
সংগৃহীত ছবি
দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় নিত্যব্যবহার্য পণ্য উৎপাদন ও বিপণনকারী প্রতিষ্ঠান ইউনিলিভার বাংলাদেশ লিমিটেড (ইউবিএল) সম্প্রতি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পরিবেশভিত্তিক সাংবাদিকতায় দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে একটি প্রশিক্ষণ কর্মশালার আয়োজন করে। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক), ইউনিলিভার বাংলাদেশ এবং ইয়ং পাওয়ার ইন সোশ্যাল অ্যাকশন (ইপসা)-এর যৌথ উদ্যোগে চট্টগ্রাম নগরীতে পরিচালিত প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কার্যক্রমের অংশ হিসেবে এই কর্মশালার আয়োজন করা হয়।
দুই দিনব্যাপী কর্মশালায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের সামনে চট্টগ্রাম শহরের প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার বর্তমান চিত্র এবং চলমান কার্যক্রমের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি পরিবেশ সাংবাদিকতা বিষয়ে একাধিক সেশন অনুষ্ঠিত হয়। এসব সেশনে শিক্ষার্থীরা পরিবেশ সাংবাদিকতার মৌলিক ধারণা, জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক প্রতিবেদন তৈরির কৌশল এবং অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার নানা দিক সম্পর্কে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। ফিল্ড ভিজিটে অংশ নিয়ে তারা স্কুলভিত্তিক সচেতনতামূলক কার্যক্রম, বাসা-বাড়িতে বর্জ্য পৃথকীকরণ পদ্ধতি, ভাঙারিওয়ালাদের কার্যক্রম এবং তাদের জন্য সরবরাহকৃত সুরক্ষা সামগ্রী সম্পর্কে সরাসরি অভিজ্ঞতা অর্জন করেন। কর্মশালার বিভিন্ন সেশন পরিচালনা করেন দেশের অভিজ্ঞ সাংবাদিক ও যোগাযোগ বিশেষজ্ঞরা। কর্মশালা শেষে অংশগ্রহণকারীদের সনদ প্রদান করা হয়।
সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল-আমীন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম এবং ইউনিলিভার বাংলাদেশ লিমিটেডের ফ্যাক্টরি ডিরেক্টর এস এম তারেক সাইফুল্লাহ। এ ছাড়া ইপসা ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানসমূহের কর্মকর্তারাও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেন যে, এ ধরনের উদ্যোগ তরুণদের মধ্যে পরিবেশ ও টেকসই উন্নয়ন বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার চর্চায় উৎসাহ জোগাবে। একই সঙ্গে পরিবেশগত চ্যালেঞ্জ নিয়ে তথ্যভিত্তিক প্রতিবেদন তৈরিতে তরুণদের আগ্রহ বাড়বে এবং সমাজ ও পরিবেশের প্রতি দায়িত্বশীল ভবিষ্যৎ প্রজন্ম গড়ে তুলতে এ উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
উল্লেখ্য, ২০২২ সাল থেকে ইউনিলিভার বাংলাদেশ লিমিটেড, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন ও ইপসার সহযোগিতায় চট্টগ্রাম শহরের ৪১টি ওয়ার্ডজুড়ে একটি সমন্বিত প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম বাস্তবায়ন করে আসছে। এ কার্যক্রমের আওতায় এ পর্যন্ত ৩৩,০০০ টনের বেশি প্লাস্টিক বর্জ্য সংগ্রহ ও প্রক্রিয়াকরণ করা হয়েছে। পাশাপাশি ৩,০০০-এর বেশি বর্জ্যকর্মী ও সংগ্রাহককে প্রশিক্ষণ ও সুরক্ষা সামগ্রী প্রদান করা হয়েছে এবং ১,৮২৭ জনকে গ্রুপ বীমা সুবিধার আওতায় আনা হয়েছে। উদ্যোগটি একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই নগর ব্যবস্থাপনার মডেল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। নাগরিকদের সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে একটি পরিচ্ছন্ন, দায়িত্বশীল ও পরিবেশবান্ধব শহর গড়ে তোলার প্রচেষ্টা এ উদ্যোগের মাধ্যমে অব্যাহত রয়েছে।