গাইবান্ধার সাঘাটা ও ফুলছড়ি উপজেলার বন্যা ও নদীভাঙনকবলিত এলাকার ৯টি ইউনিয়নের ৪ হাজার ২০০ প্রান্তিক পরিবারের মাঝে ১২০টি গরুর কোরবানির মাংস বিতরণ করা হয়েছে। তিনটি কেন্দ্রে একযোগে এ মাংস বিতরণ কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
গত শুক্রবার (২৯ মে) সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত সাঘাটা উপজেলার মুক্তিনগর ইউনিয়নের ভরতখালীস্থ এসকেএস রিসোর্ট সেন্টার, জিকেএস গাইবান্ধা কার্যালয়, আমদিরপাড়া, জুম্মারবাড়ি ও সাঘাটা এলাকায় এবং ফুলছড়ি উপজেলার উদাখালী ইউনিয়নের বুড়াইল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রাঙ্গণে এসব মাংস বিতরণ করা হয়। ইসলামিক রিলিফ বাংলাদেশের সহায়তায় এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে এসকেএস ফাউন্ডেশন।
মাংস বিতরণের পূর্বে আয়োজিত আলোচনা সভায় এসকেএস ফাউন্ডেশনের ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রামসের উপপরিচালক খন্দকার জাহিদ সরোয়ার সভাপতিত্ব করেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সংসদ সদস্য মো. আব্দুল ওয়ারেছ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফুলছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান, এসকেএস ফাউন্ডেশনের নির্বাহী প্রধান রাসেল আহমেদ লিটন, ইসলামিক রিলিফ বাংলাদেশের প্রতিনিধি এপিও আহসান হাবিব, এসকেএস এন্টারপ্রাইজের হেড অব অপারেশনস আবু সাঈদ সুমন, অধ্যক্ষ ইব্রাহিম আকন্দ সেলিম, ইউপি চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম, কামাল পাশা ও কাবিল উদ্দিন। এছাড়া এসকেএস ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তা আশরাফুল আলম, এসকেএস রিসোর্স সেন্টারের ম্যানেজার মিজানুর রহমান আকন্দ, স্বেচ্ছাসেবক এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
এ সময় ফুলছড়ি উপজেলার গজারিয়া, ফুলছড়ি, উড়িয়া ও উদাখালী ইউনিয়ন এবং সাঘাটা উপজেলার ভরতখালী, সাঘাটা, মুক্তিনগর, জুম্মারবাড়ী ও কামালেরপাড়া ইউনিয়নের তালিকাভুক্ত নারী-পুরুষ সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে মাংস গ্রহণ করেন।
উড়িয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা আনোয়ারা বেগম বলেন, “নদীভাঙনের কারণে আমরা অনেকেই গরিব ও অসহায় হয়ে পড়েছি। গরুর মাংস কিনে খেতে ইচ্ছে করলেও অনেক সময় সামর্থ্য থাকে না।”
দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শহিদুল ইসলাম বলেন, “যাদের কোরবানি দেওয়ার সামর্থ্য নেই, তাদের কাছে গরুর মাংস খাওয়া অনেকটা স্বপ্নের মতো। ঈদের পরের দিন এসকেএস আমাদের কোরবানির মাংস দিয়েছে। পাওয়া মাংস রান্না করে পরিবারের সবাই মিলে খাওয়ার আনন্দই আলাদা।”
সমাপনী বক্তব্যে এসকেএস ফাউন্ডেশনের ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রামসের উপপরিচালক খন্দকার জাহিদ সরোয়ার বলেন, “ঈদের সময় প্রান্তিক পরিবারগুলো যাতে উৎসবমুখর পরিবেশে ঈদের আনন্দ উপভোগ করতে পারে এবং পুষ্টিকর খাবার পায়, সে লক্ষ্যেই এই কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। এ কার্যক্রম শুধু মাংস বিতরণ নয়, বরং যেসব পরিবার সারা বছর গরুর মাংস খেতে পারে না, তাদের পুষ্টি নিশ্চিত করতেও সহায়ক ভূমিকা রাখবে। ভবিষ্যতে এসব পরিবারের সামগ্রিক উন্নয়নে আরও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের পরিকল্পনা রয়েছে।”
ডেল্টা টাইমস/মজিবুল হক ছানা/সিআর