণ করলেও বাস্তবে কিন্তু অনেক শিশুই জন্মের পর প্রথম ছয় মাস শুধু মায়ের দুধ পাওয়া থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এর পেছনে অন্যতম বড়ো বাধা হলো ভ্রান্ত ধারণা, সঠিক দিকনির্দেশনার অভাব এবং বাজারের প্রক্রিয়াজাত কৌটার দুধ বা 'ফর্মুলা মিল্ক'-এর প্রচারণা।বাংলাদেশে মায়ের দুধ পান নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে অগ্রগতির গতি কমে গেছে। ২০১৯ সালে ছয় মাসের কম বয়সি শিশুদের মধ্যে শুধু মায়ের দুধ পান করার হার ছিল ৬২ দশমিক ৬ শতাংশ। ২০২৫ সালে তা কমে ৫৬ দশমিক ৬ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে জন্মের এক ঘণ্টার মধ্যে শিশুকে মায়ের দুধ খাওয়ানো শুরুর হার ৪৬ দশমিক ৬ শতাংশ থেকে কমে ৩০ দশমিক ৪ শতাংশ হয়েছে। এই পরিস্থিতির জন্য মায়েদের কোনো দোষ নেই, বরং চারপাশের পরিবেশই এর জন্য অনেকাংশে দায়ী। অনেক হাসপাতাল ও ক্লিনিকে মায়ের দুধ খাওয়ানোর সঠিক পরিবেশ নেই, অস্ত্রোপচারে প্রসবের পর ঠিক পরিচর্যা মেলে না, আবার মায়েরা পর্যাপ্ত মাতৃত্বকালীন ছুটিও পান না।সবচেয়ে দুঃখজনক বিষয় হলো, আইন অমান্য করে চারদিকে মায়ের দুধের বদলে কৃত্রিম শিশুখাদ্য বা কৌটার দুধের ব্যাপক প্রচার চলছে। এমনকি যেসব চিকিৎসক বা স্বাস্থ্যকর্মীর ওপর মানুষের সবচেয়ে বেশি ভরসা, তাঁদের অনেকেই মায়েদের বুকের দুধ খাওয়ানো শেখানোর বদলে হাতে বিকল্প খাবারের কৌটা তুলে দিচ্ছেন।

সরকারের জনস্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে আয়োজিত বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ ২০২৬ উপলক্ষ্যে এক সেমিনারে বলা হয়, বাংলাদেশে মাতৃদুগ্ধ পানের হার নিকট অতীতে ভালোই ছিল। ২০২০ সালে উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল প্রথম। বর্তমানে বাংলাদেশের অবস্থান ষষ্ঠ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সদস্যরাষ্ট্রগুলো মাতৃ ও শিশুপুষ্টিবিষয়ক বৈশ্বিক লক্ষ্য সংশোধন করেছে। নতুন লক্ষ্য অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে ছয় মাসের কম বয়সি শিশুদের শুধু মাতৃদুগ্ধ পানের হার অন্তত ৬০ শতাংশে উন্নীত করতে হবে। আগের লক্ষ্য ছিল ২০২৫ সালের মধ্যে হারটি ৫০ শতাংশে নেওয়া। ২০২৪ সালে বিশ্বব্যাপী প্রায় ৪৮ শতাংশ শিশু প্রথম ছয় মাস শুধু মায়ের দুধ পেয়েছে। এই অগ্রগতির ভিত্তিতে ২০২৫ সালের ৭৮তম বিশ্ব স্বাস্থ্য সম্মেলনে লক্ষ্যটি বাড়িয়ে ৬০ শতাংশ করা এবং সময়সীমা ২০৩০ সাল পর্যন্ত সম্প্রসারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

বাংলাদেশকে ২০৩০ সালের মধ্যে ৬০ শতাংশের লক্ষ্য অতিক্রম করতে হলে কর্মজীবী মায়েদের বাস্তব সমস্যার সমাধান করতে হবে। সন্তান জন্মের পর একজন মা হয়তো বুকের দুধ খাওয়াতে আগ্রহী। কিন্তু কাজে ফেরার পর অফিসে দুধ খাওয়ানো বা দুধ বের করার জন্য নিরাপদ জায়গা না থাকলে সেই আগ্রহ ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে।অনেক কর্মস্থলে মায়েরা বিশ্রামকক্ষ, সিঁড়িঘর, স্টোররুম কিংবা শৌচাগার ব্যবহারে বাধ্য হন। কোথাও ব্যক্তিগত গোপনীয়তা নেই, কোথাও দুধ সংরক্ষণের ব্যবস্থা নেই, আবার কোথাও কাজের চাপের কারণে প্রয়োজনীয় বিরতি পাওয়া যায় না। ফলে দুধ জমে ব্যথা, প্রদাহ বা সংক্রমণ হতে পারে এবং ধীরে ধীরে মায়ের দুধ উৎপাদনও কমে যেতে পারে।এ কারণেই সরকারি-বেসরকারি অফিস, ব্যাংক, বিমা প্রতিষ্ঠান, পোশাক কারখানা, হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, শপিং মল, কলকারখানা ও গণপরিবহণ টার্মিনালসহ প্রতিটি বড়ো কর্মস্থলে মাতৃদুগ্ধ বা ব্রেস্টফিডিং কর্নার স্থাপন করা প্রয়োজন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও ইউনিসেফ জানিয়েছে, মাতৃদুগ্ধ-বান্ধব কর্মনীতি কর্মীর অনুপস্থিতি কমায়, দক্ষ নারী কর্মীদের প্রতিষ্ঠানে ধরে রাখতে সাহায্য করে এবং নতুন কর্মী নিয়োগ ও প্রশিক্ষণের ব্যয় কমায়। অর্থাৎ ব্রেস্টফিডিং কর্নার প্রতিষ্ঠা কোনো দয়া বা অতিরিক্ত সুবিধা নয়; এটি মা ও শিশুর অধিকার এবং প্রতিষ্ঠানের জন্যও লাভজনক বিনিয়োগ।

প্রতিটি মায়ের জন্য সন্তান জন্মদান একটি বিশেষ মুহূর্ত। মায়ের জন্য সবচেয়ে মানসিক প্রশান্তির মুহূর্তটিও হলো যখন তিনি সন্তানকে বুকের দুধ পান করান। এর মধ্য দিয়ে মা ও শিশুর মধ্যে একটি শক্তিশালী বন্ধন তৈরি হয়। যদিও এখনও কিছু মা শিশুদের বুকের দুধ খাওয়ানোর বিষয়ে অনাগ্রহ দেখান। জন্মের পর থেকে শিশুকে ফিডার খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলেন। এটা শিশুর জন্য অপূরণীয় ক্ষতি। জন্মের পর থেকে যেসব শিশু বিকল্প দুধ পান করেছে, মাতৃদুগ্ধ পানকারী শিশুর তুলনায় তাদের ডায়রিয়ার আক্রান্তের হার ৩ থেকে ৪ গুণ বেশি এবং শ্বাসতন্ত্রের ইনফেকশনে মৃত্যুর আশঙ্কা চারগুণ বেশি।  নিয়মিত মায়ের দুধ পান করা শিশুদের ডায়রিয়াজনিত মৃত্যুঝুঁকি ১৫ গুণ, নিউমোনিয়াজনিত মৃত্যুঝুঁকি ১১ গুণ এবং অপুষ্টিজনিত মৃত্যুঝুঁকি ১৪ গুণ কমে। একটি স্বনির্ভর জাতি গঠনে ও টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে মাতৃদুগ্ধ খাওয়ানোর কোনো বিকল্প নেই।

বর্তমান সরকার মাতৃ ও শিশুপুষ্টি উন্নয়নকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে মা ও শিশুর পুষ্টি নিশ্চিত করতে "মা ও শিশু সহায়তা কর্মসূচি (MCBP)" ব্যাপকভাবে বাস্তবায়ন ও সম্প্রসারণ করছে। সরকারের প্রধান লক্ষ্য হলো মাতৃ ও শিশু মৃত্যুর হার হ্রাস করা, অপুষ্টি দূর করা এবং শিশুর প্রারম্ভিক বিকাশ নিশ্চিত করা। ২০২৬ সালের সাম্প্রতিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই কর্মসূচির আওতায় আর্থিক সহায়তার পরিমাণ ও উপকারভোগীর সংখ্যা বাড়ানোর পাশাপাশি প্রসব-পূর্ব ও প্রসব-পরবর্তী স্বাস্থ্যসেবা ও টিকাদানকে বাধ্যতামূলকভাবে যুক্ত করা হচ্ছে। দরিদ্র গর্ভবতী মা ও প্রসূতি নারীদের সরাসরি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পুষ্টিকর খাবার কেনার জন্য অর্থ পাঠানো হচ্ছে। মা ও শিশু সহায়তা কর্মসূচি ধারাবাহিকভাবে সম্প্রসারণের পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। এ কর্মসূচিতে আর্থিক সহায়তার পরিমাণ ও উপকারভোগীর সংখ্যা বাড়ানোর পাশাপাশি প্রসবপূর্ব ও প্রসব-পরবর্তী সেবা, টিকাদান এবং প্রাতিষ্ঠানিক ডেলিভারি অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। গর্ভবতী ও স্তন্যদায়ী মায়েদের আয়রন, ফলিক অ্যাসিড এবং মাল্টিপল মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট সাপ্লিমেন্ট (MMS) বিনামূল্যে দেওয়া হচ্ছে। ০-৫৯ মাস বয়সি শিশুদের জন্য ভিটামিন-এ ক্যাপসুল ক্যাম্পেইন এবং নিয়মিত কৃমিনাশক কর্মসূচি চালানো হচ্ছে।তীব্র অপুষ্টিতে ভোগা শিশুদের জন্য বিশেষ থেরাপিউটিক্যাল ফিডিং বা পুষ্টিকর খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। কর্মজীবী মায়েদের ৬ মাস থেকে ৬ বছর বয়সি শিশুদের দেখভালের জন্য ৬৪টি শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্র পরিচালিত হচ্ছে। এসব কেন্দ্রে সুষম খাদ্য, প্রাক-স্কুল শিক্ষা, প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা এবং বিনোদনের ব্যবস্থা রয়েছে। কর্মস্থলে ডে-কেয়ার সেন্টার স্থাপন এবং গার্মেন্টসসহ সব শিল্পকারখানা, অফিস ও আদালতে কর্মরত মায়েদের জন্য 'ব্রেস্ট ফিডিং কর্নার' স্থাপনের বিষয়টি নির্বাচনি ইশতেহারে গুরুত্ব পেয়েছে। দেশব্যাপী গ্রামীণ কমিউনিটি ক্লিনিক ও ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলোর মাধ্যমে মা ও শিশুর বৃদ্ধি পর্যবেক্ষণ এবং পুষ্টি কাউন্সেলিং দেওয়া হচ্ছে। শিশুর জন্মের ১ ঘণ্টার মধ্যে শালদুধ খাওয়ানো এবং প্রথম ৬ মাস কেবল মায়ের দুধ পানের হার বাড়াতে মাঠপর্যায়ে মায়েদের সচেতন করা হচ্ছে। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে বহুখাতভিত্তিক জাতীয় পুষ্টি কর্মপরিকল্পনা তৈরি করা হয়েছে, যার মাধ্যমে ২০৩০ সালের বৈশ্বিক পুষ্টি লক্ষ্যমাত্রা (যেমন: শিশুদের খর্বাকৃতি ও নারীদের অ্যানিমিয়া কমানো) অর্জনে কাজ চলছে। এছাড়াও বাংলাদেশে অসচ্ছল, হতদরিদ্র গর্ভবতী এবং দুগ্ধদানকারী মায়েদের জন্য সরকারিভাবে "মা ও শিশু সহায়তা কর্মসূচি" (যা পূর্বে মাতৃত্বকালীন ভাতা নামে পরিচিত ছিল) চালু রয়েছে। এই কর্মসূচির আওতায় যোগ্য মায়েদের প্রতি মাসে ৮০০ টাকা করে টানা ৩ বছর (৩৬ মাস) মোট ২৮,৮০০ টাকা আর্থিক ভাতা প্রদান করা হয়। 

 

মাতৃদুগ্ধ পান নিশ্চিত করার সাফল্যের ক্ষেত্রে পরিবারের সব সদস্যের শিক্ষা ও সহযোগিতার কোনো বিকল্প নেই। প্রসূতি মাসহ স্বামী ও আত্মীয়স্বজনদের স্তন্যপানের উপকারিতার শিক্ষায় শিক্ষিত করে তুলতে হবে। পাশাপাশি প্রসূতি মা যাতে নির্বিঘ্নে শিশুকে স্তন্যদান করাতে পারেন, সে ব্যাপারে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতে হবে। তাহলেই নবজাতকের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করা সম্ভব হবে এবং আমরা একটি মেধাবী ও সক্ষম জাতি দেশকে উপহার দিতে পারব। পিআইডি ফিচার

লেখক: সহকারী তথ্য অফিসার, 
তথ্য অধদফতর। 


ডেল্টা টাইমস্/সেলিনা আক্তার









  এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ