একজনের মৃত্যুদণ্ড, ৩ জনের যাবজ্জীবন

ডেল্টা টাইমস ডেস্ক:

সারাদেশ

সিলেটের ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে স্বামীকে আটকে রেখে তরুণীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের বহুল আলোচিত ঘটনার মামলায় একজন আসামিকে

2026-07-14T14:42:07+06:00
2026-07-14T15:08:54+06:00
মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই, ২০২৬, ৩১ আষাঢ় ১৪৩৩

এমসি কলেজ ছাত্রবাসে দলবদ্ধ ধষর্ণ
একজনের মৃত্যুদণ্ড, ৩ জনের যাবজ্জীবন
ডেল্টা টাইমস ডেস্ক:
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই, ২০২৬, ২:৪২ পিএম  আপডেট: ১৪.০৭.২০২৬ ৩:০৮ পিএম  (ভিজিট : ১৩)

সিলেটের ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে স্বামীকে আটকে রেখে তরুণীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের বহুল আলোচিত ঘটনার মামলায় একজন আসামিকে মৃত্যুদণ্ড ও তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে মামলার অপর চার আসামিকে খালাস দেওয়া হয়েছে।


মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দুপুরে সিলেটের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক স্বপন কুমার সরকার এই রায় ঘোষণা করেন।


আদালত সূত্রে জানা যায়, মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে মামলার প্রধান আসামি সাইফুর রহমানকে। একইসঙ্গে শাহ মাহবুবুর রহমান (রনি), তারেকুল ইসলাম (তারেক) ও অর্জুন লস্করকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। পর্যাপ্ত প্রমাণ না পাওয়ায় আইনুদ্দিন (আইনুল), মিসবাউল ইসলাম (রাজন), রবিউল ও মাহফুজুর রহমানকে অভিযোগ থেকে খালাস দিয়েছেন আদালত।


রায় ঘোষণার সময় চার দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিসহ আট আসামিই আদালতে উপস্থিত ছিলেন।


বিষয়টি নিশ্চিত করে সিলেটের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) আবুল হোসেন বলেন, "মামলার প্রধান আসামি সাইফুর রহমানকে মৃত্যুদণ্ড ও তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।"


এর আগে রায়কে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই আদালত প্রাঙ্গণ ও আশপাশের এলাকায় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনের পাশাপাশি আদালতে প্রবেশে তল্লাশি জোরদার করা হয়।


২০২০ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর রাতে সিলেটের এমসি কলেজের ছাত্রাবাসে স্বামীকে আটকে রেখে স্ত্রীকে (২০) সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারীর স্বামী বাদী হয়ে থানায় মামলা করেন। ঘটনার পর আসামিরা পালিয়ে গেলেও তিন দিনের মধ্যে ছয় আসামি ও সন্দেহভাজন দুজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। মামলার তদন্তে ডিএনএ পরীক্ষায় আট আসামির মধ্যে ছয়জনের সঙ্গে ধর্ষণের আলামতের মিল পাওয়া যায়।


পরবর্তীতে ২০২১ সালের ৩ ডিসেম্বর ৮ জনের বিরুদ্ধে মামলার অভিযোগপত্র আদালতে জমা দেন তদন্ত কর্মকর্তা ও মহানগর পুলিশের শাহপরান থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ইন্দ্রনীল ভট্টাচার্য।

আসামিরা হলেন— সাইফুর রহমান, শাহ মাহবুবুর রহমান (রনি), তারেকুল ইসলাম (তারেক), অর্জুন লস্কর, আইনুদ্দিন (আইনুল), মিসবাউল ইসলাম (রাজন), রবিউল ও মাহফুজুর। তারা সবাই নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

গত বছর মামলাটি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তরের পর নির্যাতিত তরুণী, তার স্বামী, তদন্ত কর্মকর্তা, ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ, জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও এমসি কলেজের এক অধ্যাপকসহ ২৪ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে আদালত মঙ্গলবার রায় ঘোষণা করেন।

এই রায়ের মাধ্যমে প্রায় পাঁচ বছর নয় মাস ধরে চলা দেশের অন্যতম আলোচিত এই মামলার বিচারিক কার্যক্রমের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সমাপ্তি হলো।










  এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ