জাতির দর্পণে যেন থাকে সততার প্রতিচ্ছবি: মাহদী আমিন

নিজস্ব প্রতিবেদক:

গণমাধ্যম

সাংবাদিকদের দায়িত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তাঁর কার্যালয়ের মুখপাত্র ড. মাহদী আমিন বলেছেন, সাংবাদিকরা জাতির

2026-07-16T16:40:34+06:00
2026-07-16T16:40:34+06:00
বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই, ২০২৬, ২ শ্রাবণ ১৪৩৩

জাতির দর্পণে যেন থাকে সততার প্রতিচ্ছবি: মাহদী আমিন
নিজস্ব প্রতিবেদক:
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই, ২০২৬, ৪:৪০ পিএম   (ভিজিট : ২৩)
সংগৃহীত ছবি

সংগৃহীত ছবি

সাংবাদিকদের দায়িত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তাঁর কার্যালয়ের মুখপাত্র ড. মাহদী আমিন বলেছেন, "সাংবাদিকরা জাতির দর্পণ। ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে যেভাবে আপনারা বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়েছিলেন, ঠিক একইভাবে আজকের পরিবর্তিত পরিস্থিতিতেও সত্য, সঠিক ও ন্যায়সঙ্গত বিষয়গুলো জাতির সামনে তুলে ধরতে হবে।"


বাকস্বাধীনতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সময় দেশে সবচেয়ে বেশি গণমাধ্যমের যাত্রা শুরু হয় এবং তখন কোনো বাকস্বাধীনতা হরণ করা হয়নি।


বৃহস্পতিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) আয়োজিত 'ফল উৎসব-২০২৬'-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।


অনুষ্ঠানের শুরুতে ঐতিহাসিক ১৬ জুলাই ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের দুই বছর পূর্তি স্মরণ করে তিনি শহীদ আবু সাঈদ, শহীদ ওয়াসিম আকরামসহ ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে আত্মদানকারী সব শহীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।


মাহদী আমিন বলেন, দেশের মানুষের গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষা পূরণ এবং জুলাই শহীদদের স্বপ্নের বাংলাদেশ বিনির্মাণে নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে বর্তমান সরকার সম্পূর্ণ বদ্ধপরিকর। জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনায় আসা বিএনপি সরকার প্রতিটি মন্ত্রণালয় ও সেক্টরে নির্বাচনী ইশতেহারের মূল অঙ্গীকারগুলো ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করছে বলে তিনি জানান।


তিনি বলেন, "নির্বাচিত সরকারের বয়স প্রায় পাঁচ মাস হতে চলল। এই স্বল্প সময়েই প্রতিটি মন্ত্রণালয়ে নির্বাচনী ইশতেহারের প্রধান প্রধান বিষয় বাস্তবায়নে সবাই কাঁধ মিলিয়ে কাজ করছে। বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে আমরা দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি।"


তিনি আরও বলেন, "আমাদের রাজনৈতিক মত, পথ বা আদর্শ ভিন্ন হতে পারে, কিন্তু দেশপ্রেম ও গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে জাতির বৃহত্তর স্বার্থে আমাদের একসঙ্গে কাজ করে যেতে হবে। এই নতুন বাংলাদেশে সরকারের মূলনীতিই হচ্ছে 'সবার আগে বাংলাদেশ'। আমরা এমন এক সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে চাই, যার ভিত্তি হবে সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচার।"


মাহদী আমিন আরও বলেন, গত ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠন সবচেয়ে বেশি গুম, খুন, হামলা ও মামলার শিকার হয়েছে। সব প্রতিকূলতা পেরিয়ে জনগণের পাশে থাকা এই দলের নিরঙ্কুশ বিজয়ের পর গঠিত বর্তমান সরকার জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সর্বোচ্চ আন্তরিক বলে তিনি উল্লেখ করেন।


ডিআরইউ সভাপতি আবু সালেহ আকনের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেলের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. রিয়াজুল ইসলাম।


অনুষ্ঠানে ডিআরইউ সভাপতি আবু সালেহ আকন সংগঠনের সদস্যদের প্রাতিষ্ঠানিক সংকট স্থায়ীভাবে সমাধানে নতুন ভবন নির্মাণের জন্য দ্রুত জায়গা বরাদ্দের দাবি জানান। তিনি বলেন, ডিআরইউ নতুন একটি বহুতল ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়েছে, তবে চূড়ান্ত জায়গা বরাদ্দ না পাওয়ায় প্রকল্পের কাজ শুরু করা যাচ্ছে না। এ বিষয়ে তিনি প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।


সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেল বলেন, গণমাধ্যমকে চতুর্থ স্তম্ভ বলা হলেও সংবিধানে এর প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি নেই। অন্যান্য পেশাজীবীদের মতো সাংবাদিকদের কল্যাণে রাষ্ট্র কখনো দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেয়নি।


ঐতিহ্যবাহী ফল উৎসবের উদ্দেশ্য তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, দেশীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকেই প্রতিবছর ডিআরইউ এই আয়োজন করে, যার মূল লক্ষ্য নতুন প্রজন্মের কাছে দেশীয় ফল পরিচিত করানো।


অনুষ্ঠানে ডিআরইউ কার্যনির্বাহী কমিটির নেতৃবৃন্দ, সংগঠনটির সাবেক সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ সাধারণ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।










  এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ