প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট, ২০২৬, ৬:১৭ পিএম (ভিজিট : ৩)

সংগৃহীত ছবি
জাতীয় ভাবধারাবিরোধী অপসংস্কৃতি প্রতিরোধ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারে সচেতনতা বৃদ্ধিতে গণমাধ্যমকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে। দেশীয় লোকজ সংস্কৃতির চর্চা, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ এবং দেশের ইতিহাস, ভাষা ও ঐতিহ্যের সুষ্ঠু চর্চার মাধ্যমে জাতীয় ভাবধারা গড়ে তুলতে হবে। পাশাপাশি অনলাইন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজস্ব ইতিহাস, ঐতিহ্য ও শিল্প-সাহিত্যের প্রচার বাড়ানো প্রয়োজন।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের উদ্যোগে নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত এক সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন।
সেমিনারে বক্তারা বলেন, সমাজে বৈচিত্র্য স্বাভাবিক। বিভিন্ন শ্রেণি-পেশা ও মতাদর্শের মানুষের চিন্তা, চেতনা, বিশ্বাস ও মতামত ডিজিটাল মাধ্যমে প্রকাশ পায়। তবে দায়িত্বশীলতার অভাবে এসব মতামত কখনো কখনো সামাজিক সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য বিনষ্টের কারণ হতে পারে। তাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে মানুষের কল্যাণ, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও সম্প্রীতি বৃদ্ধির মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করতে হবে।
বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আবদুল বাছির বলেন, সমাজে সবার মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে পারিবারিক ও নৈতিক শিক্ষাকে গুরুত্ব দিতে হবে। সুস্থ ও গঠনমূলক সংস্কৃতি প্রচারে গণমাধ্যমের ইতিবাচক ভূমিকা নিশ্চিত করা জরুরি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম যেন মানুষে মানুষে বিভেদ সৃষ্টির পরিবর্তে পারস্পরিক সম্প্রীতি ও কল্যাণে ব্যবহৃত হয়, সেদিকে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।
তিনি বলেন, ‘ পারস্পরিক শ্রদ্ধা বজায় রেখে অন্যের মতামত শুনতে হবে। অন্যথায় তিক্ততা, অসম্মান ও সংঘাত বাড়তে পারে। একই সঙ্গে সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে শিরোনাম ও মূল বিষয়ের মধ্যে অসামঞ্জস্য, চটকদার বা ক্লিকবেইট ভাষা, তথ্যসূত্রের অনুপস্থিতি, ভুয়া সূত্র, ঘৃণামূলক বক্তব্য এবং পক্ষপাতদুষ্ট শব্দ ব্যবহারের বিষয়ে সাংবাদিকদের সতর্ক থাকতে হবে।’
ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক খুরশীদ আলম বলেন,‘ রাষ্ট্রের অগ্রগতি ও সমৃদ্ধি দেশের নাগরিকদের দেশপ্রেম ও মানবিক মূল্যবোধের ওপর নির্ভরশীল। জাতীয় গণতান্ত্রিক চেতনা বিকাশে গণমাধ্যমের ভূমিকা অপরিসীম। টেলিভিশন, রেডিও ও সংবাদপত্রের সংবাদ এবং বিভিন্ন অনুষ্ঠান দেশের সংস্কৃতি ও নাগরিকদের পরিচয় তুলে ধরে। তাই এসব মাধ্যমে কোনো ধরনের বিদ্বেষমূলক আচরণ বা বক্তব্য যাতে প্রকাশ না পায়, সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।’
দৈনিক দেশ রূপান্তরের বিশেষ প্রতিনিধি রেজাউল করিম লাভলু বলেন,‘ বর্তমানে সমাজে অসহিষ্ণু আচরণ বাড়ছে, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়। এর ফলে জাতীয় ভাবধারায় গণতান্ত্রিক স্থিতিশীলতা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে। তাই তথ্যের সত্যতা ও নির্ভরযোগ্যতা যাচাই না করে কোনো সংবাদ জনগণের সামনে উপস্থাপন করা থেকে বিরত থাকতে হবে। ফ্যাক্ট-চেকিংকে সাংবাদিকতার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।’
দৈনিক সময়ের আলোর ডেপুটি চিফ রিপোর্টার রফিক রাফি বলেন,‘ বর্তমান সময়ে রাজনীতিতে গণতান্ত্রিক ও সামাজিক সংস্কৃতির প্রভাব অনেক ক্ষেত্রে কম লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের বক্তব্য ও উপস্থাপনায় সামাজিক সংস্কৃতির যথাযথ প্রতিফলন না থাকায় জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হয়।’
তিনি বলেন,‘ সাংবাদিকদের অনুদান প্রদানের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে গেজেটভুক্ত তালিকার মতো বার্ষিক কার্যক্রমের প্রকাশনা প্রকাশ করা প্রয়োজন। পাশাপাশি টেলিভিশন ও সংবাদপত্রের সাংবাদিকদের সঙ্গে মোবাইল সাংবাদিকদের কাজের ধরন ও বাস্তবতা বিবেচনায় পৃথক নীতিমালা প্রণয়ন করা হলে জাতীয় ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রম আরও সুন্দরভাবে এবং সামাজিক দায়বদ্ধতার সঙ্গে উপস্থাপন করা সম্ভব হবে।’
রফিক রাফি আরও বলেন, ‘জাতীয় ভাবধারা ও সংস্কৃতির বিকাশে দেশের সাংবাদিকদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে হবে। গণতান্ত্রিক চর্চা ও সঠিক সামাজিক সংস্কৃতি তুলে ধরা শুধু গণমাধ্যমকর্মীদের নয়, প্রতিটি নাগরিকের দায়িত্ব। সামাজিক দায়বদ্ধতার পাশাপাশি জাতীয় গণতন্ত্র রক্ষায় সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।’
সেমিনারে আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশ ফটো জার্নালিস্টস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এ কে এম মহসীন এবং দৈনিক নয়া দিগন্তের চিফ ফটো জার্নালিস্ট নাসিম শিকদার। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের উপপরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ) এ বি এম রফিকুল ইসলাম।
সেমিনারে বক্তারা জাতীয় সংস্কৃতি, ইতিহাস ও ঐতিহ্যকে ধারণ করে দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা চর্চা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং তথ্য যাচাইয়ের মাধ্যমে অপসংস্কৃতি ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রতিরোধে গণমাধ্যমকে আরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানান।
ডেল্টা টাইমস/ আরএফ