ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে সিএনজিতে মিলছে ২০ থেকে ৬০ টাকার গ্যাস!

ডেল্টা টাইমস ডেস্ক:

অর্থনীতি

রাজধানীতে তীব্র আকার ধারণ করেছে সিএনজি রিফুয়েলিং স্টেশনগুলোর গ্যাস সংকট। পাম্পে পাম্পে ঘুরেও মিলছে না কাঙ্ক্ষিত গ্যাস। অধিকাংশ

2026-08-12T13:54:02+06:00
2026-08-12T13:54:02+06:00
বুধবার, ১২ আগস্ট, ২০২৬, ২৮ শ্রাবণ ১৪৩৩

ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে সিএনজিতে মিলছে ২০ থেকে ৬০ টাকার গ্যাস!
ডেল্টা টাইমস ডেস্ক:
প্রকাশ: বুধবার, ১২ আগস্ট, ২০২৬, ১:৫৪ পিএম   (ভিজিট : ৪)

রাজধানীতে তীব্র আকার ধারণ করেছে সিএনজি রিফুয়েলিং স্টেশনগুলোর গ্যাস সংকট। পাম্পে পাম্পে ঘুরেও মিলছে না কাঙ্ক্ষিত গ্যাস। অধিকাংশ পাম্প বন্ধ থাকায় উন্মুক্ত থাকা দু-একটি স্টেশনে কিলোমিটারজুড়ে দেখা দিয়েছে গাড়ি ও সিএনজির দীর্ঘ সারি। ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও মিলছে মাত্র ২০ থেকে ১০০ টাকার গ্যাস। ফলে সিএনজি ও প্রাইভেটকার চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করা হাজার হাজার চালক কর্মহীন হয়ে পড়ার শঙ্কায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। 

বুধবার (১২ আগস্ট) সরেজমিনে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে রিফুয়েলিং স্টেশনগুলোতে গ্যাস পাওয়ার আশায় চালকদের দৌড়াঝাঁপ ও চরম ভোগান্তির এমন চিত্র দেখা যায়। 

পাম্পে পাম্পে বন্ধের নোটিশ, কোথাও দীর্ঘ লাইন 

সরেজমিনে জানা যায়, মেরুল বাড্ডার জামান সিএনজি স্টেশন এবং মধ্য বাড্ডার সিএনজি স্টেশনে গ্যাস না থাকায় বিক্রি বন্ধ রাখা হয়েছে। কুড়িল বিশ্বরোড থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত দীর্ঘ সড়কের পাম্পগুলোর মধ্যে কেবল খিলক্ষেতের পাম্পটি চালু রয়েছে। এছাড়া তেজগাঁও এলাকার আকিজ সিএনজিসহ বেশ কয়েকটি পাম্পে সরবরাহ সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে।

তবে মালিবাগ, কারওয়ান বাজার এফডিসি গেট, পরিবাগ ও মগবাজারের পাম্পগুলোতে গ্যাস দেওয়া হচ্ছিল। এর মধ্যে হাজিপাড়া ও মগবাজার পাম্পে গ্যাস নেওয়ার জন্য প্রায় এক কিলোমিটার বিস্তৃত গাড়ির লাইন ছড়িয়ে পড়ে। ফলে আশপাশের মূল সড়কে দেখা দেয় তীব্র যানজট। পরিবাগ পাম্পে তুলনামূলক কিছুটা কম ভিড় দেখা গেছে। 

ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে মিলছে ২০ থেকে ১০০ টাকার গ্যাস

চালকরা অভিযোগ করেন, খোলা থাকা পাম্পগুলোতে প্রেশার না থাকায় পর্যাপ্ত গ্যাস মিলছে না। ১৫০০ সিসির প্রাইভেট কারে সর্বোচ্চ ১০০ টাকা এবং সিএনজিতে ৫০ থেকে ৬০ টাকার বেশি গ্যাস ঢুকছে না। এমনকি অবিশ্বাস্য হলেও অনেক সিএনজিতে মাত্র ২০ টাকার গ্যাস ঢুকছে। 

সিএনজি চালক ইব্রাহিম বলেন, “অধিকাংশ পাম্প বন্ধ। কোথায় গ্যাস দিচ্ছে তা জানতে এক পাম্প থেকে আরেক পাম্পে দৌড়াদৌড়ি করছি। মেরুল বাড্ডায় গ্যাস নাই শুনে হাজিপাড়া পাম্পে আসছি, কিন্তু এখানে এক কিলোমিটারের দীর্ঘ লাইন। বাধ্য হয়ে এই লাইনেই দাঁড়িয়ে আছি।” 

আনোয়ার নামের এক চালক জানান, আড়াই ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে বেলা সাড়ে ১১টায় এফডিসি গেটের পাম্প থেকে মাত্র ৬০ টাকার গ্যাস পেয়েছেন। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “৬০ টাকার গ্যাসে কতক্ষণ গাড়ি চলবে? শুনছি সামনে নাকি আরও কঠিন পরিস্থিতি আসছে, পাম্পে গ্যাসই পাওয়া যাবে না। সরকারই বলে দিক আমাদের এখন কী করার আছে।” 

প্রাইভেটকার চালক সোহেল রানা আক্ষেপ করে বলেন, “দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষার পর ১০০ টাকার গ্যাস পেলাম। ১০০ টাকার গ্যাসে ১৫০০ সিসির গাড়ি কতক্ষণ চলবে?” 

অন্য এক চালক ইউনুস বলেন, “এভাবে চলতে থাকলে চুক্তি বা দৈনিক জমার ভিত্তিতে যারা গাড়ি চালাই, তাদের না খেয়ে মরতে হবে। দেশে এখন গ্যাস-বিদ্যুৎ সবকিছুর হাহাকার চলছে।” 

লাইনে প্রেশার নেই, নিরুপায় পাম্প কর্মীরা

পাম্পের কর্মীরা জানান, মূল লাইনেই তীব্র প্রেশার সংকট থাকায় তারা চাহিদামতো গ্যাস সরবরাহ করতে পারছেন না। তেজগাঁওয়ের আকিজ পাম্পের বিক্রয়কর্মী তারেক বলেন, “জাতীয় লাইনে গ্যাস না থাকলে আমরা কীভাবে দেবো? হঠাৎ হঠাৎ সামান্য প্রেশার এলে আমরা তা দেওয়ার চেষ্টা করি। কিন্তু আমাদের তো করার কিছু নেই, আমরা নিরুপায়।” 

জামান পাম্পের বিক্রয়কর্মী আরমান ইসলাম জানান, লাইনে গ্যাস এলেই কেবল তারা বিক্রি চালু রাখেন, নতুবা পাম্প বন্ধ রাখতে হয়। দ্রুত এই সংকটের নিরসন না হলে চালকদের রুটি-রুজি বন্ধ হয়ে চরম সামাজিক ও অর্থনৈতিক সংকট তৈরি হবে বলে আশঙ্কা থেকে ভুক্তভগীদের দাবি, সরকার যেন দ্রুত পরিস্থিতির উন্নতি করে। 


ডেল্টা টাইমস/সিআর/এমই








  এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ