প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:১৭ এএম আপডেট: ০৭.০৪.২০২৬ ১১:৩৮ এএম (ভিজিট : ১৪৮)

পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলার ধামোর ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামে দীর্ঘদিন ধরে আয়রনযুক্ত পানি ব্যবহার করছেন বাসিন্দারা। টিউবওয়েল থাকা সত্ত্বেও বিশুদ্ধ পানির অভাবে অনেকে বিকল্প উৎসের দিকে ঝুঁকছেন, যা জনস্বাস্থ্য নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার ৬ নম্বর ধামোর ইউনিয়নের ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বিভিন্ন গ্রামে দীর্ঘদিন ধরে আয়রনযুক্ত পানি ব্যবহার করে আসছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এসব এলাকার অধিকাংশ টিউবওয়েলের পানিতে আয়রনের মাত্রা বেশি থাকায় তা ব্যবহার নিয়ে ভোগান্তিতে পড়েছেন মানুষ।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, পানিতে প্রতি লিটারে ০.৩ মিলিগ্রাম পর্যন্ত আয়রন গ্রহণযোগ্য। এর বেশি হলে পানির গুণগত মান নষ্ট হয় এবং স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে। স্বল্পমাত্রার আয়রন শরীরের জন্য উপকারী হলেও অতিরিক্ত মাত্রায় তা ক্ষতিকর। দীর্ঘদিন এ ধরনের পানি ব্যবহার করলে স্বাস্থ্য পরীক্ষা প্রয়োজন। আয়রনের মাত্রা বেশি হলে পানি পরিশোধন বা ফিল্টার ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
ধামোর ইউনিয়নের সংরক্ষিত নারী সদস্য শ্রীমতি ময়না রানী বলেন, ‘৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের অধিকাংশ টিউবওয়েলের পানিতে আয়রনের সমস্যা রয়েছে। এ কারণে অনেকেই টিউবওয়েল থাকা সত্ত্বেও পুকুর বা অন্য উৎসের পানি দিয়ে গোসল করছেন। আমি দায়িত্বে থাকার কারণে বিষয়টি সম্পর্কে অবগত আছি।’
৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি সোরবত আলী বলেন, ‘গিরাগাঁও, পশ্চিম গিরাগাঁও, জামাদারপাড়া—এমন কয়েকটি গ্রামের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে আয়রনযুক্ত পানি ব্যবহার করছেন। আমার বাড়ির টিউবওয়েল ৬০ লেয়ারের হওয়ায় পানিতে আয়রন রয়েছে। এই পানি ব্যবহারে কাপড়, এমনকি আমার পাঞ্জাবির রংও নষ্ট হয়ে গেছে।’
জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের পঞ্চগড়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মিনহাজুর রহমান বলেন, সরকারি উদ্যোগে স্থাপিত টিউবওয়েলগুলো সাধারণত ১২০ লেয়ারের বেশি গভীরতায় বসানো হয়, ফলে সেগুলোর পানি আয়রনমুক্ত থাকে। তবে অনেকেই বাজার থেকে কিনে কম গভীরতার (৬০–৭০ লেয়ার) টিউবওয়েল স্থাপন করেন। এ কারণে এসব টিউবওয়েল থেকে আয়রনযুক্ত পানি পাওয়া যায়।
স্থানীয় বাসিন্দারা সমস্যার দ্রুত সমাধানে গভীর নলকূপ স্থাপনসহ কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
ডেল্টা টাইমস/মিজানুর/সিআর/এমই