
স্থানভিত্তিক ধানের জাত ও প্রযুক্তি উদ্ভাবন এবং বিদ্যমান গবেষণাগার উন্নয়ন (এলএসটিডি) প্রকল্পের আওতায় পঞ্চগড়ে কৃষকদের মাঝে কৃষি উপকরণ ও ব্রি উদ্ভাবিত নিড়ানি যন্ত্র বিতরণ করা হয়েছে।
এ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি) স্যাটেলাইট স্টেশন, পঞ্চগড়। কৃষক পর্যায়ে ব্রি উদ্ভাবিত উন্নত ধান জাতের প্রায়োগিক পরীক্ষণ ও মূল্যায়ন কার্যক্রমের অংশ হিসেবে এই সহায়তা প্রদান করা হয়।
অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী কৃষকদের মধ্যে প্রয়োজনীয় সার, কীটনাশক, আগাছানাশক ও সাইনবোর্ড বিতরণ করা হয়। পাশাপাশি কৃষি যান্ত্রিকীকরণের অংশ হিসেবে সহজে চালনাযোগ্য ব্রি নিড়ানি যন্ত্র সরবরাহ করা হয়। সংশ্লিষ্টরা জানান, এ যন্ত্রের মাধ্যমে সারির মাঝের আগাছা দ্রুত ও কার্যকরভাবে দমন করা সম্ভব হবে। এতে রাসায়নিক আগাছানাশকের ব্যবহার কমবে, উৎপাদন ব্যয় হ্রাস পাবে এবং মাটির স্বাস্থ্য সুরক্ষিত থাকবে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ব্রি স্যাটেলাইট স্টেশন, পঞ্চগড়ের প্রধান ও বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. মাসুদ রানা, ব্রির রাইস ফার্মিং ডিভিশনের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা দেলোয়ার হোসেন পায়েল, এলএসটিডি প্রকল্পের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা রিফা তানজিমসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। এছাড়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, পঞ্চগড় সদর-এর উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা হরি নারায়ণ রায় উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, এর আগে কৃষকদের মাঝে ব্রি উদ্ভাবিত উন্নত মানের বীজ সরবরাহ করা হয়। কৃষকরা জানান, বীজের অঙ্কুরোদগম হার অত্যন্ত সন্তোষজনক ছিল এবং রোপিত চারার বৃদ্ধি ভালো হয়েছে। নতুন জাত ও যন্ত্র একসঙ্গে ব্যবহারের সুযোগ পেয়ে তারা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন এবং চলতি মৌসুমে উল্লেখযোগ্য ফলনের আশা ব্যক্ত করেন।
কৃষকরা এলএসটিডি প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ও ব্রি স্যাটেলাইট স্টেশন, পঞ্চগড়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। তাদের মতে, গবেষণাভিত্তিক প্রযুক্তি সরাসরি মাঠপর্যায়ে পৌঁছে দেওয়ার এই উদ্যোগ কৃষকদের আস্থা ও সক্ষমতা বৃদ্ধি করেছে।
সংশ্লিষ্টদের অভিমত, গবেষণা, যান্ত্রিকীকরণ ও পরিবেশবান্ধব ব্যবস্থাপনার সমন্বয়ে পঞ্চগড়ে কৃষির টেকসই উন্নয়নে এলএসটিডি প্রকল্প সময়োপযোগী ও দৃষ্টান্তমূলক পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।