প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, নির্বাচনের আগে আমরা কিন্তু বলেছিলাম সারাদেশে অনেকগুলো কাজের মধ্যে মূল দুটো কাজ করতে চাই। একটা হচ্ছে- খাল খনন যেটা শহীদ জিয়াউর রহমান শুরু করেছিলেন। আরেকটি হচ্ছে- বৃক্ষরোপণ, এটাও শহীদ জিয়া শুরু করেছিলেন। দেশনেত্রী খালেদা জিয়াও সেই কর্মসূচি এগিয়ে নিয়ে গেছেন। আমরাও এই কর্মসূচি এগিয়ে নিয়ে যাব।
সোমবার (১৩ জুলাই) সকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান একদিনের সফরে বরিশাল পৌঁছেছেন। বরিশালে পৌঁছে সকাল সাড়ে ১০টায় গৌরনদী উপজেলার বাটাজোর ইউনিয়নের নবখননকৃত সরিকল-বাটাজোর খালের পাড়ে পরিবেশ রক্ষা ও জলবায়ু সহনশীলতা জোরদারে সরকারের অন্যতম নির্বাচনী অঙ্গীকার ‘পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ’ কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি আসার সময় দেখলাম অনেকে গাছের চারা নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন। খেয়াল করলাম অনেকে পলিথিনসহ গাছের চারা রোপণ করে দিয়েছেন। যারা এই কাজ করেছেন তারা দয়া করে পলিথিনে মোড়ানো গাছের চারার পলিথিনটা খুলে মাটিসহ গাছটা মাটিতে রোপণ করুন। তা না হলে তো গাছটা নষ্ট হয়ে যাবে। সেজন্য আমাদের যত্ন সহকারে এই কাজটি করতে হবে।

এসময় দেশের জলবায়ু নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, এই যে চট্টগ্রামে প্রচুর বৃষ্টি হচ্ছে। এখন আবহাওয়ার বিষয়টা এমন কেন হচ্ছে? সারা পৃথিবীতেই আবহাওয়ার সমস্যা হচ্ছে কিন্তু বাংলাদেশে বেশি হচ্ছে। আগে আমরা যখন ছোট ছিলাম তখন শীতকালে যতটা শীত পড়তো এখন কিন্তু আগের মতো ততটা শীত পড়ে না। আবার গরমের সময় অনেক বেশি গরম পড়ে। এই সমস্যাগুলো যদি আমাদের সমাধান করতে হয় বা এই সমস্যাটা যদি কমিয়ে আনতে চাই তাহলে সারাদেশে অনেক গাছ লাগাতে হবে। ২০ কোটি মানুষের এই দেশে যে পরিমাণ গাছ থাকা প্রয়োজন, বর্তমানে তা নেই।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, শহীদ জিয়া যেই কর্মসূচিটি শুরু করেছিলেন, দেশনেত্রী খালেদা জিয়া এই বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিটিকে এগিয়ে নিয়ে গেছেন। বর্তমানে বিএনপি দেশ পরিচালনার দায়িত্বে আছে, আমরা অনেকগুলো কর্মসূচির পাশাপাশি এটাও সারাদেশে চালু রাখতে চাই। ইনশাআল্লাহ আগামী পাঁচ বছরে আমাদের পরিকল্পনা হচ্ছে সারাদেশে ২৫ কোটি গাছের চারা রোপণ করব। আজকে এখানে আড়াই হাজার গাছের চারা রোপণ করা হবে।
এছাড়া গাছের রক্ষণাবেক্ষণের ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, যারা চারা রোপণ করবেন তাদের দায়িত্ব কিন্তু রোপণ করেই শেষ হয়ে যায় না। একটি শিশু ভূমিষ্ঠ হলেই কিন্তু বাবা-মায়ের কাজ শেষ হয়ে যায় না। বরং শিশুটাকে যত্ন সহকারে মানুষ করাই হচ্ছে আসল কাজ। আজকের এই চারাগুলো কিন্তু শিশু গাছ, একে শিশুর মতো বড় করতে হবে। এসময় তিনি আশেপাশে বসবাসকারী ও দোকানদারদের অনুরোধ জানান যেন গাছগুলো বড় না হওয়া পর্যন্ত সবাই সেগুলোর যত্ন নেন।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, এই গাছটি যদি বড় হয় আপনি বুক ভরে শ্বাস নিতে পারবেন, শান্তির ছায়ায় বসতে পারবেন। গ্রীষ্মকালে এই গাছের শীতল বাতাসের স্পর্শ পাবেন। সন্তান যত বড় হয় আপনার বুকটা ভরে উঠে আনন্দে, ঠিক এই গাছটি যখন বড় হবে দেখবেন একই রকম আপনি আনন্দ পাবেন। আসুন, আমরা যদি আমাদের এলাকাটা সুন্দর করতে চাই, দেশটা সুন্দর করতে চাই তাহলে বৃক্ষরোপণ করি সেই সঙ্গে গাছের যত্ন নেই।
বক্তব্যের শেষে তিনি সৃষ্টিকর্তার নাম নিয়ে উপস্থিত সবাইকে সঙ্গে নিয়ে চারা রোপণ করেন এবং ‘বৃক্ষরোপণে সাজাই দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগান দেন।
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের চার মাস পর আজ প্রথমবারের মতো সরকারি সফরে বরিশাল আসেন তারেক রহমান। তার সফরকে ঘিরে বরিশালজুড়ে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। প্রশাসন ও বিএনপির পক্ষ থেকে নিরাপত্তা, কর্মসূচি বাস্তবায়ন এবং সার্বিক প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়।
সফরসূচি অনুযায়ী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির পর তিনি ফ্যামিলি কার্ডের উপকারভোগীদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন। এরপর প্রধানমন্ত্রী বরিশাল নগরীর কীর্তনখোলা নদীর তীরবর্তী ত্রিশ গোডাউন এলাকার বধ্যভূমি সংলগ্ন সাগরদী খালপাড়ে দ্বিতীয় দফায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নেবেন। সেখানে তিনি জিআই স্বীকৃত বরিশালের আমড়া ও নারিকেল গাছের চারা নিজ হাতে রোপণ করেন। এছাড়া খালপাড়জুড়ে শতাধিক দেশীয় ফলজ, বনজ ও ফুলের গাছ রোপণের কর্মসূচিও বাস্তবায়ন করা হবে।
বিকেলে প্রধানমন্ত্রী বরিশাল জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে বিএনপির সাংগঠনিক সভায় যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে। সভায় বরিশাল বিভাগের সাংগঠনিক নেতা, স্থানীয় সংসদ সদস্য, মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী, বরিশাল সিটি করপোরেশন ও জেলা পরিষদের প্রশাসকসহ দলীয় শীর্ষ নেতারা অংশ নেবেন।
ডেল্টা টাইমস/সিআর/এমই