প্রকাশ: সোমবার, ২২ জুন, ২০২৬, ৮:০৩ পিএম (ভিজিট : ৬৬)

সংগৃহীত ছবি
‘মাদককে না বলি, যুব সমাজকে রক্ষা করি’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলার হিলি পৌর শহরসহ বিভিন্ন এলাকায় মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও মাদক ব্যবসার বিরুদ্ধে জনসচেতনতা সৃষ্টি এবং সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রবিবার (২১ জুন) রাত ৯টায় হিলি পৌর শহরের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ বাসুদেবপুর (মহিলা কলেজপাড়া) এলাকায় উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব মো. সোহেল হোসেনের নিজস্ব কার্যালয়ে এ সভার আয়োজন করা হয়। এতে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, তরুণ ও যুব সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, ‘হিলি মানেই মাদক’— এমন নেতিবাচক ধারণা বাইরের মানুষের মধ্যে তৈরি হয়েছে, যা এ অঞ্চলের মানুষের জন্য অত্যন্ত দুঃখজনক। মাদকের কারণে তরুণ ও যুব সমাজ বিপথগামী হচ্ছে এবং বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা জরুরি।
উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব মো. সোহেল হোসেন বলেন, বর্তমান সরকারের সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় মাদক ব্যবসায়ীদের সতর্ক করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, অতীত কর্মকাণ্ড ভুলে গিয়ে মাদক ব্যবসা ছেড়ে বিকল্প কর্মসংস্থানে যুক্ত হলে সরকার সহযোগিতা করবে। ভ্যান-রিকশা, গরু, ছাগল ও ভেড়া প্রদানসহ বিভিন্ন সহায়তার মাধ্যমে তাদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, ‘৫ নম্বর ওয়ার্ডে কোনোভাবেই মাদকের ব্যবসা চলতে দেওয়া হবে না। বাইরে থেকে কেউ মাদক সেবন বা ক্রয়ের উদ্দেশ্যে এলে প্রথমে তাকে বুঝিয়ে বলা হবে। এরপরও কেউ না শুনলে তাকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে তুলে দেওয়া হবে। মাদক বিষয়ে যেকোনো তথ্য পুলিশকে দিয়ে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান তিনি। তাহলেই মাদকমুক্ত সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।’
এদিকে গত দুই দিন ধরে উপজেলার আলিহাট ইউনিয়নের চকচকা গ্রামেও মাদকের বিরুদ্ধে মিছিল ও সচেতনতামূলক কর্মসূচি পালন করেছেন তরুণরা। রবিবার দুইজনকে আটক করে পুলিশের হাতে সোপর্দ করা হয়েছে। তবে স্থানীয়দের একটি অংশের দাবি, যাদের নেতৃত্বে এসব কর্মসূচি চলছে, তাদের মধ্যেই কেউ কেউ ক্যাসিনো ও মাদক সংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ডে জড়িত। বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য প্রশাসনের কাছে দাবি জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে হাকিমপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাকির হোসেন বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা হয়েছে। মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে। যেকোনো তথ্য গোপনীয়ভাবে জানালে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং তথ্যদাতার পরিচয় গোপন রাখা হবে।
তিনি আরও বলেন, “সমাজের সাধারণ মানুষ সচেতন না হলে মাদক কিংবা অন্যান্য অপরাধ দমন করা সম্ভব নয়। তাই সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।” এছাড়া গত রবিবার থানা এলাকার বিভিন্ন স্থানে বিশেষ অভিযান চালিয়ে চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
ডেল্টা টাইমস্/তাছির উদ্দিন বাপ্পি/আইইউ