প্রকাশ: বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬, ১১:৫৬ এএম (ভিজিট : ১৭৪)

ফেনীকে আকস্মিক বন্যার ভয়াবহতা থেকে স্থায়ীভাবে রক্ষায় ১ হাজার ৫৪২ কোটি টাকার একটি মেগা প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। এ খবরে বন্যাপ্রবণ ফেনীর পরশুরাম, ফুলগাজী ও ছাগলনাইয়াসহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় স্বস্তি ও উচ্ছ্বাস দেখা দিয়েছে।
মঙ্গলবার রাজধানীর সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় ‘ফেনী জেলাধীন মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পের পুনর্বাসন (প্রথম পর্যায়)’ শীর্ষক প্রকল্পটির অনুমোদন দেওয়া হয়। বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (বাপাউবো) ২০২৬ সাল থেকে ২০৩১ সালের জুনের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ভারতের ত্রিপুরা থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে প্রতি বছর ফেনীর মুহুরী, কহুয়া ও সিলোনিয়া নদীতীরবর্তী এলাকায় বন্যা ও নদীভাঙনের সৃষ্টি হয়। ২০১২ সালে বন্যা নিয়ন্ত্রণ অবকাঠামো নির্মাণ করা হলেও জলবায়ু পরিবর্তন ও নদীর নাব্যতা-সংকটের কারণে তা বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় পর্যাপ্ত নয়।
বিশেষ করে ২০২৪ সালের ভয়াবহ বন্যায় ফেনীর ছয় উপজেলাই ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং প্রাণহানি ঘটে ২৯ জনের। প্রকল্পের আওতায় ৮৩ দশমিক ৫০ কিলোমিটার নদী ও জলাধার পুনঃখনন, ৬৭ দশমিক ৯২ কিলোমিটার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ পুনর্বাসন ও শক্তিশালীকরণ, ১১ দশমিক ৭৩ কিলোমিটার নদীতীর সংরক্ষণ, একটি আধুনিক হাইড্রোলিক এলিভেটেড ড্যাম নির্মাণ, তিনটি নতুন রেগুলেটর স্থাপন এবং ২৭টি বিদ্যমান সেচ অবকাঠামোর পুনর্বাসন করা হবে।
পরিকল্পনা কমিশনের তথ্যমতে, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে প্রায় ১৪ হাজার ২০৯ কোটি টাকা মূল্যের স্থাবর সম্পত্তি বন্যার ক্ষতি থেকে সুরক্ষিত থাকবে।
পাশাপাশি প্রতিবছর প্রায় সাড়ে তিন লাখ টন অতিরিক্ত শস্য ও মৎস্যসম্পদ রক্ষা করা সম্ভব হবে। এ ছাড়া প্রকল্পের মাধ্যমে প্রত্যক্ষভাবে ২ হাজার ৩৭০ জন এবং পরোক্ষভাবে প্রায় ১৭ হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।
প্রকল্প অনুমোদনের পর স্থানীয়দের মধ্যে আশা দেখা দিয়েছে। পরশুরাম প্রেসক্লাবের সভাপতি এম এ হাসান বলেন, টেকসই ও মানসম্পন্ন বাঁধ নির্মাণ হলে এ অঞ্চল স্থায়ীভাবে বন্যামুক্ত হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। তবে প্রকল্প বাস্তবায়নে কঠোর নজরদারি প্রয়োজন।
ফুলগাজী উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব আবুল হোসেন এবং ফেনী জেলা বিএনপির সদস্যসচিব আলাল উদ্দিন আলাল প্রকল্প অনুমোদনকে ফেনীবাসীর দীর্ঘদিনের দাবির বাস্তবায়ন হিসেবে উল্লেখ করেন। তারা আশা প্রকাশ করেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ভারত থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে সৃষ্ট দুর্ভোগ থেকে মানুষ মুক্তি পাবে।
ফুলগাজী, পরশুরাম ও ছাগলনাইয়ার বন্যাকবলিত এলাকার বাসিন্দারা জানান, প্রতি বছর বাঁধ ভেঙে তাদের ঘরবাড়ি ও ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়। স্থায়ী বাঁধ ও নদীখননের কাজ দ্রুত বাস্তবায়ন হলে তারা দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পাবেন।
মুন্সী রফিকুল আলম মজনু বলেন, এটি ফেনীবাসীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত প্রকল্প। এর গুণগত মান নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সবাই তদারকিতে থাকবেন। মনিরা হক বলেন, প্রকল্প অনুমোদন হওয়ায় তিনি আনন্দিত। জমি অধিগ্রহণের জটিলতা না থাকায় দ্রুত মাঠপর্যায়ে কাজ শুরু করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
ডেল্টা টাইমস/সিআর/এমই