প্রকাশ: সোমবার, ৬ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:১০ পিএম (ভিজিট : ৭)

সংগৃহীত ছবি
পঞ্চগড় জেলা শহরের ধাক্কামারা ও আশপাশের এলাকায় টানা ২৪ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। দীর্ঘসময় বিদ্যুৎহীন থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন প্রায় ১৫ হাজার মানুষ।
এর প্রতিবাদে সোমবার (৬ এপ্রিল) ঢাকা-পঞ্চগড় জাতীয় মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী।
দুপুর দেড়টার দিকে শহরের পুরাতন পঞ্চগড়ের চৌরঙ্গী মোড় ও মিলগেট এলাকায় লাঠিসোটা নিয়ে সড়কে অবস্থান নেন কয়েকশ মানুষ। এতে মহাসড়কের দুই পাশে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে জেলা প্রশাসন, পুলিশ ও বিদ্যুৎ বিভাগের (নেসকো) আশ্বাসে অবরোধ তুলে নেন আন্দোলনকারীরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত রোববার (৫ এপ্রিল) সকাল থেকেই নেসকোর ধাক্কামারা বিসিক ও কমলাপুর ফিডারের লাইনে বিভ্রাট দেখা দিচ্ছিল। বিকেলে ধাক্কামারা এলাকায় বিদ্যুতের খুঁটিতে উঠে মেরামত কাজ করার সময় শাহীন নামে এক লাইনম্যান বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যান। ওই দুর্ঘটনার পর থেকেই দুই ফিডারের আওতায় থাকা এলাকাগুলোয় বিদ্যুৎ সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়।
টানা একদিন বিদ্যুৎ না থাকায় বাসাবাড়ি, দোকানপাট ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে স্থবিরতা নেমে এসেছে। বিশেষ করে পানি সংকটে মসজিদ ও বাসাবাড়িতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে বাসিন্দাদের।
অবরোধে অংশ নেওয়া স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেন, বিদ্যুৎ বিভাগের চরম অবহেলার কারণে একজন কর্মীর প্রাণ গেছে। এখন সেই দায় সাধারণ মানুষের ওপর চাপিয়ে দিয়ে ২৪ ঘণ্টার বেশি সময় বিদ্যুৎ বন্ধ রাখা হয়েছে।
বিক্ষোভকারীরা বলেন, বিদ্যুৎ না থাকায় বাড়িতে থাকা যাচ্ছে না, মসজিদে পানি নেই। কর্তৃপক্ষের গাফিলতির কারণেই এই ভোগান্তি। দ্রুত সমাধান না হলে আমরা আরও কঠোর আন্দোলনে যেতে বাধ্য হব।
নেসকোর নির্বাহী প্রকৌশলী সত্যজিৎ দেব শর্মা সংবাদমাধ্যমকে জানান, যান্ত্রিক ত্রুটি ও দুর্ঘটনার কারণে সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে তাদের কর্মীরা নিরলস কাজ করছেন।
অন্যদিকে, পঞ্চগড় পল্লী বিদ্যুতের ডিজিএম মাজহারুল আলম বলেন, 'আমাদের লাইনে কোনো সমস্যা নেই। অবরোধের পর নেসকো আমাদের কাছে কারিগরি সহায়তা চেয়েছিল। আমরা তাৎক্ষণিকভাবে লোক পাঠিয়েছি। সমস্যাটি মূলত নেসকোর।'
বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত বিদ্যুৎ সংযোগ চালুর সুনির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি পাওয়ার পর ৪ ঘণ্টা পর মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। তবে দ্রুত সমাধান না হলে আবারও রাজপথে নামার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন এলাকাবাসী।
ডেল্টা টাইমস্/আইইউ