দায়বদ্ধতা ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠানের অন্যতম মাত্রিকতা

রায়হান আহমেদ তপাদার:

মতামত

জবাবদিহিতা সুশাসনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। সুশাসনে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর পাশাপাশি নাগরিক সেবাদানকারী বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর জবাবদিহিতাকেও অন্তর্ভুক্ত করে। জবাবদিহিতা বলতে বোঝায়

2026-07-19T10:49:48+06:00
2026-07-19T10:49:48+06:00
রবিবার, ১৯ জুলাই, ২০২৬, ৫ শ্রাবণ ১৪৩৩

দায়বদ্ধতা ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠানের অন্যতম মাত্রিকতা
রায়হান আহমেদ তপাদার:
প্রকাশ: রোববার, ১৯ জুলাই, ২০২৬, ১০:৪৯ এএম   (ভিজিট : ১৫)

জবাবদিহিতা সুশাসনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। সুশাসনে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর পাশাপাশি নাগরিক সেবাদানকারী বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর জবাবদিহিতাকেও অন্তর্ভুক্ত করে। জবাবদিহিতা বলতে বোঝায় দায়বদ্ধতার প্রতিশ্রুতি ও দায়-দায়িত্বের স্বীকারোক্তি। জবাবদিহিতার সঙ্গে মানবাধিকার যুক্ত। জবাবদিহিতার মাধ্যমে গড়ে ওঠে রাষ্ট্র, প্রশাসন ও জনগণের মধ্যে নিবিড় আন্তঃসম্পর্ক। বাংলাদেশের সামাজিক, রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক জবাবদিহিতার অভাবের জন্য দায়ী প্রশাসনিক জটিলতা। এ কারণে সংসদ জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে পারছে না। তাছাড়া আমলারা অনেক সময় জনগণের সামনে সত্য তথ্য প্রচার করতে চায় না। শাসকশ্রেণিরও একটি অংশ তথ্য গোপনের মাধ্যমে নিজেদের স্বার্থ রক্ষা করতে চায়। এই অস্বচ্ছতা দুর্নীতির জন্ম দেয় এবং সুশাসনের অন্তরায় হিসেবে কাজ করে। রাজনৈতিক জবাবদিহিতা দুর্বল হলে তা সামাজিক ও অর্থনৈতিক উভয় খাতকে প্রভাবিত করে। সামাজিক জবাবদিহিতা হলো নাগরিক, সরকারি প্রশাসনের কর্মকর্তা, রাজনীতিবিদ এবং পরিষেবা সরবরাহকারীদের আচরণ ও কার্যকারিতার মধ্যে সুদৃঢ় মিথস্ক্রিয়া। যেখানে সরকার, প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থা সবাই ন্যায়-নৈতিকতা ও সুশাসনের ভিত্তিতে সম্প্রদায়ের কল্যাণ এবং জনগণের অধিকার রক্ষার জন্য কাজ করে। সামাজিক জবাবদিহিতা নাগরিক সমাজ ও রাষ্ট্রীয় সংস্থার ক্রিয়াকলাপের মধ্যে সংযোগ সাধন করে থাকে। এতে প্রতিটি কর্মপরিকল্পনা ও সিদ্ধান্তের জন্য নাগরিকদের কাছে রাষ্ট্রকে জবাবদিহি করতে হয়। সামাজিক জবাবদিহিতা স্বচ্ছতার ভিত্তিতে সরকারি নীতির বিকাশ এবং বাস্তবায়ন প্রক্রিয়াগুলোর গুণমান বৃদ্ধি করে। আর এতে নাগরিকদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে ও জনকল্যাণে সরকার ও প্রশাসন আত্মনিয়োগ করে। প্রশাসনে নিয়োজিত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জবাবদিহিতা সুনিশ্চিত করার জন্য জবাবদিহিতার ক্ষেত্রকে উন্মুক্ত করা জরুরি।

বাংলাদেশের বর্তমানে অর্থনীতির ক্ষেত্রে সামষ্টিকতা বিষয়টি বড় বেশি গুরুত্ব পায়; তা সেটা বৈশ্বিক পরিপ্রেক্ষিতে হোক বা দেশজ প্রেক্ষাপটে। বৈশ্বিক পরিপ্রেক্ষিতে অর্থনৈতিক আলোচনার একটা বিরাট অংশজুড়ে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ, মধ্যপ্রাচ্য সংকট এবং তার সামষ্টিক প্রভাব বিশ্ববাণিজ‍্যে কিংবা বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির শ্লথতা অথবা নানা আঞ্চলিক অর্থনৈতিক জোটের করণীয় বিষয়গুলো। পেছনে পড়ে যাচ্ছে কর্মহীনতা বাড়ার ফলে মানুষের জীবন বিপর্যস্ত হওয়ার কাহিনী, বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে দুর্ভিক্ষ এবং বুভুক্ষার বিস্তৃতি, অর্থনৈতিক সুযোগের আশায় সমুদ্র পাড়ি দিয়ে অভিবাসনকালে অসংখ‍্য মানুষের জলসমাধি। বাংলাদেশ দেশজ অর্থনৈতিক প্রেক্ষিতও এর ব‍্যত্যয় নয়। সামষ্টিক অর্থনীতি বিষয়টি আমাদের জাতীয় অর্থনৈতিক আলোচনা ও ঘটনাপ্রবাহের বিরাট অংশজুড়ে আছে। সম্প্রতি বাজেট দেয়া হয়েছে; তার আলোচনা-সমালোচনা এখনো চলছে। সেই সঙ্গে সংবাদমাধ্যমে প্রচুর প্রতিবেদন বেরুচ্ছে মধ্যপ্র্যচ্য থেকে অর্থপ্রবাহ বিষয়ে, বাণিজ্য ভারসাম্য নিয়ে, আন্তর্জাতিক মুদ্রাভাণ্ডারের ঋণের কিস্তির ওপর। আলোচনায় রয়েছে স্বল্পোন্নত দেশের কাতার থেকে বাংলাদেশের উত্তরণ বিষয়টি। অর্থনীতিবিদ, বিশেষজ্ঞ ও দেশের অগ্রগণ‍্য ব‍্যবসায়ী মহল এসব বিষয়ে তাদের সুচিন্তিত মতামত দিচ্ছেন। আমাদের উন্নয়ন সহযোগীরাও পিছিয়ে নেই। এসব থেকে এটা খুব স্পষ্ট যে আলোচনা ও ঘটনাপ্রবাহের যে জোয়ার আমরা প্রত্যক্ষ করছি তা অর্থনীতির সামষ্টিক পর্যায়ে। সেখানে বৈদেশিক মুদ্রা মজুদ, বাণিজ্য ঘাটতি, বিদেশী বিনিয়োগের মতো খটোমটো বিষয় আছে, আছে সুচিহ্নিত উপাত্ত ও সংখ্যা। সন্দেহ নেই, অর্থনীতির সামষ্টিক পর্যায়ে প্রবণতা, গতিপ্রবাহ, অর্জন এবং অন্তরায় বোঝার জন্য এগুলো নিতান্তই প্রয়োজন। এগুলো দরকার নীতিমালা প্রয়োজনের জন্য, সম্পদপ্রবাহের জন্য, নিরীক্ষণ এবং মূল্যায়নের জন্যও। 

কিন্তু সমস্যা হচ্ছে এগুলোর পেছনে মানুষের কথা কোথায়? মানুষের যাপিত জীবনের ওপর প্রভাব-চিত্র কোথায়? দেশের সামষ্টিক অর্থনীতির সামগ্রিক এসব ধারণা, উপাত্ত ও সংখ্যা দিয়ে কি অর্থনীতির ব্যষ্টিক স্তরের বাস্তবতা বোঝা যায়? সামষ্টিক অর্থনৈতিক কি সেই বঞ্চনার কথা বলে যেখানে নিম্ন আয়ের ৮৮ শতাংশ মানুষ দুবেলা ভাত খেতে পারে না। তারা এক বেলা পাউরুটি কিংবা বিস্কুট খেয়ে কাটিয়ে দেয়। কিংবা যে ২৭ লাখ মানুষ অর্থনীতিতে কর্মহীন, তাদের সংসার কী করে চলে? অথবা যে ৩০ লাখ মানুষ নতুন করে দরিদ্র হয়ে পড়তে পারে, তাদের দিন কী করে চলবে? সামষ্টিক বিশ্লেষণ বলেছে যে খাদ্য মূল‍্যস্ফীতি কমেছে, কিন্তু খাদ্য-বহির্ভূত মূল্যস্ফীতি বেড়েছে। কিন্তু এ বিশ্লেষণ মাঠপর্যায়ের নানা বাস্তবতা যা মানুষের দৈনন্দিন জীবনকে প্রভাবিত করছে, সে সম্পর্কে কিছুই বলছে না। ধানের ফলন ভালো, চাল আমদানিও হচ্ছে প্রচুর, খোলা বাজারেও চাল বিক্রি করছেন সরকার, কিন্তু চালের দাম তেমনটা কমছে না সাধারণ মানুষের কাছে। কৃচ্ছ্রসাধন করতে হচ্ছে তার খাদ্যগ্রহণে, বিঘ্নিত হচ্ছে তার পুষ্টি। শ্রমবাজার, বেকারত্ব বিষয়ে সামষ্টিক পর্যায়ে অনেক তথ্য-উপাত্ত লভ্য। সেসব সংখ্যা থেকে আমরা বলি বহু মানুষ কর্মহীন। অথচ গ্রামীণ অর্থনীতিতে বিরাট অভিযোগ যে খেতখামারে কাজের লোক পাওয়া যাচ্ছে না। তিন বেলা খাবার, চা-নাশতার সঙ্গে আর্থিক মজুরিসহ কৃষিকাজে শ্রম নিয়োগে খরচ পড়ে যায় হাজার-বারোশ টাকার মতো। তবু লোক নেই। সুতরাং সামষ্টিক তথ্য-উপাত্তের সঙ্গে ব্যষ্টিক বাস্তবতার ফারাক অনেক। আমাদের রফতানি আয়ের একটা বিরাট অংশ আসে প্রবাসী শ্রমিকদের প্রেরিত অর্থ থেকে। এ আয় বর্তমানে ৩ হাজার কোটি ডলার ছাড়িয়ে গেছে। আসলে সামষ্টিক অর্থনীতির আলাপ-আলোচনা, ঘটনাপ্রবাহ ব্যষ্টিক পর্যায়ের এসব তথ্য দেয় না, এসব বাস্তবতাকে ঢেকে রাখে। ফলে সাধারণ মানুষের যাপিত জীবনের ওপরের অর্থনীতির বাস্তব প্রভাব আমরা জানতে পারি না। আমরা গণবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ি। 

কিন্তু চূড়ান্ত বিচারে উন্নয়ন তো মানুষেরই জন্য মানুষই তো উন্নয়নের কেন্দ্রবিন্দু। অতএব, সামষ্টিক চালচিত্রের সঙ্গে যুক্ত করতে হবে ব্যষ্টিক পর্যায়ে মানুষের জীবন-বাস্তবতাকে। সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চয়ই নিশ্চিত করতে হবে, কিন্তু তা যেন সাধারণ মানুষের জীবনকে অস্থিতিশীল না করে। সামষ্টিক অর্থনীতি নিয়ে আলোচনা কিংবা অর্থনৈতিক ঘটনাপ্রবাহ চালচিত্রে পরিমাণগত দিকটিই প্রাধান্য পাচ্ছে। বারবার উল্লেখিত হচ্ছে সামষ্টিকভাবে কত বিলিয়ন ডলারের বৈদেশিক বিনিয়োগ এ দেশে আসতে পারে কিংবা স্বাস্থ্য খাতে বিদেশীরা কত কোটি টাকার সাহায্য দেবে অথবা যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা শুল্ক আরোপে কত বিলিয়ন বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন বাংলাদেশ হারাবে। আমাদের সামষ্টিক অর্থনীতিতে এসব বিষয়ের পরিমাণগত মাত্রিকতা গুরুত্বপূর্ণ তাতে সন্দেহ নেই, কিন্তু ব্যষ্টিক পর্যায়েও এগুলোর গুণগত দিকের প্রতিও নজর দেয়া দরকার।যেমন বৈদেশিক বিনিয়োগের পরিমাণই বড় কথা নয়, দেখতে হবে সেসব বিনিয়োজিত উদ্যোগ কী পরিবেশের ক্ষতি করবে যেখানে কৃষকের ক্ষতি হবে, নানা গোষ্ঠী স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়বে, প্লাবনের সম্ভাবনায় মানুষের জানমালের ক্ষতি হতে পারে কিংবা প্রান্তিক মানুষের জীবনযাত্রার উপকরণ ব্যাহত হতে পারে। সেসব বিনিয়োজিত উদ্যোগে কি স্বয়ংক্রীয়করণ এমন হবে, যাতে সাধারণ কর্মনিয়োজন হ্রাস পাবে? বিদেশী রাষ্ট্র যখন স্বাস্থ্য খাতে বিনিয়োগ সহায়তা দেবে তা কি গ্রামাঞ্চলে প্রাথমিক মা-শিশু সেবা কেন্দ্রের জন্য ব্যয়িত হবে, নাকি নগর অঞ্চলের উচ্চতর সেবায় নজর দেবে? বিপুল অর্থ পরিমাণের এসব বিনিয়োগে নারীর সুযোগ-সুবিধা, যেমন কর্মনিয়োজন, সেবাপ্রাপ্তিতে নারীর অভিগম্যতা কতখানি থাকবে? ব্যষ্টিক পর্যায়ে বিনিয়োগের গুণগত দিক নিশ্চিত করতে বিনিয়োগ সিদ্ধান্তে জনগণের অংশগ্রহণ কতখানি থাকবে, তাদের কণ্ঠস্বরের প্রতি কতখানি মর্যাদা দেয়া হবে, তারা সেসব ব্যাপারে কি অংশীদারত্ব অনুভব করবেন? সুতরাং সামষ্টিক অর্থনীতির পরিমাণগত দিকের সঙ্গে ব্যষ্টিক গুণগত বিষয়গুলো নিশ্চিত করা অত্যাবশ্যকীয়। 

তা না হলে মানবকুশলশূন্য ভৌত বিষয়ের পরিমাণগত বিস্তারকেই উন্নয়ন বলা হবে, ভ্রান্ত স্থানে বা বিষয়ে গুরুত্ব ও অগ্রাধিকার দেয়া হবে, যেকোনো অগ্রগতিই আখ্যায়িত হবে উন্নয়ন বলে। বিনিয়োজিত উদ্যোগের কর্মকাণ্ডের দৃশ্যমানতা, দায়বদ্ধতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে তাদের কণ্ঠস্বরের অন্তর্ভুক্তি প্রয়োজন। সেসব বিনিয়োগের পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়নে তাদের মতামত অতীব গুরুত্বপূর্ণ। 

সামষ্টিক পর্যায়ে পরিমাণগত অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে ব্যষ্টিক পর্যায়ে একটি বিশেষ গুণগত বিষয়ের দিকে দৃষ্টি দেয়া দরকার। সেটি হচ্ছে সাম্য ও সমতা। কোনো কোনো বিষয়ে সমতা অনুসৃত হতে হবে। কোনো রকমের বৈষম্যই গ্রহণযোগ্য নয়। বৈষম্য হতে পারবে না নারী-পুরুষে, অঞ্চলে অঞ্চলে, বিভিন্ন আর্থসামাজিক গোষ্ঠীর মধ্যে। সামষ্টিক পর্যায়ে শুধু পরিমাণগত প্রসারেই মনঃসংযোগ করলে পরিমাণগত অগ্রগতি হয়তো হয়, কিন্তু ব্যষ্টিক স্তরে উন্নয়ন হয় না। কারণ অগ্রগতি হচ্ছে যেকোনো ইতিবাচক বিষয়ের প্রসার, যেমন জাতীয় আয়ের বৃদ্ধি কিংবা নেতিবাচক কোনো বিষয়ের হ্রাস, যেমন শিশুমৃত্যু হারের হ্রাস। উন্নয়ন হচ্ছে সামষ্টিক পরিমাণগত অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে ব্যষ্টিক পর্যায়ে গুণগত পরিবর্তন। আমরা সামষ্টিক অর্থনীতির পরিমাণগত আর্থিক দিকটির দিকেই বেশি নজর দিচ্ছি, কিন্তু প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর দিকে নয়। সামষ্টিক পর্যায়ের পরিমাণগত অর্থ বা সম্পদকে যদি ব্যষ্টিক পর্যায়ে মানুষের জীবন কুশলতা বাড়াতে অবদান রাখতে হয়, তাহলে অর্থের সঙ্গে সঙ্গে প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোকেও গুরুত্ব দিতে হবে। মানব উন্নয়নের জন্য রাষ্ট্রের নানা প্রতিষ্ঠানের কাঠামোকে হতে হবে দক্ষ, সমতামুখী ও কার্যকর। ব্যষ্টিক পর্যায়ে মানুষের জীবন-কুশলমুখী সেবা দিতে হলে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর দক্ষতা অপরিহার্য। অদক্ষ প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোতে লক্ষ্যের বিচ্যুতি ঘটে, দুর্নীতি বিস্তার লাভ করে এবং কায়েমি স্বার্থ গেড়ে বসে। তখন সামষ্টিক স্তর থেরে পরিমাণগত অর্থ যতই ব্যষ্টিক পর্যায়ে আসুক না কেন, তা কখনো জনহিতে ব্যয়িত হয় না। ব্যষ্টিক পর্যায়ে জনকল্যাণে কাজ করতে হলে রাষ্ট্রীয় প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোগুলোকে কিছু সুনির্দিষ্ট নীতিমালা এবং মূল্যবোধ ধারণ এবং অনুসরণ করতেই হবে। 

রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে কার্যকর করতে হলে একটি দৃশ্যমানতা ও দায়বদ্ধতার কাঠামোকে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। এ দৃশ্যমানতার একটি বিরাট স্তম্ভ হবে দৃশ্যমান ও বিশ্বাসযোগ্য তথ্য-উপাত্ত। এসব তথ্য-উপাত্তকে বিবেচনা করতে হবে জনগণের সম্পদ হিসেবে। দায়বদ্ধতা ও জবাবদিহি একটি কার্যকর প্রতিষ্ঠানের অন্যতম মাত্রিকতা। দায়বদ্ধতার মানে হচ্ছে প্রতিষ্ঠানের প্রতিটি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি প্রাতিষ্ঠানিক বিধিবদ্ধ নিয়ম, শৃঙ্খলা এবং অনুশাসন মেনে তার কর্তব্য পালন করবেন। তার প্রতিটি কাজের জন্য তিনি দায়ী থাকবেন এবং তিনি জবাবদিহি করবেন। দৃশ্যমানতা ও দায়বদ্ধতা নিশ্চিতকরণের একটি অন্যতম পন্থা হচ্ছে প্রাতিষ্ঠানিক পরিবীক্ষণ, নিরীক্ষণ এবং মূল্যায়ন। তাছাড়া মনে রাখতে হবে, সরকারি কর্মকর্তা- কর্মচারীরা রাষ্ট্রের নাগরিকদের প্রদেয় কর ও বিভিন্ন ফি-অর্থ থেকে বেতনসহ প্রদেয় সুযোগ-সুবিধাদি ভোগ করে থাকেন। তাই তাদের জবাবদিহিতাও জনগণের কাছে হওয়া উচিত। জবাবদিহিতার মাধ্যমেই সুশাসন প্রতিষ্ঠা পায়। শুধু সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতেই নয় বরং বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও সুশীল সমাজের জবাবদিহিতাও আবশ্যক। দুর্নীতি কমাতে ও রাজনৈতিক উন্নয়নে জবাবদিহিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সুশাসন ও জবাবদিহিতা ছাড়া যেমন গণতন্ত্রকে পূর্ণাঙ্গভাবে রক্ষা করা যায় না, তেমনি গণতন্ত্র না থাকলে সুশাসন ও জবাবদিহিতাকেও প্রতিষ্ঠা করা যায় না। জবাবদিহিতা সুনিশ্চিত করা গেলে সরকারি অর্থ সাশ্রয় হবে; দুর্নীতি কমবে; ক্ষমতার অপব্যবহার কমবে; রাষ্ট্রীয় সম্পদের সদ্ব্যবহার হবে; সুষ্ঠু উন্নয়ন পরিকল্পনা ও তার বাস্তবায়ন ফলপ্রসূ হবে এবং জাতীয় উন্নতি বেগবান হবে। 

লেখক: গবেষক ও কলামিস্ট, যুক্তরাজ্য।

ডেল্টা টাইমস/রায়হান আহমেদ তপাদার/সিআর/এমই








  এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ