প্রকাশ: বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ৬:৫১ পিএম আপডেট: ০৪.১১.২০২৬ ৭:০৩ পিএম (ভিজিট : ৩)

পোশাকশ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে চলমান আন্দোলনের নামে একটি পক্ষ অশান্তি ও সহিংসতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, চলমান ঘটনাকে শ্রমিক আন্দোলন বলা যায় না। শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি পূরণে সরকার আন্তরিক। তবে আন্দোলনের নামে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর যানবাহনে হামলা, অগ্নিসংযোগ ও সহিংসতা কঠোর হাতে দমন করা হবে। একই সঙ্গে প্রয়োজনের অতিরিক্ত বল প্রয়োগ না করতে বাহিনীকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (৪ নভেম্বর) সচিবালয়ে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ে সাইবার সুরক্ষা আইন-২০২৬ সংশোধনের খসড়া পর্যালোচনাসংক্রান্ত সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, পোশাকশ্রমিকদের দাবি ছিল নতুন করে নিম্নতম মজুরি নির্ধারণের জন্য মজুরি বোর্ড গঠন করা। সরকার সেই উদ্যোগ নিয়েছে। শ্রমিক প্রতিনিধির নাম পেতে কিছুটা সময় লাগায় বোর্ড গঠনেও দেরি হয়েছে। বুধবার মজুরি বোর্ডের প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে বোর্ডের কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, মজুরি বোর্ডে মালিক ও শ্রমিক উভয় পক্ষের প্রতিনিধি রয়েছেন। বোর্ডের চেয়ারম্যান একজন জ্যেষ্ঠ বিচারক। তিনি উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে যৌক্তিক মজুরি নির্ধারণ করবেন। এ ক্ষেত্রে অতীতে মজুরি বৃদ্ধির হার, জীবনযাত্রার ব্যয়, মূল্যস্ফীতি, আর্থিক সক্ষমতা এবং মালিক ও শ্রমিক-উভয় পক্ষের যুক্তি বিবেচনায় নেওয়া হবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়েছেন, শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে মজুরি নির্ধারণ করতে হবে। সরকার শ্রমিকবান্ধব ও শিল্পবান্ধব। রপ্তানি বৃদ্ধি, অর্থনীতিকে এগিয়ে নেওয়া এবং কর্মসংস্থান বাড়ানো সরকারের লক্ষ্য। কিন্তু এখন যেসব কর্মকাণ্ড হচ্ছে, সেগুলোর পেছনে কোনো যৌক্তিক দাবি নেই।
তিনি আরও বলেন, শ্রমিক আন্দোলনের নামে শ্রমিক নন, এমন কিছু ব্যক্তি অশান্তি সৃষ্টির চেষ্টা করছেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর যানবাহনে হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটছে। কিছু শিল্পমালিকের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা ও অতীত ভূমিকা নিয়েও তথ্য পাওয়া গেছে। তাদের কেউ কেউ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছেন। এটি পতিত শক্তি ও মাফিয়া শক্তির ষড়যন্ত্রের অংশ কি না, তা-ও বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে। এ ধরনের তৎপরতা কঠোর হাতে দমনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সরকার শ্রমিকদের যেকোনো ন্যায্য দাবি শুনতে প্রস্তুত। এ জন্য নির্ধারিত মন্ত্রণালয় ও সংস্থা রয়েছে। মালিকপক্ষের পাশাপাশি শ্রমিকনেতাদের সঙ্গেও সরকার বৈঠক করেছে। তাদের অনেকেই স্বীকার করেছেন, চলমান সহিংসতা শ্রমিকদের প্রকৃত আন্দোলন নয়। কেউ কেউ শ্রমিকদের ব্যবহার করে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলের চেষ্টা করছেন।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে পরিস্থিতি মোকাবিলায় ধৈর্য ধরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রয়োজনের অতিরিক্ত বল প্রয়োগ না করতে বাহিনীকে বলা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অনেক সদস্য আহত হয়েছেন। তারপরও তারা শ্রমিকদের ওপর বল প্রয়োগ করা থেকে বিরত থেকেছেন। শ্রমিকেরা পরিস্থিতি বিবেচনায় কাজে ফিরে যাবেন এবং শিল্পের উৎপাদন ব্যাহত করবেন না বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
চলমান ঘটনাকে আন্দোলন বলতে চান না উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, আন্দোলনের একটি ইতিবাচক অর্থ রয়েছে। দাবি আদায়ের জন্য আন্দোলনের নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া আছে। শ্রমিকদের দাবি ছিল মজুরি বোর্ড গঠন করা। সেটি হয়েছে এবং বোর্ড কাজ শুরু করেছে। এখন বোর্ডই নিম্নতম মজুরি নির্ধারণ করবে।
নতুন মজুরি ঘোষণা করতে কত দিন লাগতে পারে-এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিষয়টি মজুরি বোর্ডের ওপর নির্ভর করছে। তবে নির্ধারিত সময়ের আগেই মজুরি ঘোষণা করতে বলা হয়েছে। আগামী ১ জানুয়ারি থেকে নতুন মজুরি কার্যকর হওয়ার কথা। এর আগেই সবকিছু বিবেচনা করে মজুরি ঘোষণা করা সম্ভব হলে ভালো হবে।
এদিকে সাংবাদিক ইকবাল সোবহান চৌধুরীকে আটকের বিষয়ে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তিনি আটক হয়েছেন কি না, তা তার জানা নেই। আটক হয়ে থাকলে তার বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে।