এসকেএস ইন্ রিসোর্ট পেল ‘লিডিং হোটেল ইন নর্থ বেঙ্গল’ সম্মাননা

গাইবান্ধা প্রতিনিধি:

সারাদেশ

বাংলাদেশ ট্রাভেল, ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি অ্যাওয়ার্ড ২০২৫-এ ‘লিডিং হোটেল ইন নর্থ বেঙ্গল’ পুরস্কারে সম্মানিত হলেন এসকেএস ইন্।বৃহস্পতিবার (২৯

2026-01-30T18:58:44+06:00
2026-01-30T18:58:44+06:00
শনিবার, ৩০ মে, ২০২৬, ১৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

এসকেএস ইন্ রিসোর্ট পেল ‘লিডিং হোটেল ইন নর্থ বেঙ্গল’ সম্মাননা
গাইবান্ধা প্রতিনিধি:
প্রকাশ: শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারি, ২০২৬, ৬:৫৮ পিএম   (ভিজিট : ৩৭৬)
বাংলাদেশ ট্রাভেল, ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি অ্যাওয়ার্ড ২০২৫-এ ‘লিডিং হোটেল ইন নর্থ বেঙ্গল’ পুরস্কারে সম্মানিত হলেন এসকেএস ইন্। 

বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) ঢাকার ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে দ্য বাংলাদেশ মনিটর কর্তৃক আয়োজিত জমকালো অনুষ্ঠানে রিসোর্ট চেয়ারম্যানের পক্ষে সম্মাননা ক্রেস্ট ও সার্টিফিকেট গ্রহণ করেন রিসোর্টের জেনারেল ম্যানেজার স্যামুয়েল হিলারী। 

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার-এর পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন এবং পানি সম্পদ তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। 

বেসরকারি খাতে সাহসী পদক্ষেপ নিয়ে ২০১৬ সালে বেসরকারি উদ্যোগে গাইবান্ধা‑সদর উপজেলার রাঁধাকৃষ্ণপুর গ্রামে গ্রামীণ সবুজে ঘেরা সুন্দর পরিবেশে এসকেএস ইন্ প্রতিষ্ঠিত হয়। শুরুতে ‘এসকেএস রাঁধাকৃষ্ণপুর ট্রেনিং সেন্টার’ নামে অভিহিত হওয়া এই প্রতিষ্ঠানটি বিস্তারের সঙ্গে সঙ্গে নাম, পরিসর ও সেবায় পরিবর্তন নেয়ার মাধ্যমে বর্তমানে চার‑তারকা হোটেল এ্যান্ড রিসোর্ট হিসেবে সেবা দিয়ে যাচ্ছে।

প্রায় ১৯.২ একর ভূমির ওপর সুপরিকল্পিত নকশায় নির্মিত এই রিসোর্টটি সবুজ পরিবেশে আধুনিক সুবিধাসমূহের সমন্বয়ে পর্যটকদের আকর্ষণ করছে। এবার জেনে নেয়া যাক কি আছে এই সৌন্দর্যের মেগা পরিকল্পনায়। বিগত দিনে সামান্য চাহিদার মাত্রা নিয়ে শুরু হলেও বর্তমানে ভ্রমণ দর্শনার্থী, দেশি বিদেশী কর্পোরেট অফিস, বিভিন্ন বিদেশি এজেন্সী এবং সরকারি বেসরকারি কর্মকর্তাদের বিচরণ নিরিখেই ফুটিয়ে তোলা হয়েছে এর কলেবর। মেগা প্রকল্পে রয়েছে জরুরি প্রয়োজনে হ্যালিকপ্টার ওঠা নামার জন্য হ্যালি প্যাড, খেলার জন্য বাস্কেট, টেনিস, ব্যাডমিন্টন ও ক্রিকেট, হ্যান্ডবল, ভলিবল এবং ফুটবল মাঠ। আধুনিক রুচিসম্মতভাবে গড়ে তোলা হয়েছে অতিথি অভ্যর্থনা লবি। লবিতে রয়েছে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত টেবিল টেনিস সুবিধা। রুমে অতিথিদের জন্য রাখা হয়েছে কমার্শিয়াল ট্রিটমেন্ট ওয়াটার সাপ্লাই প্ল্যান্ট দ্বারা আয়রণ বিহীন পানি সরবরাহ, বয়স অনুপাতে নির্ধারিত গভীরতা পরিমাপে সুইমিং পুল এবং জীম কর্ণার। থাকছে শিশুদের জন্য গরম জলের আলাদা ওয়াভ পুল। রিসোর্টের মধ্যে চারিদিকে ঘেরা প্রায় ৩৭০ মিটার দৈর্ঘের লেক। লেকের উপর দৃশ্যমান খাগড়াছড়ির ঝুলন্ত সেতুর আদলে গড়া ঝুলন্ত সেতু যা পর্যটকদের মনের খোরাক যোগায়। রিসোর্টের মধ্যে পূর্ব কোণে গড়ে তোলা হয়েছে মিনি চিড়িয়াখানা যেখানে দেখা যায় দেশি বিদেশি রং বেরংয়ের বিভিন্ন প্রজাতির পাখির সমারোহ। এছাড়াও রয়েছে সুন্দরবনের চিত্রা হরিণ, খরগোশ, বন মোরগ এবং ময়ূর। খালে পর্যটকদের জন্য রয়েছে লেকে মাছ শিকারের ব্যবস্থা। ভ্রমণ অতিথিরা সংযুক্তি মুল্যে যে কেউ নৌকায় উঠে অথবা কটেজে বসেই লেকের মাছ শিকার করতে পারবেন। লেকের উপরে সব বয়সের দর্শনার্থীর বেড়ানোর জন্য নৌকা।

এছাড়া ‘প্রেসিডেন্ট কটেজ’ থেকে শুরু করে বাগী পরিবহন, ২৪ ঘন্টার রেস্টুরেন্টে থাকছে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ক্যাফে বার, বাংলা‑চাইনিজ রেস্টুরেন্ট, জুস বার ও বারবিকিউ সুবিধা, মাল্টিমিডিয়া সিস্টেমসহ কনফারেন্স হল, শিশুদের খেলার কর্ণার, দৃশ্যমান রয়েছে বিভিন্ন রংয়ের আলোকসজ্জা দিয়ে জল ফোয়ারা ও কৃত্রিম ঝর্ণা। বয়স্ক ও শিশুদের জন্য পুকুর পাড়ে নিরাপত্তা বেষ্টিত দোলনা। আবাসন সুবিধার ক্ষেত্রে ফ্যামিলি কটেজ, কাপল বেড সমৃদ্ধ ডিলাক্স রুম এবং সিঙ্গেল ও ডাবল রুমের ওয়াটার কটেজ। ফ্রি ওয়াইফাই সুবিধা এবং ডিটিএইচ সংযোগের মাধ্যমে স্মার্ট এলইডি টিভি দেখার সুবিধা। সরকারি বিদ্যুৎ সুবিধার পাশাপাশি নিজস্ব জেনারেটর সুবিধা। অতিথিদের মনের চাহিদা নিরিখে উত্তরাঞ্চলের ভাওয়াইয়া, পল্লীগীতি, লালনগীতিসহ স্থানীয় লোকোজ সংগীতের বাংলা ঢোল বাজনায় বাউল গান। 

প্রতিদিন অতিথি দর্শকদের মনে আনন্দ দানে সন্ধ্যা থেকে মধ্য রাত পর্যন্ত চলে খোলা লোক সংগীতের আসর। অতিথিদের গাড়ী পার্কিংয়ের সুবিধায় রয়েছে নিরাপদ মোটর গ্যারেজ। ভ্রমণ পিপাষু মানব মনের চাহিদার কথা ভেবেই নিরব নিস্তব্ধতায় দেশি বিদেশি নানা প্রজাতির ফল ও ফুলের গাছের সমারোহে ফুটিয়ে উঠছে এসকএস ইন্ এর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য। ইতোমধ্যে রিসোর্টে গড়ে উঠেছে বাবুইসহ নানান জাতের পাখির অভয়ারণ্য। সন্ধ্যার সুর্যাস্তের আলোতে পাখির কিচির মিচির শব্দ মনে আবেগের দোলা দেয়। নিঝুম রাত্রি পেরিয়ে ভোরের আলো ফুটতেই পাখির ডাকে ঘুম ভাঙ্গানোর অপরূপ মুহূর্ত মনে যেন উৎফুল্লতা ও উষ্ণতা সৃষ্টি করে। মনো মুগ্ধতায় দর্শনার্থী অতিথির ভাষায় এ যেনো বিন্দুর মাঝে সিন্দুর দর্শন।  

অভ্যন্তরীণ পর্যটন শিল্পে সরকারিভাবে বরাবরই আমরা সীমাবদ্ধতার কথা শুনতে অভ্যস্ত। সীমাবদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে অনেক প্রতিষ্ঠান/ব্যক্তির আর্থিক সামর্থ থাকলেও এমন উদ্যোগ নিতে সাহস করে না কেউ। এমন অবস্থার মধ্যেও এসকেএস ইন্ গাইবান্ধা জেলার পরিচিতিকে একধাপ এগিয়ে নেয়ার পাশাপাশি সৃষ্টি করেছে কিছু পরিবারের কর্মসংস্থান। সময়ের সাথে মানুষের রুচির পরিবর্তনকেও নাড়া দিয়েছে। এই সকল বিবেচনায় বৈচিত্র্যপূর্ণ বেসরকারি উদ্যোগকে স্বাগত জানালে উৎসাহের বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে উদ্যোক্তাদের মনে। দ্য বাংলাদেশ মনিটর কর্তৃক আয়োজিত এই সম্মাননা নিঃসন্দেহে জেলার ঐতিহ্য এবং উন্নয়নের অগ্রযাত্রাকে একধাপ এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে অনন্য ভুমিকা রাখবে বলে পর্যটক এবং এলাকাবাসীর প্রত্যাশা।


ডেল্টা টাইমস্/মোঃ মজিবুল হক ( ছানা)/আইইউ









  এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ