কোটি কোটি টাকা দুর্নীতি করে এখনও স্বপদে বহাল এলজিইডির শেখ নুরুল ইসলাম

পিরোজপুর প্রতিনিধি:

সারাদেশ

সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের নামে কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)-এর একাধিক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে।

2026-05-22T11:16:35+06:00
2026-05-22T11:19:59+06:00
শনিবার, ৩০ মে, ২০২৬, ১৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

কোটি কোটি টাকা দুর্নীতি করে এখনও স্বপদে বহাল এলজিইডির শেখ নুরুল ইসলাম
পিরোজপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশ: শুক্রবার, ২২ মে, ২০২৬, ১১:১৬ এএম  আপডেট: ২২.০৫.২০২৬ ১১:১৯ এএম  (ভিজিট : ৬৪)

সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের নামে কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)-এর একাধিক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। পিরোজপুর জেলার বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে ভুয়া স্কিম ও জাল বিল-ভাউচারের মাধ্যমে সরকারি অর্থ লোপাটের ঘটনায় আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছেন এলজিইডি বরিশাল বিভাগের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী শেখ মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম। গুরুতর এসব অভিযোগের পরও তিনি এখনও স্বপদে বহাল থাকায় জনমনে ক্ষোভ বিরাজ করছে।

দুদক ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, পিরোজপুর জেলার মঠবাড়িয়া, ভান্ডারিয়া, নাজিরপুর ও সদর উপজেলায় বাস্তবায়িত বিভিন্ন পল্লী অবকাঠামো উন্নয়ন ও পুনর্বাসন প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম সংঘটিত হয়েছে। বিশেষ করে IBRP, CAFDARID, PDRIDP ও BDIRWSP প্রকল্পের আওতায় শতাধিক ভুয়া ও কল্পিত স্কিম দেখিয়ে কোটি কোটি টাকা উত্তোলনের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

তদন্তে উঠে এসেছে, ১২৮টি ভুয়া স্কিমের বিপরীতে প্রায় ২৭ কোটি ৭১ লাখ টাকা উত্তোলন করা হয়। এর মধ্যে ভ্যাট ও আয়কর বাদ দিয়ে প্রায় ২০ কোটি ৬৯ লাখ টাকা আত্মসাত করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

এছাড়া ঘূর্ণিঝড় আম্পান ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামীণ সড়ক পুনর্বাসন প্রকল্প (CAFDARID)-এর আওতায় ৬৯টি ভুয়া স্কিম দেখিয়ে প্রায় ২০ কোটি ৬৩ লাখ টাকার বিল উত্তোলন করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, এসব প্রকল্পের অধিকাংশ কাজ বাস্তবে না হলেও কাগজে-কলমে সম্পন্ন দেখিয়ে বিল ছাড় করা হয়।

দুদকের অনুসন্ধান বলছে, এই দুর্নীতির সঙ্গে একটি সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেট জড়িত। সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে ছিলেন অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী শেখ মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম। তার প্রত্যক্ষ মদদে নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আব্দুস সাত্তার হাওলাদার, সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী মো. আরিফুল ইসলামসহ হিসাব ও নিরীক্ষা বিভাগের কয়েকজন কর্মকর্তা সরকারি অর্থ আত্মসাতে অংশ নেন।

তদন্ত সূত্রে আরও জানা গেছে, কর্মকর্তাদের আত্মীয়-স্বজন ও বেনামি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রকল্পের কাজ ভাগিয়ে দেওয়া হয়। অনেক ক্ষেত্রে কোনো পরিমাপ বই (এমবি) ছাড়াই ভুয়া বিল প্রস্তুত ও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, প্রকল্পের বাস্তব অগ্রগতি যাচাই না করেই শেখ নুরুল ইসলাম কোটি কোটি টাকার বিল ছাড়ের অনুমোদন দেন। আত্মসাত হওয়া অর্থের একটি অংশ তার কাছে পৌঁছাত বলেও তদন্তে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ঘটনায় দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়, পিরোজপুর শেখ মোহাম্মদ নুরুল ইসলামসহ ২১ জন কর্মকর্তাকে আসামি করে মামলা দায়ের করেছে। মামলায় দণ্ডবিধির ৪০৯, ৪২০, ১০৯ ও ২০১ ধারাসহ দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

উন্নয়নের নামে সাধারণ মানুষের করের টাকা লুটপাটের ঘটনায় এলাকাজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সচেতন মহল মনে করছে, সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা না গেলে সরকারি উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে জনগণের আস্থা আরও কমে যাবে।


ডেল্টা টাইমস/সিআর/এমই








  এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ