মুন্সিগঞ্জের মিরকাদিমে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে দখলে রাখা প্রায় শতবর্ষী প্রাচীন নয়নের খাল ও রিকাবী বাজার খাল উদ্ধার কার্যাক্রম শুরু হয়েছে। এদিকে, খাল উদ্ধার কার্যক্রম পরিদর্শনে গিয়ে অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। এ সময় আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দখলদারদের বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসককে দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশনা দেন।
শুক্রবার (১৯ জুন) সকাল ১১টার দিকে মিরকাদিম পৌরসভায় খাল খনন ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিদর্শনে গিয়ে প্রতিমন্ত্রী এসব নির্দেশনা দেন। পরে খাল খনন কার্যক্রম শুরু করার জন্য তাৎক্ষণিক বিশেষ বরাদ্দের ব্যবস্থা করেন তিনি। এ সময় প্রতিমন্ত্রী সাংবাদিকদের জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের জন্য মাঠ পর্যায়ে প্রশাসনকে কঠোরভাবে ব্যবস্থা নিতে হবে অবৈধ খাল দখলদারদের বিরুদ্ধে।
এর আগে সংশ্লিষ্টদের উদাসীনতায় অস্তিত্ব হারাতে বসা খাল গুলোর বেহাল পরিস্থিতি সরেজমিনে ঘুরে দেখেন প্রতিমন্ত্রী শাহে আলম। এ সময় দীর্ঘ দিনেও কেন অবৈধভাবে খাল দখলকারীদের বিরুদ্ধে জোরালো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি সেটি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকার সারা দেশে নদী-খাল রক্ষায় কাজ করছে। মিরকাদিমের নয়নের খালের ক্ষেত্রেও একইভাবে পরিকল্পিত উদ্যোগ নেয়া হবে। স্থানীয়দের সহযোগিতা ছাড়া এ কাজ সফল হবে না বলে তিনি উল্লেখ করেছেন।
পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রী বলেন, খাল, নদী ও জলাশয় রাষ্ট্রের সম্পদ। এগুলো কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর দখলে থাকার সুযোগ নেই। দীর্ঘদিন ধরে নয়নের খাল যেভাবে দখল ও দূষণের শিকার হয়েছে, তা অত্যন্ত দুঃখজনক। এই অবস্থা কোনোভাবেই মেনে নেয়া যায় না। তিনি আরও বলেন, যারা অবৈধভাবে খাল দখল করেছে, তাদের বিরুদ্ধে তালিকা করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে। উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হবে। খালের প্রকৃত সীমানা নির্ধারণ করে দখলমুক্ত করে গাইড লাইন করে দেয়া হবে। পুনঃখননের মাধ্যমে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনার কাজ আজ থেকেই শুরু হবে।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, আমি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় প্রশাসনকে বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখার নির্দেশনা দেব। খাল উদ্ধার শুধু একটি উন্নয়ন প্রকল্প নয়, এটি পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের বিষয়। খাল দখল হয়ে গেলে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়, পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা ব্যাহত হয়, পরিবেশ দূষিত হয় এবং মানুষের জীবনযাত্রা দুর্বিষহ হয়ে ওঠে। তাই নয়নের খাল পুনরুদ্ধারে প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ নেয়া হবে।
অন্যদিকে, কেউ যেন পুনরায় নতুন করে খাল দখল করতে না পারে সে বিষয়েও নজরদারি জোরদার করার কথা জানিয়েছেন মুন্সিগঞ্জ-৩ আসনের স্থানীয় সংসদ সদস্য মো. কামরুজ্জামান রতন। তিনি বলেন, বছরের পর বছর প্রভাবশালীরা খালের জায়গা দখল করে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, গরুর খামার ও বসতবাড়ি নির্মাণ করেছেন। এছাড়া প্রতিদিন ময়লা-আবর্জনা ফেলায় খালটি প্রায় নর্দমায় পরিণত হয়েছে।
পরিদর্শনকালে আরও উপস্থিত ছিলেন মুন্সিগঞ্জ জেলা প্রশাসক সৈয়দ আন নূর মহল আশরাফী, পুলিশ সুপার মো. মেনহাজুল আলমসহ স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, খালটির দুই পাড়ে অন্তত প্রায় ৫০ হাজার মানুষের বসবাস। বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা, দুর্গন্ধ, মশার উপদ্রব ও অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে দুর্ভোগ চরমে পৌঁছে। এক সময় ৩৫ থেকে ৪০ ফুট প্রশস্ত খালটির বর্তমানে কোথাও ৫ থেকে ১০ ফুটে নেমে এসেছে, আবার কোথাও খালের অস্তিত্বই বিলীন হয়ে গেছে। খালটি দখলমুক্ত ও পুনঃখনন করা হলে এলাকার পরিবেশের উন্নতি হবে ও দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান ঘটবে।
ডেল্টা টাইমস্/আইইউ