প্রকাশ: সোমবার, ১০ আগস্ট, ২০২৬, ৮:৪৯ পিএম আপডেট: ১০.০৮.২০২৬ ৮:৫৫ পিএম (ভিজিট : ৪)

ফাইল ছবি
বড় অঙ্কের মূলধন ঘাটতি, উচ্চমাত্রার শ্রেণি করা ঋণ ও বিনিয়োগ, প্রয়োজনীয় তারল্য সংরক্ষণে ব্যর্থতা, আয়ক্ষমতার অবনতি এবং আমানতকারী ও অন্যান্য পাওনাদারের দায় পরিশোধে অক্ষমতার মতো বিষয়গুলোকে এ সিদ্ধান্তের অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
এদিকে, রেজল্যুশন কার্যক্রম দ্রুত ও কার্যকরভাবে পরিচালনার উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের অভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের প্রশাসক এবং সহপ্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তারা এসব প্রতিষ্ঠানের প্রশাসন, সার্বিক ব্যবস্থাপনা ও পুনর্বাসনপ্রক্রিয়া প্রত্যক্ষভাবে নিয়ন্ত্রণ করবেন।
বাংলাদেশ ব্যাংক আশা করে, এ পদক্ষেপের মাধ্যমে আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা ও সুশাসন পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং আমানতকারী ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট পক্ষের স্বার্থ সংরক্ষণে কার্যকর অগ্রগতি সাধিত হবে।
আর্থিক খাতের দুর্বল প্রতিষ্ঠানগুলোকে ঘুরে দাঁড় করানোর উদ্যোগ এবার ব্যাংকের গণ্ডি পেরিয়ে আর্থিক প্রতিষ্ঠানেও পৌঁছাল। দীর্ঘদিনের আর্থিক সংকট, বড় মূলধন ঘাটতি ও আমানতকারীদের দায় পরিশোধে অক্ষমতার কারণে চারটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে ‘অকার্যকর’ ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানগুলোকে রেজল্যুশনের আওতায় এনে প্রশাসক নিয়োগের মাধ্যমে পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
গত রোববার (৯ আগস্ট) রাতে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ব্যাংক রেজল্যুশন আইন, ২০২৬-এর আওতায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
অকার্যকর ঘোষণা করা প্রতিষ্ঠানগুলো হলো, আভিভা ফাইন্যান্স লিমিটেড, ফারইস্ট ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড, এফএএস ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড এবং ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস লিমিটেড।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, প্রতিষ্ঠানগুলোর আর্থিক সক্ষমতা এবং ঘুরে দাঁড়ানোর সম্ভাবনা পর্যালোচনা করেই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এসব প্রতিষ্ঠানের আর্থিক অবস্থার অবনতি হচ্ছিল। বড় অঙ্কের মূলধন ঘাটতি, উচ্চমাত্রার শ্রেণিকৃত ঋণ ও বিনিয়োগ, প্রয়োজনীয় তারল্য সংরক্ষণে ব্যর্থতা এবং আয়ক্ষমতার ধারাবাহিক অবনতিকে সিদ্ধান্তের অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
শুধু আর্থিক সংকটই নয়, আমানতকারী ও অন্যান্য পাওনাদারের দায় পরিশোধে অক্ষমতার বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সিদ্ধান্তে।
রেজল্যুশন কার্যক্রম দ্রুত ও কার্যকরভাবে পরিচালনার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের অভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের প্রশাসক ও সহপ্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এখন থেকে এসব কর্মকর্তা প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রশাসন, সার্বিক ব্যবস্থাপনা এবং পুনর্বাসন প্রক্রিয়া সরাসরি তদারক করবেন।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ভাষ্য, এই ব্যবস্থার লক্ষ্য কোনো প্রতিষ্ঠানকে কেবল বন্ধ করে দেওয়া নয়; বরং আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং আমানতকারী ও অন্যান্য পাওনাদারের স্বার্থ সুরক্ষার পথ তৈরি করা।
এর আগে আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতা ফেরাতে পাঁচটি ব্যাংক একীভূত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এবার চারটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে অকার্যকর ঘোষণা করে রেজল্যুশনের আওতায় আনার মধ্য দিয়ে সংকটে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোর বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অবস্থান আরও কঠোর হলো।
বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, সুশাসন পুনঃপ্রতিষ্ঠা, জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং আর্থিক খাতের প্রতি মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনাই এ পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আশা, প্রশাসকের সরাসরি তত্ত্বাবধানে রেজল্যুশন কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া গেলে প্রতিষ্ঠানগুলোর ভবিষ্যৎ নিয়ে কার্যকর সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হবে। একই সঙ্গে আমানতকারী ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য পক্ষের স্বার্থ সংরক্ষণেও অগ্রগতি হবে।
ডেল্টা টাইমস/ আরএফ