আদর্শ, সততা ও আপসহীন রাজনীতির এক বর্ণাঢ্য জীবন

সাখাওয়াত হোসেন শিল্পী

সারাদেশ

একজন একজন আদর্শবান পিতার বিদায়, একটি বর্ণাঢ্য জীবনের গল্প—মরহুম অধ্যাপক আকরাম হোসেন মণ্ডল।আমার বাবা, অধ্যাপক আকরাম হোসেন মণ্ডল,

2026-11-04T10:31:33+06:00
2026-11-04T10:38:52+06:00
বুধবার, ০৪ নভেম্বর, ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩

প্রয়াত অধ্যাপক আকরাম হোসেন মণ্ডল
আদর্শ, সততা ও আপসহীন রাজনীতির এক বর্ণাঢ্য জীবন
সাখাওয়াত হোসেন শিল্পী
প্রকাশ: বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ১০:৩১ এএম  আপডেট: ০৪.১১.২০২৬ ১০:৩৮ এএম  (ভিজিট : ৫)

একজন একজন আদর্শবান পিতার বিদায়, একটি বর্ণাঢ্য জীবনের গল্প—মরহুম অধ্যাপক আকরাম হোসেন মণ্ডল।

আমার বাবা, অধ্যাপক আকরাম হোসেন মণ্ডল, গত রোববার (১ নভেম্বর ২০২৬) রাত ১০টা ৪০ মিনিটে আমাদের ছেড়ে চিরবিদায় নিয়েছেন। তাঁর চলে যাওয়ায় আমাদের পরিবারের যে শূন্যতা তৈরি হয়েছে, তা কোনোদিন পূরণ হওয়ার নয়।

বাবা শুধু আমাদের পিতা ছিলেন না, তিনি ছিলেন আমাদের জীবনের আদর্শ, সাহস, সততা ও শৃঙ্খলার এক অনন্য উদাহরণ। তিনি আমাদের শিখিয়েছেন কীভাবে সততার সঙ্গে, নীতি ও নিয়মানুবর্তিতা মেনে সম্মানের জীবনযাপন করতে হয়।

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর প্রতিষ্ঠাকালীন সময় থেকে তিনি দলের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। দীর্ঘ পাঁচ দশকেরও বেশি রাজনৈতিক জীবনে তিনি ২০১৮ সাল পর্যন্ত হাকিমপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁর জীবনের এত দীর্ঘ সময় একটি রাজনৈতিক দলের আদর্শ ও নীতির প্রতি অবিচল থাকা সত্যিই বিরল এক দৃষ্টান্ত।

তাঁর রাজনৈতিক জীবনের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক ছিল আদর্শের প্রতি আপসহীনতা। জীবদ্দশায় তিনি কখনো দল পরিবর্তন করেননি, দলের নীতি ও আদর্শের বাইরে যাননি এবং কখনো দলের সিদ্ধান্তের বাইরে অবস্থান নেননি। ব্যক্তিগত স্বার্থের চেয়ে দলীয় আদর্শ, শৃঙ্খলা ও সাংগঠনিক আনুগত্যকে তিনি সবসময় গুরুত্ব দিয়েছেন। রাজনীতি তাঁর কাছে শুধু পদ-পদবি কিংবা ক্ষমতার বিষয় ছিল না; বরং ছিল মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং মানুষের জন্য কাজ করার এক দায়িত্ববোধ।

তিনি সাবেক হাকিমপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ছিলেন। মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত দিনাজপুর জেলা বিএনপির উপদেষ্টা এবং হাকিমপুর উপজেলা বিএনপির প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি সবসময় তৃণমূলের নেতাকর্মী, সাধারণ মানুষ, আত্মীয়স্বজন ও বন্ধুদের পাশে থাকার চেষ্টা করেছেন।

একজন আকরাম হোসেন মণ্ডলের জীবন

তিনি সাবেক হাকিমপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ছিলেন। মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত দিনাজপুর জেলা বিএনপির উপদেষ্টা এবং হাকিমপুর উপজেলা বিএনপির প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি সবসময় তৃণমূলের নেতাকর্মী, সাধারণ মানুষ, আত্মীয়স্বজন ও বন্ধুদের পাশে থাকার চেষ্টা করেছেন।

একজন আকরাম হোসেন মণ্ডল তাঁর জীবনের বিশাল এক ক্যানভাস রেখে গেছেন আমাদের সামনে। সেই ক্যানভাসে রয়েছে সততা, সাহস, ত্যাগ, রাজনৈতিক আদর্শ, মানুষের প্রতি ভালোবাসা এবং অসংখ্য মানুষের সঙ্গে তাঁর আত্মিক সম্পর্ক।

উনার মতো হয়ে ওঠা হয়তো আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়, কিন্তু তাঁর রেখে যাওয়া আদর্শ, নীতি, সততা ও মানুষের প্রতি ভালোবাসার কিছু অংশও যদি আমরা নিজেদের জীবনে ধারণ করতে পারি, সেটাই হবে তাঁর প্রতি আমাদের প্রকৃত শ্রদ্ধা।

সন্তান হিসেবে আমরা সত্যিই গর্বিত যে, অধ্যাপক আকরাম হোসেন মণ্ডল আমাদের বাবা ছিলেন।

বাবার অনেক স্বপ্ন ছিল, যার কিছু হয়তো অপূর্ণ রয়ে গেছে। আমরা তাঁর সন্তান ও পরিবারের সদস্যরা সাধ্যমতো সেই স্বপ্নগুলো পূরণ করার চেষ্টা করব। তিনি যেসব মানুষকে ভালোবাসতেন, আমরাও তাঁদের ভালোবাসা ও সম্মান দিয়ে পাশে থাকার চেষ্টা করব, ইনশাআল্লাহ।

জীবনের শেষ বিদায়ে বাবার কাছে আমাদের একটাই ঋণ—তাঁর আদর্শকে বাঁচিয়ে রাখা।

বাবার জীবদ্দশায় কারও প্রতি কোনো ভুলত্রুটি, আচরণগত ত্রুটি কিংবা অনিচ্ছাকৃত কষ্ট দিয়ে থাকলে আমাদের পরিবারের পক্ষ থেকে আন্তরিকভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করছি। সবাই তাঁকে ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।

মহান আল্লাহর দরবারে ফরিয়াদ, তিনি যেন আমার বাবাকে সকল ভুলত্রুটি ক্ষমা করে জান্নাতুল ফেরদৌসের সর্বোচ্চ মাকাম দান করেন।
সবার কাছে আমার বাবার রুহের মাগফিরাত কামনা করছি।

ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।
আল্লাহুম্মা আমিন।

সাখাওয়াত হোসেন শিল্পী
মরহুম অধ্যাপক আকরাম হোসেন মণ্ডলের সন্তান








  এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ