প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট, ২০২৬, ৫:২৬ পিএম (ভিজিট : ৭)

সংগৃহীত ছবি
গ্যাসের চাপ কমে গেলে শুধু চুলা জ্বলে না, ধীর হয়ে আসে শিল্পের চাকা, অনিশ্চয়তায় পড়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন, আর তার প্রভাব গিয়ে পড়ে জনজীবনের প্রায় প্রতিটি স্তরে। এমন এক সংকটময় সময়ে ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল (এফএসআরইউ) অচল হয়ে পড়ায় গ্যাস সরবরাহে তৈরি হয়েছে বাড়তি চাপ। তবে এই মুহূর্তে টার্মিনালটি মেরামত করে সচল করা ছাড়া সরকারের সামনে কার্যকর কোনো বিকল্প নেই বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।
এলএনজি টার্মিনাল সচল না হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা ছাড়া উপায় নেই, এমন মন্তব্য করে মন্ত্রী বলেন, বর্তমান সংকটের সময়ে তার হাতে করার মতো তেমন কিছু নেই। এফএসআরইউ ছাড়া গ্যাস নামানোর সুযোগ নেই। তাই প্রকৌশলীরা টার্মিনালটি দ্রুত সচল করার কাজ করছেন এবং তাদের কাজ শেষ হওয়ার অপেক্ষা করতে হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, ‘ দেশে গ্যাসের চাহিদার তুলনায় সরবরাহে ঘাটতি রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানি করে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু ভাসমান সংরক্ষণ ও পুনঃগ্যাসীকরণ ইউনিট (এফএসআরইউ) মেরামতের কারণে সেই প্রক্রিয়ায় সাময়িক বাধা তৈরি হয়েছে। ’
তিনি বলেন, ‘আমার হাতে করার মতো তেমন কিছু নেই। এফএসআরইউ ছাড়া গ্যাস নামানোর কোনো সুযোগ নেই। প্রকৌশলীরা টার্মিনালটি সচল করার জন্য কাজ করছেন। তাদের কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত আমাদের অপেক্ষা করতে হবে।’
জ্বালানি খাতের এই সংকটের প্রভাব ইতোমধ্যে বিভিন্ন খাতে পড়ছে। বিশেষ করে শিল্পকারখানা ও বিদ্যুৎ উৎপাদনে গ্যাস সরবরাহের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে। গ্যাসের সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে শিল্প উৎপাদন ও বিদ্যুৎ উৎপাদনেও এর প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে।
সিপিডির অনুষ্ঠানে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা, গ্যাস সরবরাহ এবং বিদ্যুৎ উৎপাদন পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা হয়। আলোচনায় অংশ নেওয়া বিশেষজ্ঞরা জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় ঝুঁকি কমাতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও বিকল্প উৎস তৈরির ওপর গুরুত্ব দেন।
সরকারি কর্মকর্তারা বলছেন, এফএসআরইউ সচল হলে আমদানি করা এলএনজি পুনঃগ্যাসীকরণ করে জাতীয় গ্যাস গ্রিডে সরবরাহ করা সম্ভব হবে। ফলে বর্তমানে তৈরি হওয়া সরবরাহ সংকট কিছুটা কমে আসতে পারে।
তবে টার্মিনালটি পুরোপুরি সচল না হওয়া পর্যন্ত গ্যাস সরবরাহে যে চাপ তৈরি হয়েছে, তা মোকাবিলায় সরকারকে সীমিত সক্ষমতার মধ্যেই পরিস্থিতি সামাল দিতে হচ্ছে। এ অবস্থায় দ্রুত মেরামত শেষ করে এফএসআরইউকে আবারও কার্যক্রমে ফেরানোই এখন জ্বালানি খাতের সবচেয়ে জরুরি কাজ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ডেল্টা টাইমস/ আরএফ