শ্রমিকদের আন্দোলনে সহিংসতা ও পুলিশের অতিরিক্ত বল প্রয়োগের তদন্ত দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক:

জাতীয়

পোশাক শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি ও অধিকার আদায়ের দাবির প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়ে আন্দোলন ঘিরে সংঘটিত সহিংসতা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ

2026-11-05T11:19:33+06:00
2026-11-05T11:19:33+06:00
বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর, ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩

শ্রমিকদের আন্দোলনে সহিংসতা ও পুলিশের অতিরিক্ত বল প্রয়োগের তদন্ত দাবি
নিজস্ব প্রতিবেদক:
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬, ১১:১৯ এএম   (ভিজিট : ১১)

পোশাক শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি ও অধিকার আদায়ের দাবির প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়ে আন্দোলন ঘিরে সংঘটিত সহিংসতা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অতিরিক্ত বল প্রয়োগের অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছে জাতীয় মানবাধিকার পরিষদ।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) জাতীয় মানবাধিকার পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যাপক এ এস এম মোস্তফা কামাল ও মহাসচিব অ্যাডভোকেট গোলাম কিবরিয়ার সই করা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ দাবি জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দেশের বিভিন্ন স্থানে গত কয়েকদিন ধরে গার্মেন্টস শ্রমিকদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধি ও ন্যূনতম মজুরি পুনর্নির্ধারণের দাবিতে চলমান আন্দোলন, সংঘর্ষ, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ এবং এসব ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে জাতীয় মানবাধিকার পরিষদ গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছে।

এতে বলা হয়, দেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি তৈরি পোশাকশিল্পের শ্রমিকরা দীর্ঘদিন ধরে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, বাড়িভাড়া, চিকিৎসা ব্যয় ও দৈনন্দিন জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান খরচের চাপে কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি। এ পরিস্থিতিতে শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি, নিরাপদ ও মানবিক কর্মপরিবেশ এবং মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপনের দাবি সম্পূর্ণ যৌক্তিক। যারা দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে নিরলস পরিশ্রম করছেন, তাদের ন্যায্য পাওনা ও মানবিক জীবন নিশ্চিত করা রাষ্ট্র ও মালিকপক্ষের দায়িত্ব।

জাতীয় মানবাধিকার পরিষদ শ্রমিকদের এসব ন্যায্য দাবির প্রতি পূর্ণ সংহতি ও সমর্থন জানিয়ে সরকার ও সংশ্লিষ্ট মালিকপক্ষকে দ্রুত আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলা হয়, শ্রমিকদের ন্যায্য আন্দোলনের সুযোগ নিয়ে কিছু স্বার্থান্বেষী মহল পরিকল্পিতভাবে বিশৃঙ্খলা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ, সড়ক অবরোধ ও জনদুর্ভোগ সৃষ্টির অপচেষ্টা চালাচ্ছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই শ্রমিকদের অধিকার আদায়ের আন্দোলনের অংশ হতে পারে না। বরং এসব ঘটনার কারণে শ্রমিকদের প্রকৃত দাবি ও আন্দোলনের যৌক্তিকতা প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

অন্যদিকে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের নামে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কোনো কোনো সদস্যের অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ, অসংযত আচরণ এবং মানবাধিকারবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগও অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করা হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, রাষ্ট্রীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রধান দায়িত্ব জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। এ দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে কোনো অবস্থাতেই অপ্রয়োজনীয় বলপ্রয়োগ, ভয়ভীতি প্রদর্শন কিংবা বেআইনি আচরণ গ্রহণযোগ্য নয়। বিশেষ করে নারী শ্রমিকসহ সাধারণ শ্রমিকদের নিরাপত্তা, শারীরিক সুরক্ষা ও মানবিক মর্যাদা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের সাংবিধানিক ও আইনগত দায়িত্ব।

জাতীয় মানবাধিকার পরিষদ মনে করে, শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা, শিল্পকারখানার নিরাপত্তা, জননিরাপত্তা ও মানবাধিকার—এগুলো পরস্পরের পরিপূরক। একটির অজুহাতে অন্যটি বিসর্জন দেওয়ার সুযোগ নেই। শ্রমিকদের অধিকার আদায়ের আন্দোলন যেমন শান্তিপূর্ণ ও নিয়মতান্ত্রিক হওয়া প্রয়োজন, তেমনই রাষ্ট্রীয় বাহিনীর প্রতিটি পদক্ষেপও হতে হবে আইনানুগ, সংযত, আনুপাতিক ও মানবাধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল।

বিজ্ঞপ্তিতে সরকার, শ্রমিক সংগঠন, মালিকপক্ষ এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি দায়িত্বশীল, সংযত ও মানবিক ভূমিকা পালনের আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে আন্দোলন ঘিরে সংঘটিত সহিংসতা এবং পুলিশি বাড়াবাড়ির অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন ও দায়ীদের জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।








  এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ