
পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলায় চলতি বোরো মৌসুমে সেচ পানির কোনো সংকট নেই বলে জানিয়েছে বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিএমডিএ)।
উপজেলায় কৃষি উৎপাদন বাড়াতে এবং সেচ ব্যবস্থাকে আধুনিক ও স্বচ্ছ করতে বিএমডিএ’র উদ্যোগে ৯৩টি লো লিফট পাম্প (এলএলপি) প্রকল্পের আওতায় কৃষকদের মাঝে ফ্রি প্রিপেইড মিটার বিতরণ করা হয়েছে। প্রতিটি মিটারের বাজার মূল্য প্রায় ৪৩ হাজার টাকা।
কর্তৃপক্ষ জানায়, এসব প্রিপেইড মিটারের মাধ্যমে বিদ্যুৎ ব্যবহারে স্বচ্ছতা নিশ্চিত হচ্ছে এবং সেচ খরচ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হচ্ছে। মিটার নষ্ট বা শর্ট সার্কিট হলে তা কর্তৃপক্ষ মেরামত করবে, তবে চুরি হলে কৃষককে নতুন মিটার কিনতে হবে।
সরেজমিনে দেখা যায়, আটোয়ারীতে চলতি বোরো মৌসুমে প্রায় ২ হাজার ৬৯৬ হেক্টর জমিতে নিয়মিত পানি সরবরাহ করা হচ্ছে। ফলে ধানক্ষেতে সেচ নিয়ে কৃষকদের মধ্যে স্বস্তি বিরাজ করছে। অনেক কৃষক জানান, সময়মতো পানি পাওয়ায় এবার ফলন ভালো হওয়ার আশা করছেন তারা।
আটোয়ারী উপজেলা বিএমডিএ’র সহকারী প্রকৌশলী মোঃ মাহাবুব আলম বলেন, শুধু বোরো নয়, বোরো ও আমন—দুই মৌসুম মিলিয়ে উপজেলার মোট ৪ হাজার ৭৭৬ হেক্টর জমিতে সেচ সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। আমরা কৃষকদের নিরবচ্ছিন্ন পানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।
কৃষি সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, আধুনিক সেচ ব্যবস্থাপনা ও প্রিপেইড মিটার ব্যবস্থার ফলে পানির অপচয় কমছে এবং বিদ্যুৎ বিলের হিসাবও সহজ হচ্ছে। এতে কৃষকরা যেমন উপকৃত হচ্ছেন, তেমনি সামগ্রিকভাবে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
ডেল্টা টাইমস্/মোঃ মিজানুর রহমান/সিআর/আইইউ